Joy Jugantor | online newspaper

বিনা চাষে সরিষার আবাদ করে লাভবান সারিয়াকান্দির কৃষক

সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২১:২৬, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬

বিনা চাষে সরিষার আবাদ করে লাভবান সারিয়াকান্দির কৃষক

প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলায় বিনা চাষে ব্যাপক হারে সরিষার আবাদ হয়েছে। অফ সিজনে পতিত জমিতে অতিরিক্ত এই ফসল ঘরে তুলতে প্রস্তুত কৃষকরা। বাজারে সরিষার ভালো দামের খবরে তাদের মুখে হাসি ফুটেছে। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে ফলনও হয়েছে সন্তোষজনক।সারিয়াকান্দি উপজেলার বেশকিছু জমিতে কৃষকরা বছরে মাত্র দুই মৌসুম—বোরো ও আমন ধানের চাষ করেন। এই দুই মৌসুমের মধ্যবর্তী প্রায় তিন মাস জমিগুলো সাধারণত পতিত পড়ে থাকে। তবে গত কয়েক বছর ধরে কৃষকরা এসব জমি পতিত না রেখে বিনা চাষে সরিষার আবাদ করছেন। এতে স্বল্প খরচে বাড়তি ফসল উৎপাদন করে তারা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।

কৃষকদের অধিকাংশই জমিতে কোনো চাষ না দিয়েই সরিষা বপন করেছেন। কেউ কেউ এক-দু’টি চাষ দিয়ে আবাদ করেছেন। কয়েকদিন আগে বপন করা সরিষা গাছ এখন বেশ বড় হয়েছে এবং তাতে ভালোভাবে দানা ধরেছে। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই ফসল পরিপক্ব হবে। এরপর কৃষকরা জমি থেকে সরিষা উত্তোলন ও মাড়াই কাজে ব্যস্ত সময় পার করবেন।বর্তমানে বাজারে প্রতিমণ সরিষা ৩ হাজার ৮০০ টাকা থেকে ৪ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ভালো দামের কারণে কৃষকদের মধ্যে উৎসাহ বেড়েছে।উপজেলার নারচী ইউনিয়নের টিওরপাড়া গ্রামের কৃষক জুল্লু মিয়া (৫৫) বলেন, “গত বছর ৩ বিঘা জমিতে সরিষার আবাদ করে ১৮ মণ ফলন পেয়েছিলাম। ভালো দামে বিক্রি করে লাভ হয়েছিল। এ বছর ৪ বিঘা জমিতে আবাদ করেছি। আল্লাহর রহমতে ফলনও ভালো হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যেই সরিষা কাটা শুরু করবো।”

সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, গত বছর উপজেলায় ৩ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছিল। চলতি বছর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৫০০ হেক্টর, যার বিপরীতে ইতোমধ্যে ৩ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে সরিষা উৎপাদন হয়েছে। গত বছর হেক্টরপ্রতি গড় উৎপাদন ছিল ১ দশমিক ৬ মেট্রিক টন। সাধারণত বপনের ৮০ থেকে ৮৫ দিনের মধ্যেই সরিষা সংগ্রহযোগ্য হয়।সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, “কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী গত কয়েক বছর ধরে কৃষকরা বিনা চাষে সরিষার আবাদ করে ভালো লাভ করছেন। সরিষা থেকে যেমন তেল ও খৈল পাওয়া যায়, তেমনি শুকনো গাছ জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। এ ধরনের ফসলের আবাদ বাড়লে সয়াবিন তেলের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং খাঁটি সরিষার তেল ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকিও কমবে।”