পাঁচবিবিতে ৪ বছরের শিশুকে মাদকদ্রব্য সেবন ও পরিবারের ওপর হামলার অভিযোগ
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলায় ৪ বছরের এক নিষ্পাপ শিশুকে জোরপূর্বক মাদকদ্রব্য খাওয়ানোর প্রতিবাদ করায় তার পরিবারের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের দাবিতে পাঁচবিবি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আওলাই ইউনিয়নের আব্দুল বাহাদুরপুর গ্রামের বাসিন্দা মোঃ রুহুল আমিনের ৪ বছর বয়সী ছেলে মোঃ মুরসালিন বাড়ির বাইরে অন্যান্য শিশুদের সাথে খেলাধুলা করত। এ সুযোগে একই গ্রামের ১৮ বছর বয়সী মোঃ রাব্বী ও ২৩ বছর বয়সী মোঃ রকি প্রায়শই শিশুটিকে বিভিন্ন কৌশলে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে দিত। শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে বিষয়টি তার মা ও পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয় এবং তারা এর কারণ জানতে পারেন। পরবর্তীতে শিশুটির মা অভিযুক্তদের এ ধরনের জঘন্য ও অমানবিক কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য কঠোরভাবে নিষেধ করেন।
এতে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং রুহুল আমিনের পরিবারের ওপর ক্ষোভ পোষণ করতে থাকে।গত ২৪ অক্টোবর (শনিবার) সন্ধ্যায় শিশু মুরসালিন বাড়ির উঠানে খেলার সময় অভিযুক্ত রাব্বী ও রকি পুনরায় তাকে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাওয়ানোর চেষ্টা করে। বিষয়টি শিশুটির মা দেখতে পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের বাধা দেন। এর জেরে অভিযুক্তরা দলবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র ও বাঁশের লাঠি নিয়ে রুহুল আমিনের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে। এ সময় হামলাকারীরা রুহুল আমিনের স্ত্রী ও তার দুই কন্যাসন্তানকে এলোপাতাড়ি মারধর করে বেদনাদায়ক ফুলা জখম করে। হামলাকারীরা ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এছাড়াও ঘরে থাকা আলমারি ভেঙে নগদ ২ লাখ টাকা এবং পরিবারের সদস্যদের পরিহিত স্বর্ণালংকার জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের আত্মচিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের উদ্ধার করে পাঁচবিবি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।পরবর্তীতে এই নৃশংস ও ন্যক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত প্রতিকার চেয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।অভিযোগ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তি মোঃ আব্দুল কাদের বলেন, দুপক্ষের তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে মারামারি হয়েছে। তবে স্বর্ণালংকার ও টাকা নেওয়ার যে কথা বলা হচ্ছে, সেরকম কোন ঘটনা ঘটেনি; এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।উক্ত ঘটনায় পাঁচবিবি উপজেলার নন্দী গ্রাম পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই মোঃ আসাদুজ্জামান জানান, "এ বিষয়ে আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করতে উভয় পক্ষের সাথে কথা বলে অতিদ্রুতই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
