দুঃখ প্রকাশ করে চাইলেন সমাধান : সাংবাদিকের মামলা ও গ্রেপ্তার বিষয়ে জানতেন না প্রতিমন্ত্রী
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ইস্যুতে গেল কয়েকদিনে উদ্ভুত পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধানে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। তিনি সাংবাদিকদের নামে মামলা ও গ্রেপ্তার বিষয়ে জানতেন না। কারও ব্যক্তিগত কর্মকান্ডে সমর্থন, অনুমোদন বা নির্দেশনা নেই বলে দাবি করেছেন। মামলার বাদী-বিবাদী সাংবাদিক, তিনি দুপক্ষের ভুল বুঝাবুঝির অবসান চান। দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক গ্রেপ্তার ঘটনার পর দুঃখ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি। তার নাম ব্যবহার করে বা পক্ষের সমর্থক দাবি করে কারও মামলা বা সৃষ্ট অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি চান না। গত শুক্রবার গণমাধ্যমে প্রেরিত বিবৃতিতে সাংবাদিকদের নামে মামলার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রীর কোনো অনুমোদন বা নির্দেশনা নেই বলে জানানো হয়। তিনি নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজেও বিবৃতি প্রকাশ করেছেন। প্রতিমন্ত্রীর প্রেস সেক্রেটারি মো. আতিকুর রহমান স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে গ্রেপ্তার সাংবাদিক দ্রুত মুক্তি পাবেন বলেও আশা প্রকাশ করা হয়।
প্রতিমন্ত্রীর সম্পর্কে প্রচারিত সকল অপতথ্য নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের জন্য সাংবাদিকদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, প্রতিমন্ত্রীর নাম ব্যবহার করে বা তার পক্ষে দাবি করে কেউ যেন ব্যক্তিগত উদ্যোগে কোনো মামলা, বিবৃতি বা অন্য কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করেন। এ ধরনের বিষয়ে তার কোনো অনুমোদন বা নির্দেশনা নেই। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ পারস্পরিক আলোচনা ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছাবেন। গ্রেপ্তারকৃত সাংবাদিক দ্রুত মুক্তি পাবেন। মামলার বাদী একজন সাংবাদিক ও বগুড়া প্রেসক্লাবের নির্বাচিত কোষাধ্যক্ষ। এ ঘটনায় দুপক্ষের মধ্যে যেন কোনো ধরনের ভুল বোঝাবুঝি বা উত্তেজনা সৃষ্টি না হয়। সবাইকে সংযম ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, সাইবার সুরক্ষা আইনের পাশাপাশি চাঁদাবাজির অভিযোগে গত বুধবার কয়েকজন সাংবাদিকের নামে বগুড়া সদর থানায় মামলা হয়। প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অপপ্রচারসহ মানহানিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ করেন মামলার বাদী সাংবাদিক তানভীর আলম রিমন।
তিনি দ্য ডেইলি নিউ নেশন, বাংলা টিভির ব্যুরো প্রধান ও বগুড়া প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ। এজাহারে উল্লেখ করেন, মামলার আসামিরা পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা, বানোয়াট, বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ ও প্রচার করে বাদীসহ প্রতিমন্ত্রী মীর শাহ আলমের ব্যক্তিগত, সামাজিক রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ন করা এবং বাদীকে জড়িয়ে মানহানিকর অপপ্রচার ছাড়াও চাঁদা দাবি করে। তবে মামলার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, সাংবাদিকদের নামে মামলা বা গ্রেপ্তার বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না। তার কোনো অনুমোদন বা নির্দেশনা নেই। এদিকে, নিজের নামে নতুন কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামকরণ না করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। গত ১ জুন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে পাঠানো এক আধা-সরকারি (ডিও) পত্রে তিনি অনুরোধ জানান।পত্রে উল্লেখ করেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে কিছু ব্যক্তি নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে তার নামে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামকরণের অপচেষ্টা ও প্রস্তাব পাঠাচ্ছেন। যা তার কাছে অনভিপ্রেত, অনাকাঙ্ক্ষিত। পত্রের শেষাংশে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্টভাবে অনুরোধ করেন, ইতিপূর্বে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানের বাইরে তার বা পরিবারের কোনো সদস্যের নামে নতুন কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামকরণের প্রস্তাব যেন গ্রহণ বা অনুমোদন করা না হয়। তিনি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর পূর্বের নাম ও পরিচিতি সংরক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। অন্যদিকে, আলোচিত মোকামতলা উপজেলায় নবগঠিত ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বগুড়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান।
