পাবনার চাটমোহর ও নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার সংযোগস্থলে কমলা নদীর ওপর নির্মিত পথচারী সেতু।
পাবনার চাটমোহর ও নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার সংযোগস্থলে কমলা নদীর ওপর নির্মিত পথচারী সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ১৯৯৯ সালে নির্মিত প্রায় ৩০ ফুট দীর্ঘ এই ব্রিজটি গত এক দশকেও বড় কোনো সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে এটি স্থানীয়দের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে জানা যায়, ব্রিজটির এক প্রান্তে পাবনার চাটমোহর উপজেলার খৈরাশ গ্রাম এবং অন্য প্রান্তে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার দিয়াড় গাড়ফা গ্রাম। খৈরাশ, দিয়াড় গাড়ফা, রাজাপুর, মুলাডুলি, চান্দাই ও সাতইলসহ অন্তত ২০টি গ্রামের মানুষ প্রতিদিন এই পথ দিয়ে যাতায়াত করেন। গত ১০-১২ বছর ধরে ব্রিজটির রেলিং ভাঙা এবং মূল কাঠামোতে বড় বড় ফাটল দেখা দিলেও তা মেরামতে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্তমানে পুরো কাঠামো নড়বড়ে হয়ে পড়ায় ঝুঁকি নিয়েই পারাপার হচ্ছে হাজারো মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহমান বলেন, সেতুটি অনেক পুরোনো হয়ে গেছে। রেলিং ভাঙা থাকায় পার হওয়ার সময় খুব ভয় লাগে। যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
পথচারী রইচ উদ্দিন জানান, বৃষ্টির দিনে ব্রিজটি আরও পিচ্ছিল ও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে, যা স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও বৃদ্ধদের জন্য চরম আতঙ্কের কারণ।
চালক ফারুক আহমেদ দ্রুত একটি নিরাপদ সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে বলেন, সংস্কার না হলে যেকোনো সময় ব্রিজটি ধসে বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটতে পারে।
এ বিষয়ে চাটমোহর উপজেলা প্রকৌশলী মো. এনামুল কবীর বলেন, ব্রিজটির বর্তমান জরাজীর্ণ অবস্থা সম্পর্কে আমরা অবগত আছি। জনস্বার্থে বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
