Joy Jugantor | online newspaper

সোনাতলায় রেকর্ডভুক্ত রাস্তা বন্ধের অভিযোগ, মূল সড়কে টিনের বেড়া

সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২০:৩০, ৭ অক্টোবর ২০২৬

সোনাতলায় রেকর্ডভুক্ত রাস্তা বন্ধের অভিযোগ, মূল সড়কে টিনের বেড়া

সোনাতলায় রেকর্ডভুক্ত রাস্তা বন্ধের অভিযোগ, মূল সড়কে টিনের বেড়া

বগুড়ার সোনাতলা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের গড়চৈতন্যপুর গ্রামে মাঠে যাতায়াতের রেকর্ডভুক্ত রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকার অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় ১০০ পরিবার ও কয়েকশ কৃষক ভোগান্তিতে পড়েছেন। দীর্ঘদিনেও বিরোধের স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় ক্ষুব্ধ কয়েকটি পরিবার প্রতিবাদ হিসেবে মূল সড়কের এক পাশে টিনের বেড়া দিয়ে সাময়িক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। ফলে মাঠে যাওয়ার রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ এখন জনসাধারণের চলাচলের সড়কেও গড়িয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, আমজাদ হোসেনের বাড়ি থেকে দক্ষিণের মাঠ পর্যন্ত প্রায় ৮০০ ফুট দীর্ঘ একটি রাস্তা দিয়ে একসময় এলাকার প্রায় সাড়ে ৪০০ মানুষ নিয়মিত চলাচল করতেন। বর্তমানে ওই রাস্তার বিভিন্ন অংশ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রায় ১০০ পরিবারের স্বাভাবিক যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রায় ২০০ একর কৃষিজমির উৎপাদিত ফসল পরিবহনেও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে কৃষকদের।স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কয়েকটি বাড়িঘর নির্মাণের কারণে রেকর্ডভুক্ত ওই রাস্তার অংশবিশেষ বন্ধ হয়ে গেছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে। পৌর প্রশাসনের কাছেও লিখিত আবেদন দেওয়া হয়েছে।

এরপর প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্ভেয়ার দিয়ে তদন্ত করা হলেও বিরোধের স্থায়ী সমাধান হয়নি।আজ বুধবার (৭ অক্টোবর) সরেজমিনে দেখা যায়, এলাকার মূল সড়কের এক পাশে টিনের বেড়া দিয়ে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাঠে যাওয়ার দীর্ঘদিনের পথ বন্ধ থাকার প্রতিবাদে ভুক্তভোগী কয়েকটি পরিবার এ বেড়া দিয়েছে।বেড়া দেওয়া পরিবারের সদস্যদের দাবি, যে জায়গায় টিনের বেড়া দেওয়া হয়েছে, সেটি তাঁদের নিজস্ব জমি। দীর্ঘদিন ধরে গ্রামবাসীর চলাচলের সুবিধার্থে তাঁরা জায়গাটি ব্যবহার করতে দিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁদের মাঠে যাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রতিবাদ হিসেবে সাময়িকভাবে সেখানে টিনের বেড়া দেওয়া হয়েছে।

মাঠে যাতায়াতের রাস্তা নিয়ে চলমান সমস্যার সমাধান হলে বেড়া সরিয়ে নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তাঁরা।পৌর প্রশাসকের কাছে দেওয়া লিখিত আবেদনে এলাকাবাসী নিজেদের সোনাতলা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের স্থায়ী বাসিন্দা উল্লেখ করে রেকর্ডভুক্ত রাস্তা খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। আবেদনে মৃত সোনা মিয়া মোল্লার ছেলে মো. গোলাম মোস্তফা মোল্লা এবং মৃত সরফ উদ্দিনের ছেলে মো. শফিকুল ইসলাম দুলাসহ কয়েকজনের বাড়িঘর নির্মাণের কারণে রেকর্ডভুক্ত রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্ভেয়ার দিয়ে বিষয়টি তদন্ত করা হয়েছে। তবে রাস্তা নিয়ে মামলা চলমান থাকায় এখন পর্যন্ত বিরোধের চূড়ান্ত সমাধান হয়নি।স্থানীয় এক জমির মালিক বলেন, রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। গ্রামবাসীর স্বাক্ষর নিয়ে পৌর প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর বাধ্য হয়েই কয়েকটি পরিবার প্রতিবাদের পথ বেছে নিয়েছে।স্থানীয় এক ভ্যানচালক বলেন, তিনি প্রতিদিন এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করেন।

মূল সড়কে টিনের বেড়া দেওয়ায় এখন তাঁকে বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হবে। এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ হচ্ছে। যেভাবেই হোক দ্রুত সমস্যাটির সমাধান করা প্রয়োজন।উপজেলা সমবায় দলের সভাপতি মাসুদুর রহমান মাসুদ বলেন, বিষয়টি তিনি আগে জানতেন না। তবে ঘটনা যা-ই হোক, জনসাধারণের চলাচলের রাস্তায় এভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে বন্ধ করা ঠিক নয়। অন্য কোনো বিরোধ থাকলে তা আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত।এদিকে রেকর্ডভুক্ত রাস্তার মালিকানা, ব্যবহারাধিকার ও সীমানা নিয়ে বিরোধ থাকলে সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র এবং সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

তাঁদের প্রশ্ন, জায়গাটি যদি সরকারি রেকর্ডে রাস্তা হিসেবে চিহ্নিত থাকে, তাহলে সেটি কীভাবে বন্ধ হলো এবং সেখানে কীভাবে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে।সোনাতলা পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জুয়েল মিয়া বাংলা লেন্সকে বলেন, “এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। সেখানে সার্ভেয়ার দিয়ে তদন্ত করা হয়েছে।

রাস্তা নিয়ে মামলা রয়েছে।”মূল সড়কে টিনের বেড়া দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিষয়টি দেখবেন বলে জানান।স্থানীয়দের প্রত্যাশা, অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্যে বিষয়টি আটকে না রেখে সংশ্লিষ্ট জমির রেকর্ড, খতিয়ান ও নকশার সঙ্গে সরেজমিনের অবস্থান যাচাই করে প্রকৃত রাস্তার সীমানা নির্ধারণ করা হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের চলাচলের পথ কী কারণে বন্ধ হয়েছে এবং মূল সড়কে নতুন করে কেন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে, তা খতিয়ে দেখে দ্রুত স্থায়ী সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন।