Joy Jugantor | online newspaper

বন্ধ হলে গেল সদাগর কুরিয়ার সার্ভিস

মেহেরপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৩:৪১, ১০ ডিসেম্বর ২০২৩

আপডেট: ০৩:৫১, ১০ ডিসেম্বর ২০২৩

বন্ধ হলে গেল সদাগর কুরিয়ার সার্ভিস

সদাগর এক্সপ্রেস কুরিয়ার ও পার্সেল সার্ভিসের মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা শাখাটি এখন বন্ধ।

ব্যবসায়িক মন্দা ও গ্রাহকদের কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে না পারায় মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা শাখার কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে সদাগর কুরিয়ার সার্ভিস অ্যান্ড পার্সেল লিমিটেড। এতে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে গ্রাহকদের কন্ডিশন ও এজেন্টের জামানতের টাকা। তবে এজেন্ট বলছেন কোম্পানি চুক্তির তোয়াক্কা না করেই হঠাৎ কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছেন গ্রাহকেরা।

জানা গেছে, সারাদেশে সদাগর কুরিয়ার সার্ভিসের ২২৫টি শাখা রয়েছে। এর মধ্যে গ্রাহকদের কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে না পারায় নীলফামারীর জলঢাকার শাখা, সিরাজগঞ্জের বেলকুচির মুকুন্দগাঁতীর শাখা, মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার শাখা, মাগুরার আরপাড়া শালিখাসহ কয়েকটি ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। এর আগে যশোরের বেনাপোল ও বগুড়ার শাখাটি বন্ধ হয়ে গেছে। আরও বেশ কিছু শাখা তাদের বন্ধ হওয়ার পথে বলে জানা গেছে। 

২০২১ সালে মেহেরপুর জেলা শহরে ব্যবসায়ীক শাখা খোলে সদাগর এক্সপ্রেস কুরিয়ার সার্ভিস অ্যান্ড পার্সেল লিমিটেড। ব্যবসায় প্রসার ঘটাতে জেলার গাংনী উপজেলায় একটি নতুন এজেন্ট দেওয়ার ঘোষণা দেয় সদাগর এক্সপ্রেস লিমিটেড। কোম্পানির শর্ত অনুযায়ী গাংনী পৌরসভার আসাদুজ্জামান আসাদ ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা কোম্পানির কাছে জামানত রেখে কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করেন। এরপর থেকেই শুরু হয় গ্রাহকদের অভিযোগ। গাংনী থেকে মালামাল পেতে গ্রাহকদের অনেকটা বেগ পেতে হতো। এক পর্যায়ে গ্রাহক বিমুখ হয়ে পড়ে সদাগর কুরিয়ার সার্ভিস। এরপর থেকে কোনো রকমে চলে গাংনীর এজেন্ট শাখাটি। 

সম্প্রতি কুরিয়ার সার্ভিসের আউটগোয়িং সেবা চালু রেখে হঠাৎ করেই ইনকামিং সেবাটি বন্ধ করে দেয় প্রতিষ্ঠানটি। এজেন্ট শাখাটি বছর পার হতে না হতেই বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নানান সমালোচনার মুখে পড়েছে সদাগর কুরিয়ার সার্ভিস।

শনিবার (৯ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার দিকে সদাগর এক্সপ্রেস কুরিয়ার সার্ভিস অ্যান্ড পার্সেল লিমিটেড গাংনী উপজেলা এজেন্ট শাখায় গিয়ে দেখা যায় অফিস বন্ধ। তালা বদ্ধ অফিসে নেই কোনো কার্যক্রম।

এ সময় এজেন্ট আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, গত এক সপ্তাহ যাবৎ সব কার্যক্রম আংশিক বন্ধ করে দিয়েছে কোম্পানি। এতে আমার নিজস্ব জামানতের সাড়ে তিন লাখ টাকা ও গ্রাহকদের ১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা কোম্পানির কাছে পাওনা রয়েছে। আমি ঢাকা অফিসে বারবার মোবাইল করলেও আমার মোবাইল ফোন রিসিভ করছে না। কোম্পানির কাছে আমার জামানত ও গ্রাহকদের কন্ডিশনের টাকা ফেরত নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আগের তুলনায় কোম্পানি আমার কমিশন ও গ্রাহকদের কন্ডিশনের টাকা প্রদানে গড়িমসি করায় কমে গেছে গ্রাহকের সংখ্যা। এ বিষয়ে কোম্পানির বিরুদ্ধে জিডি করার প্রস্ততি চলছে বলেও জানান তিনি।

গাংনীর বাঁশবাড়িয়া গ্রামের ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক, রিপন আলী ও গাড়াবাড়িয়া গ্রামের মিল্টন জানান, আমরা সদাগর কুরিয়ার সার্ভিসে মালামাল পাঠাতাম। ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আমাদের মালামাল নিয়ে আসতাম। প্রথম দিকে সেবা ভারো থাকলেও বর্তমানে সেবার মান ভালো নেই। আমাদের পাওনা টাকা আমরা বুঝে নিয়েছি। তবে এক সপ্তাহ যাবৎ সদাগর কুরিয়ারের কার্যক্রম বন্ধের খরব শুনেছি।

সদাগর কুরিয়ার সার্ভিসের ভাড়া বাসার মালিক ফারুক হোসেন বলেন, আমার বড় ছেলে বাপ্পী ম্যানেজার হিসেবে কাজ করছিল। দুই মাস কাজ করার পর সে কাজ ছেড়ে দিয়েছে। তারপর থেকে আমি আর খোঁজ রাখি না। মাসে দুই হাজার টাকা চুক্তি অনুযায়ী ঘর ভাড়া দিয়েছিলাম। এখনও তিন মাসের ঘর ভাড়া পাওয়া যাবে।
 
মেহেরপুর শহর শাখার ম্যানেজার আসলাম হোসেন বলেন, গাংনীতে গ্রাহক সংখ্যা অনেক কম। এ কারণে ওই এজেন্ট সাময়িক বন্ধ করে দিয়েছে কোম্পানি। এর বেশি আমি আর জানি না। 

সদাগর এক্সপ্রেস অ্যান্ড কুরিয়ার সার্ভিস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।