Joy Jugantor | online newspaper

চাঁদা না দেওয়ায় আদমদীঘিতে প্রবাসী পরিবারের বাড়ি ঘেরাও,

এক মাস ধরে অবরুদ্ধ থাকার অভিযোগ

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি 

প্রকাশিত: ২১:২৯, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

এক মাস ধরে অবরুদ্ধ থাকার অভিযোগ

চাঁদা না দেওয়ায় আদমদীঘিতে প্রবাসী পরিবারের বাড়ি ঘেরাও, এক মাস ধরে অবরুদ্ধ থাকার অভিযোগ

বগুড়ার আদমদীঘিতে চাঁদা না দেওয়ায় একটি প্রবাসী পরিবারের বাড়ি ঘেরাও করে দীর্ঘ এক মাস ধরে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার চাঁপাপুর ইউনিয়নের বিহিগ্রাম পশ্চিমপাড়ায় এ ঘটনা ঘটেছে।অভিযোগে জানা যায়, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রথমে স্থানীয় এক পক্ষের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর দু’দিন পর প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা উজ্জ্বল হোসেনের ছোট ভাই, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রুবেল হোসেন ভুক্তভোগী মুসা মিয়ার বাড়ির সামনে চলাচলের পথে বাঁশের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেন। একই সঙ্গে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং তা না দিলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রয়াত আফজাল সাহানার দুই ছেলে আবু মুসা ও ইব্রাহিম সাহানা। আবু মুসা দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন এবং তার ভাই ইব্রাহিম বর্তমানে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন। তুলনামূলক সচ্ছল হওয়ায় প্রতিপক্ষের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন তারা।ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, তাদের বসতবাড়ির চারপাশে বাঁশের বেড়া দিয়ে কার্যত গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। আবু মুসা প্রাণভয়ে স্ত্রী ও শিশুকন্যাকে নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

বাড়িতে থাকা তার ৮৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা মা অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন। এমনকি কেউ খাবার দিতে গেলেও তাকে হেনস্তা করা হচ্ছে।আবু মুসা জানান, পরিবারের খরচ চালাতে না পেরে দুটি গরু বিক্রি করতে চাইলেও তাতেও বাধা দেওয়া হচ্ছে। এতে মানবেতর জীবনযাপন করছে পরিবারটি।এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে একবার বেড়া সরিয়ে দেয়। তবে পুলিশের চলে যাওয়ার পরদিনই আবার বাড়ির চারপাশে বেড়া দিয়ে তাদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয় বলে অভিযোগ।ভুক্তভোগীরা আরও অভিযোগ করেন, বিষয়টি মীমাংসার কথা বলে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতা তাদের কাছে অর্থ দাবি করেছেন।

টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিভিন্নভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।স্থানীয়দের দাবি, জমি সংক্রান্ত বিরোধ থেকেই এ ঘটনার সূত্রপাত। গত ১৮ মার্চ থেকে তাদের বাড়ির প্রবেশপথে বাঁশের বেড়া দেওয়া হয়। এরপর থেকে একাধিকবার সমাধানের চেষ্টা হলেও তা ব্যর্থ হয়েছে।এ বিষয়ে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এটি কোনো চলাচলের রাস্তা নয়; বরং ব্যক্তিগত জায়গা নিয়ে বিরোধ রয়েছে।আদমদীঘি থানার অফিসার ইনচার্জ কামরুজ্জামান মিয়া বলেন, পুলিশ গিয়ে একবার বেড়া সরিয়ে দিয়েছিল। তবে পরে আবার বেড়া দেওয়া হয়েছে—এ বিষয়ে তিনি অবগত নন।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুমা বেগম জানান, অভিযোগটি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।