করতোয়া ও ফুলজোড় নদীর দূষণ পরিস্থিতি পরিদর্শন
দেশের কয়েকটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা আজ দিনব্যাপী বগুড়ার করতোয়া ও সিরাজগঞ্জের ফুলজোড় নদীর দূষণ পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছে। আজ বুধবার পরিদর্শনকালে তারা মোট চারটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান ঘুরে দেখেন এবং নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন।
এই পরিদর্শন দলে উপস্থিত ছিলেন রুলফাও-এর নির্বাহী পরিচালক আফজাল হোসেন, স্বপ্ন-এর নির্বাহী পরিচালক জিয়াউর রহমান, এএলআরডি’র প্রোগ্রাম ম্যানেজার সানজিদা খান, প্রোগ্রাম অফিসার বিজয় শঙ্কর বড়ুয়া, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)-এর প্রোগ্রাম ও ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর এএমএম মামুন, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগীয় সমন্বয়কারী তন্ময় কুমার সান্যাল, নিজেরা করি-এর কর্মকর্তা নাঈমুল আলম আলভী, মথুরা সমাজ কল্যাণ পরিষদের নির্বাহী পরিচালক জাহেদুর রহমানসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
পরিদর্শন চলাকালে প্রতিনিধিরা নদীপাড়ের অর্ধশতাধিক স্থানীয় বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলেন এবং নদী দূষণের উৎস, ধরন ও প্রভাব সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, বগুড়ার শেরপুর উপজেলার মির্জাপুরের কুনিঘাট এলাকায় মাটির নিচ দিয়ে স্থাপিত পাইপলাইনের মাধ্যমে এসআর কেমিক্যালস নামক একটি কারখানা তাদের দূষিত বর্জ্য সরাসরি করতোয়া নদীতে নিঃসরণ করছে। এছাড়া সুঘাট ইউনিয়নের জোরগাছা সেতুর ওপর থেকে মাঝেমধ্যে রাসায়নিক বর্জ্য ফেলা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
একইভাবে, সুঘাট ইউনিয়নের চমরপাথালিয়া এলাকায় ফুলজোড় নদীতে পাইপের মাধ্যমে মজুমদার প্রডাক্টস লিমিটেডের কারখানার বর্জ্য ফেলা হচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানান। এসআর কেমিক্যালস কারখানার আশপাশের রাজাপুর এলাকার বাসিন্দারা চরম পরিবেশগত ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। কারখানা থেকে নির্গত বিষাক্ত গ্যাসের কারণে এলাকাবাসীর মধ্যে শ্বাসকষ্ট, চর্মরোগসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিচ্ছে। পাশাপাশি, এসব গ্যাসের প্রভাবে বাড়ির টিন, জানালা ও অন্যান্য উপকরণ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সিরাজগঞ্জের চান্দাইকোনা এলাকার শিমলা গ্রামে ফুলজোড় নদীর দূষিত পানি ব্যবহার করার ফলে নারী ও শিশুদের মধ্যে চর্মরোগসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। অন্যদিকে, রায়গঞ্জ উপজেলার বাসিন্দারা জানান, নদীতে মাছ ভেসে উঠছে এবং জলজ প্রাণীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে। রাসায়নিক দূষণে নদীর পানি ব্যবহারের ফলে গবাদিপশু অসুস্থ হয়ে পড়ছে, এমনকি মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে।
এছাড়া নদীতে মাছের সংকটের কারণে স্থানীয় জেলেরা তাদের জীবিকা হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন। সার্বিকভাবে, করতোয়া ও ফুলজোড় নদীর এই দূষণ পরিস্থিতি জনস্বাস্থ্য, জীববৈচিত্র্য ও স্থানীয় অর্থনীতির ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
পরিদর্শনকারী সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরা মনে করেন, অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে এ অঞ্চলে আরও ভয়াবহ পরিবেশগত বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। এজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ, দূষণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর মনিটরিং এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যন্ত এখন সময়ের দাবি।
