Joy Jugantor | online newspaper

পুরোনো প্রশ্নে দাখিল পরীক্ষা,

বগুড়ার শেরপুরে তদন্ত কমিটি, ৬ জনকে অব্যাহতি

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২০:৫৩, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

বগুড়ার শেরপুরে তদন্ত কমিটি, ৬ জনকে অব্যাহতি

পুরোনো প্রশ্নে দাখিল পরীক্ষা, বগুড়ার শেরপুরে তদন্ত কমিটি, ৬ জনকে অব্যাহতি

বগুড়ার শেরপুরে দাখিল গণিত পরীক্ষায় পুরোনো সিলেবাসের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে হল সুপারসহ চার কক্ষ পরিদর্শক ও কেন্দ্র সচিবকে সব ধরনের পরীক্ষার কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।সোমবার (২৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইদুজ্জামান হিমু এ তথ্য নিশ্চিত করেন।গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন—উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল জোব্বার এবং শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার মো. জাকির হোসেন।অব্যাহতি পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন—কেন্দ্র সচিব ও শেরপুর শহীদিয়া আলীয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান, হল সুপার হায়দার আলী এবং কক্ষ পরিদর্শক হাসনা খাতুন, জোবায়দা খাতুন, কাওছার আহম্মেদ ও মামুনুর রশিদ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত রোববার শেরপুর শহীদিয়া আলীয়া কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্রের ১০১ ও ১০২ নম্বর কক্ষে মোট ২৯ জন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ফুলতলা দাখিল মাদ্রাসার ১০ জন, রাজারদীঘির ১৩ জন, চকসাদির ৩ জন এবং উলিপুর আমেরিয়া মাদ্রাসার ৩ জন শিক্ষার্থী ছিল। তারা সবাই নতুন সিলেবাসের নিয়মিত পরীক্ষার্থী।ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানায়, গণিত পরীক্ষা শুরু হলে তাদের হাতে ভুলবশত ২০২৫ সালের পুরোনো সিলেবাসের প্রশ্নপত্র তুলে দেওয়া হয়। ওই প্রশ্নেই তারা পরীক্ষা দিয়ে কেন্দ্র ত্যাগ করে। পরে বাড়ি গিয়ে বিষয়টি বুঝতে পেরে পরিবার ও নিজ প্রতিষ্ঠানে জানালে অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ফলাফল নিয়ে অনিশ্চয়তার আশঙ্কাও প্রকাশ করেন তারা।এ বিষয়ে কেন্দ্র সচিব হাফিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল। পরীক্ষার সময় বিষয়টি কারো নজরে আসেনি। পরে বিষয়টি জানতে পেরে তিনি মাদ্রাসা বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তিনি দাবি করেন, পরীক্ষার্থীদের ফলাফলে কোনো সমস্যা হবে না।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, শিক্ষার্থীরা যাতে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং দায়িত্বে অবহেলার কারণে সংশ্লিষ্টদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।