Joy Jugantor | online newspaper

ইউনিয়ন পরিষদে  এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে

মারপিট ও আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৮:৫৬, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

মারপিট ও আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

ইউনিয়ন পরিষদে  এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে মারপিট ও আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

নওগাঁর মান্দায় ইউনিয়ন পরিষদে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে আটকে রেখে মারধর ও আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন গ্রামপুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রতিবাদে ইউনিয়ন পরিষদ ঘেরাও করে চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন, সচিব মিজানুর রহমান ও গ্রামপুলিশ সদস্যদের কয়েক ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন স্থানীয়রা। এ সময় অভিযুক্ত গ্রামপুলিশ সদস্যদের চাকরিচ্যুতির দাবিও ওঠে। পরে পুলিশ গিয়ে অবরুদ্ধ ব্যক্তিদের উদ্ধার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে মান্দা সদর ইউনিয়ন পরিষদে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ইমাম হোসেন জয় (২৪) উপজেলার সাহাপুর মণ্ডলপাড়া গ্রামের আব্দুল জব্বার মণ্ডলের ছেলে। তিনি বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেল ৩টার দিকে মোটরসাইকেলে বোর্ডঘরের রাস্তা দিয়ে ফেরিঘাটের দিকে যাচ্ছিলেন জয়। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসছিলেন ইউনিয়ন পরিষদের গ্রামপুলিশ সদস্য নাজমুল ও ফিরোজ। মোটরসাইকেলকে সাইড দেওয়া নিয়ে তাঁদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।

একপর্যায়ে ওই দুই গ্রামপুলিশ সদস্য তাঁকে গালিগালাজ করে চলে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।পরে ব্যক্তিগত কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে গালিগালাজের কারণ জানতে চান জয়। এ সময় নাজমুল, ফিরোজ, মোস্তাফিজুর ও মাইনুরসহ কয়েকজন গ্রামপুলিশ সদস্য তাঁকে আটকে রেখে মারধর করেন এবং তাঁর আইফোন ছিনিয়ে নেন বলে অভিযোগ ওঠে।অভিযোগ অনুযায়ী, মারধর ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার দৃশ্য ইউনিয়ন পরিষদের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে।এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন ইউনিয়ন পরিষদে জড়ো হন। একপর্যায়ে তাঁরা চেয়ারম্যান তোফাজ্জাল হোসেন, ইউপি সচিব ও গ্রামপুলিশ সদস্যদের অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেন।

এ সময় অভিযুক্ত গ্রামপুলিশ সদস্যদের চাকরিচ্যুতির দাবি জানান বিক্ষুব্ধরা।খবর পেয়ে মান্দা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আলেফ উদ্দিন পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে অবরুদ্ধ ব্যক্তিদের উদ্ধার করেন। আহত শিক্ষার্থী জয়কে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।অভিযোগের বিষয়ে জানতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোফাজ্জাল হোসেনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফজাল হোসেন বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।