Joy Jugantor | online newspaper

রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ল্যাভরভ মিথ্যা আশ্বাসে ইরানকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে

রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ল্যাভরভ মিথ্যা আশ্বাসে ইরানকে বিভ্রান্ত করা

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৯:২০, ২২ এপ্রিল ২০২৬

রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ল্যাভরভ মিথ্যা আশ্বাসে ইরানকে বিভ্রান্ত করা

রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ল্যাভরভ মিথ্যা আশ্বাসে ইরানকে বিভ্রান্ত করা

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ অভিযোগ করেছেন, ইরানকে বারবার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি ও অস্পষ্ট আশ্বাস দিয়ে বিভ্রান্ত করা হয়েছে। কখনো চাপ প্রয়োগ, আবার কখনো আশ্বাস—কিন্তু বাস্তব কোনো সমাধান নিয়ে স্পষ্ট আলোচনা হয়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন।মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) মস্কোয় আল-বাওয়ারের সঙ্গে বৈঠকের পর এক বিবৃতিতে ল্যাভরভ বলেন, রাশিয়া ইরানের অবস্থান বুঝতে পারে। তার মতে, ইরান যথার্থভাবেই মনে করে যে অতীতেও তারা এমন প্রতিশ্রুতির ফাঁদে পড়েছে।এদিকে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বুধবার (২২ এপ্রিল) শেষ হওয়ার কথা। এর আগে যুদ্ধবিরতি বাড়ানোসহ বিভিন্ন ইস্যুতে দ্বিতীয় দফা আলোচনার আয়োজন করে পাকিস্তান। তবে শেষ পর্যন্ত ইরান প্রতিনিধিদল না পাঠানোয় বৈঠকটি ভেস্তে যায়।

ল্যাভরভ জানান, পাকিস্তানে সম্ভাব্য এই আলোচনা নিয়ে রাশিয়া নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি বলেন, পরিস্থিতি খুব দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই একাধিকবার মোড় নিতে পারে। তার মতে, যদি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ২০১৫ সালের মতো একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে, তাহলে তা বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হবে।উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে বারাক ওবামা প্রশাসনের সময় ইরানের সঙ্গে জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ) নামে একটি পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির আওতায় ইরান তার পারমাণবিক কার্যক্রম সীমিত করতে সম্মত হয়, বিনিময়ে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।তবে ২০১৬ সালে ক্ষমতায় এসে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে একতরফাভাবে ওই চুক্তি থেকে প্রত্যাহার করেন। এর ফলে চুক্তিটি কার্যত ভেঙে পড়ে এবং অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

ল্যাভরভের ভাষায়, বর্তমানেও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় নানা ইঙ্গিত থাকলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। “হুমকি ও প্রতিশ্রুতি আছে, কিন্তু বাস্তব ফল নেই,”—এভাবে পরিস্থিতি তুলে ধরেন তিনি।বিশ্লেষকদের মতে, এই মন্তব্য শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নয়, বরং বৃহত্তর আন্তর্জাতিক কূটনীতির চিত্রও তুলে ধরে। ২০১৫ সালের চুক্তি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতিশ্রুতি নিয়ে ইরানের আস্থা কমে গেছে, ফলে নতুন কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো এখন আরও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।বর্তমান প্রেক্ষাপটে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এবং রাশিয়া ও চীনের মতো শক্তিধর দেশগুলোর ভূমিকা—সব মিলিয়ে একটি জটিল কূটনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এমন অবস্থায় নতুন কোনো চুক্তি হলে তা শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।