Joy Jugantor | online newspaper

চাকরি দেওয়ার নামে অর্থ আত্মসাৎ,

এবার বরখাস্ত হলেন সেই প্রধান শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম

প্রকাশিত: ২২:০১, ৭ মে ২০২৬

এবার বরখাস্ত হলেন সেই প্রধান শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম

চাকরি দেওয়ার নামে অর্থ আত্মসাৎ এবার বরখাস্ত হলেন সেই প্রধান শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম

 গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার মথুরাপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বিতর্কিত প্রধান শিক্ষক জাহিদুল ইসলামকে অবশেষে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে জেল হাজতে যাওয়ার প্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।গত ২৯ এপ্রিল সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আশরাফুল কবির স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে তাকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ প্রদান করা হয়।ঘটনার বিবরণে জানা যায়, সাঘাটা উপজেলার পূর্ব অনন্তপুর গ্রামের আফজাল হোসেনের দায়ের করা একটি অর্থ আত্মসাৎ মামলায় (মামলা নম্বর- ১১৮/২৫) গত ১১ এপ্রিল জাহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন অর্থাৎ ১২ এপ্রিল বিজ্ঞ আদালত তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো শিক্ষক ফৌজদারি মামলায় জেল হাজতে আটক থাকলে তিনি সাময়িক বরখাস্ত হিসেবে গণ্য হন।

সেই নিয়ম মেনেই উপজেলা প্রশাসন জাহিদুল ইসলামকে গত ১১ এপ্রিল থেকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ জারি করেছে।অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, প্রধান শিক্ষক জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রতারণার জাল অনেক বিস্তৃত। শুধু একটি মামলাই নয়, তার বিরুদ্ধে আরও একাধিক মামলা বর্তমানে আদালতে চলমান রয়েছে। যার মধ্যে সিআর মামলা নং ১৩/২৪, সিআর মামলা নং ৭৪৮/২৪ এবং সিআর মামলা নং ১১/২৫ অন্যতম।অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ের বিভিন্ন পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে তিনি অন্তত ১০ জন ব্যক্তির কাছ থেকে কোটি টাকারও বেশি অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে ভুক্তভোগীরা তাদের টাকা ফেরত পাওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তার কর্মকাণ্ডে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। প্রায় ১৮ দিন কারাভোগের পর গত ২৮ এপ্রিল জাহিদুল ইসলাম জামিনে মুক্তি পান।

ইউএনও স্বাক্ষরিত ওই অফিস আদেশে আরও জানানো হয়েছে, প্রধান শিক্ষকের সাময়িক বরখাস্তকালীন সময়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম যেন ব্যাহত না হয়, সেজন্য দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের তদন্ত প্রতিবেদন ও মতামতের ভিত্তিতে বিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক (সহকারী শিক্ষক, কৃষি) মোছাঃ বিউটি নাসরিনকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। এখন থেকে তিনি নিয়মিত প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।এদিকে জাহিদুল ইসলামের এই বরখাস্তের খবরে ভুক্তভোগী ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। অনেকেই মনে করছেন, একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এর ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।