Joy Jugantor | online newspaper

"হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে চলছে জোড়ালো তদবির!"

আলোচনায় বিএনপি পরিবারের, "খান মোহাম্মদ সাগর"

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৫:০২, ১ নভেম্বর ২০২৬

আলোচনায় বিএনপি পরিবারের,

"হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে চলছে জোড়ালো তদবির!" আলোচনায় বিএনপি পরিবারের, "খান মোহাম্মদ সাগর"

হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে জোর তৎপরতা ও তদবিরের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে আলোচনায় রয়েছেন খান মোহাম্মদ সাগর। তিনি হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমানে জেলা যুবদলের নেতা খান মোহাম্মদ মামুনের ছোট ভাই বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে দাবি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সিদ্ধান্তে হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। পরদিন ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আগ্রহী পদপ্রার্থীদের ই-মেইলে জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) জমা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের এক নেতা দাবি করেছেন, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন পদে মোট ১০৭টি সিভি জমা পড়েছে।

ওই সূত্রের দাবি, ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের পদপ্রার্থীদের সঙ্গে ভার্চ্যুয়াল বর্ধিত সভাও করেছেন।জমা পড়া জীবনবৃত্তান্তের তালিকায় খান মোহাম্মদ সাগরের নাম রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তাঁর পারিবারিক রাজনৈতিক পরিচয় এবং অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।অভিযোগ রয়েছে, একসময় সাগর ছাত্রদল ও কৃষকদলের বিভিন্ন মিছিল-মিটিংয়ে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতেন। পরবর্তী সময়ে হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিজানের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) হিসেবে যোগ দেওয়ার পর তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত হন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতা আব্দুর রহিম কাউছারের মাধ্যমে তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতিতে প্রবেশ করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হবিগঞ্জ পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের একটি ভোটকেন্দ্রে ব্যালট বাক্স ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছিল খান মোহাম্মদ মামুনের বিরুদ্ধে।

ওই ঘটনায় বাধা দিতে গিয়ে ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জি আর ৩/১৯ নম্বর মামলা রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। সাগরের পারিবারিক রাজনৈতিক পরিচয় ও অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটিতে তাঁকে কোনো পদে আনা হলে তা নিয়ে তৃণমূলের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন।এদিকে, জেলা ছাত্রলীগের কমিটিতে সম্ভাব্য কয়েকজন প্রার্থীকে রাজনৈতিক মাঠের বাইরে রাখার উদ্দেশ্যে তাঁদের বাড়িতে পুলিশ পাঠিয়ে পরিবারের সদস্যদের হয়রানি এবং গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে । কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে জেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের বিভিন্ন নেতার মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপে খান মোহাম্মদ সাগরের পরিবারের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ছে বলেও জানা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক এক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, “দলের এই দুঃসময়ে আওয়ামী লীগকে আবার ঘুরে দাঁড়াতে হলে বিতর্কিত ও অনুপ্রবেশকারী হিসেবে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে দলের পরীক্ষিত, কারা নির্যাতিত এবং ৫ আগস্টের পরও সক্রিয় থাকা নেতাকর্মীদের নেতৃত্বে আনতে হবে।”অন্যদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, “নেত্রীকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হলে ছাত্রলীগকে সুসংগঠিত করতে হবে। আর ছাত্রলীগকে সুসংগঠিত করতে হলে বিএনপি পরিবারের কাউকে দায়িত্বে আনা যাবে না—এটাই জননেত্রী শেখ হাসিনার সুস্পষ্ট নির্দেশ।”সব মিলিয়ে হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘিরে তৃণমূলের প্রত্যাশা, প্রার্থীদের রাজনৈতিক অতীত এবং নেতৃত্ব নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে আলোচনা চলছে। শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কাদের হাতে দায়িত্ব তুলে দেয়, তা জানতে অপেক্ষায় রয়েছেন পদপ্রত্যাশী ও তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।