Joy Jugantor | online newspaper

সোনাতলায় জমি ভাগাভাগির বিরোধে মা ও তিন বোনকে মারধরের অভিযোগ

সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২০:২৭, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সোনাতলায় জমি ভাগাভাগির বিরোধে মা ও তিন বোনকে মারধরের অভিযোগ

সোনাতলায় জমি ভাগাভাগির বিরোধে মা ও তিন বোনকে মারধরের অভিযোগ

 বগুড়ার সোনাতলায় পারিবারিক জমি ভাগ-বণ্টন নিয়ে বিরোধের জেরে ভাই, ভাবি ও ভাতিজা-ভাতিজিদের বিরুদ্ধে মা ও তিন বোনকে লাঠিপেটা করে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। আহত চারজনকে সোনাতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজনের অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার দিগদাইড় ইউনিয়নের পাঠানপাড়া গ্রামের বিরোধপূর্ণ জমিতে এ ঘটনা ঘটে।আহতরা হলেন পাঠানপাড়া গ্রামের মৃত ধলু শেখের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম (৬৫) এবং তাঁর তিন মেয়ে শাহেনা বেগম (৪৮), আনু বেগম (৪৬) ও রঞ্জনা বেগম (৪২)।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক জমি ভাগ-বণ্টন নিয়ে দুই ভাই ও তাঁদের বোনদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য সেলিমসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশি বৈঠকও হয়। ওই বৈঠকে জমিসংক্রান্ত বিরোধের মীমাংসা করা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

আহত আনোয়ারা বেগম অভিযোগ করে বলেন, তিনি তাঁর অংশের জমি দীর্ঘদিন ধরে চাষাবাদ করে আসছেন। সম্প্রতি তাঁর ছেলে আবুল কালাম ওই জমির একটি অংশ নিজের বলে দাবি করেন। সোমবার ছেলের প্রাপ্য অংশ বুঝিয়ে দিতে দড়ি দিয়ে জমি মাপতে গেলে আবুল কালাম, তাঁর স্ত্রী পিয়ারা এবং তাঁদের ছেলে-মেয়েরা তাঁকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন আনোয়ারা।এ সময় মাকে রক্ষা করতে তাঁর তিন মেয়ে এগিয়ে এলে তাঁদেরও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে আহত অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে সোনাতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে একজনের অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে আবুল কালাম ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, তাঁর টমেটো চাষের জমিতে তাঁর বোন ও বোনজামাই দড়ি দিয়ে জমি মাপছিলেন। তিনি এতে বাধা দিলে একপর্যায়ে তাঁরা টমেটোর গাছ উপড়ে ফেলেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেন তিনি।আবুল কালামের বড় ভাই মোত্তালেব বলেন, ঘটনার সময় তিনি বাড়ির বাইরে ছিলেন। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করেন।স্থানীয় ইউপি সদস্য সেলিম বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি এর আগে স্থানীয়ভাবে উভয় পক্ষকে নিয়ে বসে মীমাংসা করে দেওয়া হয়েছিল। সে সময় কোনো পক্ষ আপত্তি জানায়নি। পরবর্তী সময়ে কোনো সমস্যা বা আপত্তি থাকলে তাঁদের জানালে আবারও বসে সমাধানের চেষ্টা করা যেত।তিনি বলেন, পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে নিজেদের মধ্যে মারামারি হলে শেষ পর্যন্ত উভয় পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে আহতদের পরিবার জানিয়েছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, এ বিষয়ে এখনো থানায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।