Joy Jugantor | online newspaper

সোনাতলায় জমিতে হালচাষ নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৮

সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৯:২৪, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

সোনাতলায় জমিতে হালচাষ নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৮

সোনাতলায় জমিতে হালচাষ নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৮

বগুড়ার সোনাতলায় বিরোধপূর্ণ জমিতে সরিষা চাষের জন্য হালচাষ করতে গিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষই সোনাতলা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। অভিযোগগুলো মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার সদর ইউনিয়নের কামালেরপাড়া গ্রামের কামালেরপাড়া মৌজার একটি ফসলি জমিতে এ ঘটনা ঘটে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জমিটির মালিকানা ও দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছে। এ নিয়ে আদালতে একাধিক মামলাও বিচারাধীন রয়েছে।

ঘটনার দিন দুপুরে মামুন ও ফজলু মণ্ডলের পক্ষের লোকজন জমিটিতে সরিষা আবাদের উদ্দেশ্যে হালচাষ করতে যান। এ সময় প্রতিপক্ষের শাহআলম খাজা প্রামাণিক (৫৫) আদালতে জমিসংক্রান্ত বিরোধ চলমান থাকায় সেখানে চাষাবাদ না করার অনুরোধ জানান। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে দুই পক্ষের লোকজন আহত হন।আহতদের মধ্যে রয়েছেন কামালেরপাড়া গ্রামের মৃত শমসের আলীর ছেলে শাহআলম খাজা প্রামাণিক (৫৫) ও মৃত মকুবরের ছেলে বোরহান উদ্দিন (৪৮)। অপর পক্ষের আহতরা হলেন নুরুন্নবী বজলু মণ্ডল (৫৮), তাঁর বড় ভাই ফজলু মণ্ডল (৬০), বজলুর ছেলে আপেল মণ্ডল (৪০), ছোট ভাই আব্দুল মোমিন (৫৩), একই গ্রামের মৃত বাচ্চু মণ্ডলের ছেলে গোলাম হোসেন মণ্ডল (৬০) এবং মৃত ছালেক উদ্দিনের ছেলে মামুন (৪২)।আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে সোনাতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

পরে তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়।এ বিষয়ে আহত বজলু মণ্ডল দাবি করেন, জমিটি তাঁরা ক্রয়সূত্রে মালিক হয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন। জমির ওপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে প্রতিপক্ষ আদালতে মামলা করলেও দলিলপত্র ও অন্যান্য নথি পর্যালোচনা করে আদালত তা খারিজ করে দেন। পরে প্রতিপক্ষ উচ্চ আদালতে আপিল করলে আগামী ৬ নভেম্বর শুনানির দিন ধার্য হয়।তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার দিন দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে তাঁরা নিজেদের দখলীয় জমিতে চাষাবাদ করতে গেলে লাজুসহ ১০ থেকে ১২ জন লাঠিসোঁটা নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা করেন। এতে তিনি নিজেসহ তাঁদের পক্ষের কয়েকজন আহত হন।অন্যদিকে, কামালেরপাড়া গ্রামের মৃত রহিম বক্সের ছেলে আব্দুল লতিফ (৬৫) ও শাহারুল লাজু প্রামাণিক জমিটির মালিকানা নিয়ে ভিন্ন দাবি করেছেন। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, তৎকালীন জমিদার বিজলেত লাল বয়াতের কাছ থেকে মৃত শমসের প্রামাণিকের বাবা আকবর প্রামাণিকসহ তিন ভাই কবলাসূত্রে ২ একর ৭৮ শতাংশ জমি পত্তন নেন।

তাঁদের দাবি, সাবেক সিএস ২৩৭ নম্বর দাগে জমিটির মালিকানা থাকলেও ১৯৮৫ সালের আরএস রেকর্ডে ২৭২ নম্বর ডিপি খতিয়ান এবং সাবেক ২৩৭ নম্বর দাগের পরিবর্তে হাল ৪১১ নম্বর দাগে রেকর্ড হওয়াকে কেন্দ্র করে জটিলতার সৃষ্টি হয়।তাঁরা আরও জানান, এ নিয়ে আদালতে মিসকেস চলমান রয়েছে। আদালতের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জমিটির মালিকানা ও দখল নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, কছিম উদ্দিনের ছেলে সালেক উদ্দিন আকন্দ এবং তাঁর ছেলেরা মামুন ও মুকুল জোরপূর্বক জমিটি ভোগদখল করে আসছেন। ঘটনার দিন বজলু ও তাঁর ভাইয়েরা ভাড়াটে লোকজন নিয়ে এসে তাঁদের ওপর হামলা চালান বলেও দাবি করেন তাঁরা।এ বিষয়ে সোনাতলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কবির হোসেন বলেন, জমিসংক্রান্ত বিরোধের ঘটনায় উভয় পক্ষই থানায় এজাহার দিয়েছে। অভিযোগগুলো মামলা হিসেবে রেকর্ড করার প্রস্তুতি চলছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।