Joy Jugantor | online newspaper

পলাশবাড়ীতে জমি জমা সংক্রান্ত জেরে

মাদক ব্যবসার মিথ্যা অপবাদের প্রতিবাদ

পলাশবাড়ী(গাইবান্ধা)প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২০:৩৩, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মাদক ব্যবসার মিথ্যা অপবাদের প্রতিবাদ

পলাশবাড়ীতে জমি জমা সংক্রান্ত জেরে মাদক ব্যবসার মিথ্যা অপবাদের প্রতিবাদ

 গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার বেতকাপা ইউনিয়নে জমি জমা সংক্রান্ত বিবাদের জেরে একের পর এক মামলা, হুমকি-ধামকি, মারধর, বাড়িঘর ভাংচুর এবং মাদক ব্যবসায়ীর মিথ্যা অপবাদ দিয়ে পুনরায় ঘর বাড়ী ভাংচুর, আগুন লাগিয়ে বাড়ি-ঘর জ্বালিয়ে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ ও খুন জখমের প্রতিবাদে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর)  দুপুরে বাংলাদেশ প্রেসক্লাব পলাশবাড়ী উপজেলা শাখা কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী ও তার পরিবার। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, বেতকাপা ইউনিয়নের বলরামপুর গ্রামের মৃত মোসলেম উদ্দিন এর ছেলে মন্নাফ মন্ডল মিঠু। তিনি জানান,  জমি জমা সংক্রান্ত বিবাদের জেরে বিগত ১৯/০৬/১৯৮৯ ইং তারিখে বিবাদী মোঃ মতলুবর রহমান, পিতা- মৃত করিম মন্ডল, সাং- বলরামপুর, থানা- পলাশবাড়ী ও বজলুর রহমান গংরা তাদের নিজেদের বাড়িতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে আমাদের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা গাইবান্ধা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দায়ের করেন, যার মামলা নং- জিআর ২৮/৮৯ ।

পরে বিচারক গত ০৬/১১/১৯৯১ ইং তারিখ মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় আমাদের পক্ষে রায় প্রদান করেন । উক্ত বিবাদী মতলুবর রহমান গংরা ঐ মামলায় সুবিধা করতে না পেরে আমাদের দুই একর আটানব্বই শতাংশ জমির মধ্যে ১৯৫৬ সালের একটি ভাল | বা ভূয়া দলিল দেখিয়ে মতলুবর রহমান সহ ৩২ জন মিলে এক একর পঁয়ষট্টি শতাংশ জমি দাবী করে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে ২০০৯ সালে একটি বাটোয়ারা ৬২ এর এসএ রেকর্ড স্যুট মামলা নং (৩৯/০৯) দায়ের করে । পরবর্তী ১৩/০৯/১৫ ইং তারিখে মোঃ মোন্নাফ মন্ডল মিঠু আদালতে ঐ মামলার লিখিত জবাব দাখিল করেন ।বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন আছে এবং পূর্ব থেকেই ঐ সমস্ত আবাদী জমি ও বসতবাড়ীতে আমরা চাষাবাদ ও বসবাস করে আসছি। এদিকে বাটোয়ারা মামলা চলাকালীন সময়ে উক্ত মতলুবর রহমান গংরা তাদের পক্ষের গাইবান্ধা সদর থানার পীরগাছা গ্রামের মোঃ টুটুল মিয়ার পুত্র মোঃ মামুন মিয়াকে বাদী বানিয়ে গত ১২/০৯/২৬ ইং তারিখে পলাশবাড়ী থানায় আমাদের ছয় জনের নামে একটি মিথ্যা মামলা নং- ১১/২২৭ দায়ের করে ।

বর্তমানে উক্ত মামলায় আমরা জামিনে আছি। পরে বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গাইবান্ধা আদালতে গাইবান্ধা সদর থানার পীরগাছা গ্রামের মোঃ ফজলুর রহমানের পুত্র মোঃ আব্দুর রউফ বাদী হয়ে আমাদের বারো জনের নামে গত ৩১/০৮/২০২৬ ইং তারিখে একটি পিটিশন মামলা নং ৬০২/২০২৬ দায়ের করে। এক পর্যায়ে গত ২৭/০৮/২৬ ইং সন্ধ্যায় আমার ছোট ভাইআমিনুল ইসলাম মন্ডলের স্কুল পড়ুয়া ছেলে মোঃ লাবিব মন্ডল (১৬)কে মতলুবর রহমান ও বজলুর রহমান গংদের লোকজন তুলসীঘাট প্রাইভেট পড়ে আসার সময় সন্ধ্যার দিকে অপহরণ করে এবং তার মোবাইল ছিনিয়ে নেয় ও মারধর করে । পরে ৯৯৯ এ ফোন করে সহযোগিতা চাইলে গাইবান্ধা সদর থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে ।এ ব্যাপারে লাবিবের পিতা মোঃ আমিনুল ইসলাম গাইবান্ধা সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন । এরপর আমি আমাদের পক্ষের মোঃ মোন্নাফ মন্ডলের স্ত্রী লাইজুবেগম গাইবান্ধা বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট এর ২নং আদালতে বিবাদী বজলুর রহমান গংদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তার জন্য ১০৭/১১৭ (সি) মামলা দায়ের করেন । আবার ভুক্তভোগী আমিনুল ইসলাম গাইবান্ধার বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ২নং আদালতে নিরাপত্তার জন্য ২১/১০/২৬ ইং তারিখে

একটি ফৌজদারী কার্যবিধি ১০৭/১১৭ (সি) পিটিশন মামলা দায়ের করেন। শেষে নিম্ন স্বাক্ষরকারী গাইবান্ধা বিজ্ঞ আমলী আদালত, পলাশবাড়ী, বিবাদী মোঃ বজলূর রহমান গংদের বিরুদ্ধে  ১৪৩/৪৪৭/৩23/324/325/307/৩৭৯/৩৫৪/৫০৬ (২) ১১৪/৩৪ দঃ বিঃ একটি জিআর মামলা দায়ের করেন ।এসব বিষয় সুবিধা করতে না পেরে এবং বিবাদী মতলুবর রহমান ও বজলুর রহমান গংরা আমাদের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায় মিথ্যা অপরাদ ও অপপ্রচার চালাতে থাকে। একপর্যায়ে উক্ত মতলুবর রহমান ও বজলুর রহমান গংরা আমাদের ঘর-বাড়ি ভাংচুর, আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দিয়ে বাড়ি থেকে উচ্ছেদসহ খুন জখমের ভয়ভীতি ও হুমকি জোর পূর্বক ফসল কর্তন করে বড় ধরনের ক্ষতিসাধন করিবে মর্মে আমরা আতঙ্কিত সহ পরিবার পরিজননিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবার  মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী, গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, গোয়েন্দা বিভাগ, পলাশবাড়ী থানা পুলিশ সহ সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট আমাদের জান মালের নিরাপত্তা ও হেফাজতে সহযোগিতা কামনা করেন।এ সময়, মন্নাফ মন্ডল মিঠুর বড় ভাবি সখিনা বেগম, ছোট ভাবি লাকি বেগম, বড় ভাই নওসা, স্ত্রী লাইজু বেগম,হামিদা বেগম, ছোট ভাই আমিরুল ইসলাম, মেয়ে মিশু আক্তার, ভাতিজা লাবিব মিয়া সহ আত্মীয়-স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।