Joy Jugantor | online newspaper

সাপাহারে ৮৩ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩ মাস ধরে বিকল ইন্টারনেট সংযোগ

নওগাঁ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৯:০০, ৮ অক্টোবর ২০২৬

সাপাহারে ৮৩ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩ মাস ধরে বিকল ইন্টারনেট সংযোগ

সাপাহারে ৮৩ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩ মাস ধরে বিকল ইন্টারনেট সংযোগ

নওগাঁর সাপাহার উপজেলায় ৮৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় তিন মাস ধরে ইন্টারনেট সংযোগ বিকল হয়ে আছে। এতে অনলাইন হাজিরা ও দাপ্তরিক যোগাযোগসহ বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম চরমভাবে ব্যহত হচ্ছে। ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেও কোন কাজেই আসছে না। বাধ্য হয়ে শিক্ষকদের বিকল্প হিসেবে ব্যক্তিগত ডাটা কিনে অনলাইন হাজিরা সহ ইন্টারনেটের অন্য কাজ করতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও নতুন করে স্থানীয় ইন্টারনেট সংযোগও নিতে হয়েছে।উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্যমতে- উপজেলার মোট ৯৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে। এরমধ্যে ১৩টি বিদ্যালয়ে রাউটার ইন্টারনেট সংযোগ এবং ৮৩ টি বিদ্যালয়ে কোম্পানির সাথে চুক্তি ইন্টারনেট সংযোগ। বিদ্যালয়গুলোতে ২০২৫ সালে ইন্টারনেট সংযোগ দেয়া হয়।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে উচ্চগতির ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের ‘ডিজিটাল সংযোগ স্থাপন (ইডিসি)-১ম সংশোধিত’ প্রকল্পের আওতায় এসব বিদ্যালয়ে ফাইবার অপটিক্যাল ক্যাবলের মাধ্যমে ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া হয়। এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তর ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মধ্যে ২০২৫ সালের ১৪ আগস্ট একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ দেয়া হয়। পাশাপাশি সংযোগ ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতির কার্যকারিতা নিশ্চিত করার বিষয়েও সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে। সংযোগ স্থাপনের পর মাসিক ইন্টারনেট বিল উপজেলা শিক্ষা অফিস দিয়ে থাকে। ৮৩ টি বিদ্যালয়ে প্রতি মাসে ১ হাজার টাকা মাসিক বিল দিতে হয়।
এছাড় রাউটারে বিভিন্ন টেলিকম কোম্পানির সিম থাকে। শিক্ষকরা মাসে নির্দিষ্ট পরিমান টাকা রির্চাজ করে। রাউটার দিয়ে ইন্টারনেট ব্যবহার করা বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষা অফিস থেকে প্রধান শিক্ষকদের বিলের অর্থ পরিশোধ করা হয়ে থাকে। কিন্তু তিন মাস থেকে উপজেলার ৮৩ টি বিদ্যালয়ে ইন্টারনেটের সংযোগ থাকলে কোন কাজ হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন শিক্ষকরা।বৈকণ্ঠপুর সরকারি পপ্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফিরোজ কামাল বলেন, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে বিদ্যালয়ে ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া হয়। শুররু থেকেই ইন্টারনেটের গতি খুবই কম। অফিসের কোন ফাইল চালু করা যায় না। গত ৩ মাস থেকে একদম বন্ধ। বাধ্য হয়ে মোবাইল ডাটা(এমবি) কিনতে হচ্ছে। এতে প্রতিমাসে ডাটা কিনতে ২৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা খরচ হচ্ছে।

সাপাহার মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিররুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ের অফিসিয়াল অনেক কাজের জন্য ইন্টারনেট অত্যন্ত জরুরি। আমাদের ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেও প্রায় তিন মাস ধরে কোনো কাজ হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে নতুন করে স্থানীয় ইন্টারনেট সংযোগ নিয়ে দাপ্তরিক কাজ চালাতে হচ্ছে।দমদমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষক সমিতির সভাপতি জাকারিয়া আলম বলেন, ইন্টারনেট সংযোগ পাওয়ার পর অফিসিয়াল কাজের গতি অনেক বেড়ে গিয়েছিল। আমাদের অনলাইনে হাজিরা দিতে হয়। সেই হাজিরা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে দিতে হয়। কিন্তু বর্তমানে সংযোগ থাকলেও কোনো কাজ হচ্ছে না। ইন্টারনেট না থাকায় এখন বাধ্য হয়ে ব্যক্তিগত ফোনে এমবি কিনে কাজ করতে হচ্ছে।

একই অভিযোগ রামাশপ্রম সরকারি প্রাথমিক ও ওড়নপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের পপ্রধান শিক্ষকদের।এ বিষয়ে সাপাহার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ওয়াহেদুল্লাহ প্রামাণিক বলেন, চলতি অর্থবছর থেকে ইন্টারনেট হ-য-ব-র-ল অবস্থা। এ মাসে ইন্টারনেট আরো বেশি খারাপ। বিষয়টি নিয়ে চুক্তির শর্ত অনুযায়ি সঠিক সেবা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় কেন চুক্তি বাতিল করা হবে না কর্তৃপক্ষকে পরপর দুইটি চিঠি দেয়া হয়েছে।

এছাড়া বারং বার ফোন করা হয়েছে। এখনো কার্যকর কোনো সমাধানের ব্যবস্থা নেয়নি। বিলের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি স্কুলে মাসে ১ হাজার টাকা বিল দিতে হয়। ৩-৪ মাস পর পর কোম্পানি তাদের প্যাডে বিল ভাউচার করে আমাদের কাছে দেয়। সে মোতাবেক তাদের অ্যাকাউন্টে আমরা চেকের মাধ্যমে অর্থ দিয়ে থাকি। কিন্তু গত কয়েকমাস থেকে তারা আমাদের কাছে কোন বিলের ভাউচার দাখিল করেনি। যেহেতু আমরা সেবা নিয়ে সন্তুষ্ট না, শিক্ষকরা যদি সে বিষয়ে পপ্রত্যয় দেয় আমরা বিল দিবো না।#