Joy Jugantor | online newspaper

আজ পপসম্রাট আজম খানের জন্মদিন

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৪:০১, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আজ পপসম্রাট আজম খানের জন্মদিন

আজ পপসম্রাট আজম খানের জন্মদিন

বাংলা পপ গানের ইতিহাসে সম্রাট হিসেবে খ্যাত আজম খান। তরুণ প্রজন্মকে স্বপ্ন দেখানো এই কিংবদন্তি শিল্পীর আজ জন্মদিন। ১৯৫০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।বিশেষ এ দিনে তাকে ঘিরে ফিরে আসে অসংখ্য স্মৃতি। একাধারে তিনি পপ গানকে বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। সাধারণ মানুষের কাছেও পৌঁছে দিয়েছেন নতুন ধারার ব্যান্ডসংগীত। পপ গানের ধারা যেন সময়ের সঙ্গে প্রবহমান থাকে, সেই পথও তৈরি করে দিয়ে গেছেন আজম খান। প্রয়াত এ কিংবদন্তি গুণী শিল্পী ২০১১ সালের ৫ জুন মরণব্যাধি ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে মৃত্যুর কাছে হার মানেন।

তিনি দেশবাসীকে কাঁদিয়ে পরপারে চলে যান। আজম খানের শৈশব কেটেছে ঢাকার আজিমপুর ও কমলাপুর এলাকায়। কৈশোরেই ভাষা আন্দোলনের আবহ তার মননে প্রভাব ফেলেছিল। জানালার বাইরে মানুষের মাতৃভাষার দাবিতে আন্দোলন, প্রতিবাদী গান—এসবই তার সংগীতচেতনার ভিত গড়ে দেয়।স্কুলজীবনে বিভিন্ন গান শুনে মনে রাখতেন এবং নিজস্ব ভঙ্গিতে গাওয়ার চেষ্টা করতেন। প্রাতিষ্ঠানিক সংগীতশিক্ষা না থাকলেও শ্রবণ ও চর্চার মধ্য দিয়েই তিনি ধীরে ধীরে গানের জগতে নিজেকে গড়ে তোলেন।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে বন্ধুদের সঙ্গে যুদ্ধে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন আজম খান। পরিবারের সম্মতি নিয়ে ভারতে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেন। মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পেও তার গানের চর্চা চলত; থালা-বাসনই হয়ে উঠত বাদ্যযন্ত্র। সেখানে নতুন গান তৈরি করে সহযোদ্ধাদের উজ্জীবিত করতেন।স্বাধীনতার পর শুরু হয় তার সংগীতজীবনের নতুন অধ্যায়। বিটলস, রোলিং স্টোনসসহ পাশ্চাত্য ব্যান্ডের সংগীত শুনে অনুপ্রাণিত হয়ে বন্ধুদের নিয়ে পপ গান পরিবেশন করতে থাকেন। ধীরে ধীরে পাড়া-মহল্লা পেরিয়ে সারা দেশে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। বঞ্চিত মানুষের জীবন, দেশপ্রেম, সচেতনতা ও তরুণদের প্রেরণাই হয়ে ওঠে তাঁর গানের মূল উপজীব্য।

‘রেললাইনের ওই বস্তিতে’, ‘হাইকোর্টের মাজারে’, ‘এত সুন্দর দুনিয়ায়’, ‘অভিমানী’, ‘অনামিকা’, ‘পাপড়ি’, ‘আলাল ও দুলাল’, ‘আমি যারে চাইরে’, ‘জ্বালা জ্বালা’, ‘ও চাঁদ সুন্দর’সহ অসংখ্য কালজয়ী গান আজও শ্রোতাদের মনে সমানভাবে অনুরণিত হয়।১৯৫০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি জন্ম নেওয়া এই গুণী শিল্পী ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে ২০১১ সালের ৫ জুন মৃত্যুবরণ করেন। তবে তাঁর সৃষ্ট গান ও প্রভাব আজও বাংলা সংগীতে জীবন্ত—যা তাঁকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম স্মরণীয় করে