বাঘায় শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত কৃষক ও নিম্ন আয়ের মানুষ
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চরাঞ্চলসহ অন্যান্য এলাকায় চলমান শৈত্যপ্রবাহে সাধারণ মানুষ ও কৃষকরা বিপর্যস্ত হয়েছেন। কনকনে শীতে দিশেহারা হয়ে পড়া নিম্ন আয়ের মানুষরা কাপড়ের অভাবে কাঁপছেন, স্কুল-কলেজসহ জনজীবন ব্যাহত, পাশাপাশি আলু, ধান, পেঁয়াজ, শরিষা, মশুর ও সবজি চাষিরা বড় ধরনের ফসল ক্ষতির মুখে পড়েছেন।গত কয়েকদিন ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহ বেড়ে গেছে। সূর্যের দেখা কমে যাওয়ায় তাপমাত্রা আরও নেমে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে রাজশাহীর সীমান্তবর্তী চরাঞ্চলে। কৃষকরা জানিয়েছেন, শীতজনিত কারণে আমগাছের মুকুল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাঘা উপজেলার কৃষক মাসুদ করিম বলেন, ‘আমগাছে মুকুল আসতে শুরু করেছে। ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ার কারণে পাতা ও মুকুল কালো হয়ে যেতে পারে, যা আম চাষিদের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হবে।’
ফসলের সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ মানুষও শীতের তীব্রতা সামলাতে কষ্ট পাচ্ছেন। ঘন কুয়াশা এবং হিমেল হাওয়ার কারণে নদী সংলগ্ন এলাকায় মানুষ শীতের তীব্রতায় কাপছেন। অনেকেই সকালে ও সন্ধ্যায় খড়কুটা জ্বালিয়ে নিজেদের উষ্ণ রাখছেন।শীতজনিত রোগ-বালাইও বেড়ে গেছে। শিশু ও বয়স্করা ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রধান ডা: আসাদুজ্জামান জানান, ‘শীতজনিত কারনে গত কয়েকদিনে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। বিশেষ করে শিশু এবং বয়স্ক লোকজন বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। এদের অনেকেই ঠান্ডাজনিত ডায়রিয়া এবং শ্বাসকষ্ট সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে আসছেন।’
কৃষি অফিসার শফিউল্লাহ সুলতান জনি জানিয়েছেন, শৈত্যপ্রবাহের কারণে ফসল ক্ষতি হওয়াটা স্বাভাবিক, তবে এই পরিস্থিতি স্থায়ী হবে না। কৃষকদের ফসল রক্ষায় প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।বাঘা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাম্মি আক্তার জানিয়েছেন, সরকারীভাবে ২ হাজার ৭ শত কম্বল পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ২১০০টি কম্বল ইউনিয়ন পর্যায়ে বিতরণ করা হয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, কম্বলের সংখ্যা অপ্রতুল হওয়ায় দরিদ্র মানুষ শীতে কাঁপছে এবং সরকারের আরও ত্রাণ প্রয়োজন।
