ছক্কার সিংহাসনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ
দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ২৩ বল বাকি থাকতেই ৯ উইকেটের পরাজয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের সীমাবদ্ধতা উন্মোচন করেছে। বিশেষ করে বোলিং আক্রমণের ঘাটতি স্পষ্ট হয়েছে। কিন্তু তাদের ক্রিকেট দর্শন বদলায়নি। ছক্কা মারাই তাদের পরিচয়। আর সেই দর্শন এখনো অটুট। আহমেদাবাদে সুপার এইটের ম্যাচে চলতি আসরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৬৩তম ছক্কা হাঁকান রোমারিও শেফার্ড। সেই এক ছক্কাতেই ইতিহাস। টি-২০ বিশ্বকাপের এক আসরে কোনো দলের সর্বোচ্চ ছক্কার আগের রেকর্ড ভেঙে দেয় তারা। আগের রেকর্ডটিও ছিল তাদেরই। ২০২৪ আসরে ৬২টি ছক্কা মেরেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এবার তারা পৌঁছেছে ৬৬-এ। সামনে এখনো অন্তত একটি ম্যাচ বাকি। সব মিলিয়ে টি-২০ বিশ্বকাপে সর্বাধিক ছক্কার সেরা ১১ অভিযানের তালিকায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ আছে চারবার।
এই আসরে ৬৬টি। ২০২৪ সালে ৬২টি। শিরোপাজয়ী ২০১২ সালে ৪৯টি। ২০১৬ সালে ৪৩টি। টি-২০ যুগে তারা শুধু বড় ছক্কাবাজ তৈরি করেনি। ছক্কাকে দলগত কৌশলে পরিণত করেছে।২০১৬ সালে যখন ওয়েস্ট ইন্ডিজ দ্বিতীয়বার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয় করল, ক্রিকেটবিশ্ব নতুন করে শিখল দল গঠনের আধুনিক রসায়ন। সেই দলে অধিনায়ক ড্যারেন স্যামিসহ ছিলেন পাঁচজন বিধ্বংসী পেস-অলরাউন্ডার। একাদশে নিয়মিত থাকতেন অন্তত চারজন। এই কৌশলের সবচেয়েকৌতূহলোদ্দীপক চরিত্র ছিলেন খোদ ড্যারেন স্যামি। পরিসংখ্যান দেখলে মনে হতে পারে তিনি দলে প্রায় 'অপ্রয়োজনীয়' ছিলেন। পুরো টুর্নামেন্টের ৬ ম্যাচে ব্যাট করেছেন মাত্র ১৩ বল, আর বল করেছেন মাত্র ৩ ওভার! কিন্তু এই নির্ভার পরিসংখ্যানই ছিল তাদের আসল শক্তি।
স্যামির মূল ভূমিকা ছিল দলের ব্যাটিং গভীরতা আর মনস্তাত্ত্বিক সাহস বাড়ানো। লোয়ার অর্ডারে তার মতো একজন বিগ-হিটার বসে আছেন। এই ভরসাতেই টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা শুরু থেকে নির্ভার হয়ে খেলার লাইসেন্স পেতেন।একই ধাঁচের কার্যকর প্রভাব ছিল কার্লোস ব্র্যাথওয়েটের। পুরো টুর্নামেন্টে তিনি বল করেছিলেন ১৮ ওভার, কিন্তু ব্যাটিংয়ের সুযোগ পাচ্ছিলেন খুব সামান্যই। ৩ ইনিংসে খেলেছিলেন মাত্র ২৮ বল। অথচ ফাইনালে যখন আসল মুহূর্ত এল, ১০ বলে অপরাজিত ৩৪ রানের সেই টর্নেডো ইনিংস খেলে তিনি বুঝিয়ে দিলেন কেন এই 'ডেপথ' জরুরি ছিল। সীমিত সুযোগ। সর্বোচ্চ প্রভাব। ১০ বছর পর স্যামি এখন প্রধান কোচ। দলের কাঠামো একই দর্শনে গড়া। ছয় নম্বর থেকে নয় নম্বর পর্যন্ত অলরাউন্ডার। তিনজন সিমার। একজন স্পিনার। ব্যাটিং গভীর। ছক্কা মারার ঝুঁকি আছে। কিন্তু গভীরতা সেই ঝুঁকিকে ভারসাম্য দেয়। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হেরেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ দেখিয়েছে তাদের বিপজ্জনক রূপ। সামান্য অনুকূল পরিস্থিতি পেলে তারা যে কাউকে চাপে ফেলতে পারে।
