মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
ঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পরও মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়তে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার এ অবস্থানকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
গতকাল বুধবার ৬ মে দলীয় বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তারা আমাকে বরখাস্ত করুক। আমি চাই আজকের দিনটি কালো দিন হিসেবে চিহ্নিত হোক। রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হলে হোক। সব রেকর্ড থাকুক।
তিনি জানান, গত ২৯ এপ্রিল শুরু হওয়া নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার বিরুদ্ধে তার দল আদালতের দ্বারস্থ হবে।
অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের সম্ভাব্য নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় থাকা শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, রাজ্যে বড় ধরনের নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা ঘটছে না। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত যে বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলো ঘটেছে, তা ২০২১ সালের তুলনায় অনেক কম। কিছু দুষ্কৃতকারী এখনও সক্রিয় আছে, তবে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
দলের অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কড়া অবস্থানের কথাও জানিয়েছেন মমতা। দলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মন্তব্য করা নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে একটি ‘ডিসিপ্লিনারি কমিটি’ গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এছাড়া বিধানসভার প্রথম দিনকে ‘কালো দিবস’ হিসেবে পালনের ডাক দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
৭১ বছর বয়সী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুরু থেকেই নির্বাচনে পরাজয়ের জন্য ভারতের নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করে আসছেন। কমিশনের বিরুদ্ধে ‘নোংরা খেলার’ অভিযোগ তুলে তিনি মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা ও বিহারের সাম্প্রতিক নির্বাচনের উদাহরণ টানেন। মমতার পদত্যাগ না করার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দিল্লির রাজনৈতিক অঙ্গনও সরগরম হয়ে উঠেছে। আইন বিশেষজ্ঞরা সংবিধান অনুযায়ী সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করছেন। যদিও এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য নির্দিষ্ট কোনো নির্দেশিকা নেই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজ্যপাল চাইলে মুখ্যমন্ত্রীকে বরখাস্ত করতে পারেন। কারণ মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালের সন্তুষ্টির ভিত্তিতে দায়িত্ব পালন করেন এবং বর্তমান বিধানসভা ভেঙে না দেওয়া পর্যন্ত তিনি পদে থাকতে পারেন। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বর্তমান মেয়াদ শেষ হচ্ছে বৃহস্পতিবার (৭ মে)। ফলে সাংবিধানিক সমাধান খুঁজে বের করার সময় খুবই সীমিত।
এদিকে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের কাছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বরখাস্ত করার দাবি জানিয়েছেন। আইন অনুযায়ী, বিধানসভার আস্থা হারালে কোনো মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকতে পারেন না। যেহেতু ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে, তাই সংবিধান অনুযায়ী রাজ্যপাল নতুন সরকার গঠনের জন্য দলটিকে আমন্ত্রণ জানাতে পারেন।
তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পদ ছাড়তে অস্বীকৃতি জানালে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত।
