Joy Jugantor | online newspaper

জেলা পরিষদ নির্বাচন

জয়পুরহাটে এমপি’র বিরুদ্ধে বিধি ভঙ্গের অভিযোগ

জয়পুরহাট প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৬:৩০, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২২

আপডেট: ১৬:৩০, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২২

জয়পুরহাটে এমপি’র বিরুদ্ধে বিধি ভঙ্গের অভিযোগ

দলীয় সমর্থিত প্রার্থীর প্রচারণায় ইউনিয়ন পরিষদে জয়পুরহাটের সংসদ সদস্য।

জয়পুরহাট জেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় সমর্থিত প্রার্থীর প্রচারণায় জয়পুরহাট-১ (সদর ও পাঁচবিবি) আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড. সামছুল আলম দুদু প্রকাশ্যে অংশ নিয়েছেন। সোমবার (১৯ সেপ্টেম্বর) জয়পুরহাট সদর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে গিয়ে চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করে জেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী খাজা সামছুল আলমের ভোট চেয়েছেন তিনি। এর মাধ্যমে সংসদ সদস্য সামছুল আলম জেলা পরিষদ নির্বাচনের আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

একাধিক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সঙ্গে সংসদ সদস্যের আলোচনার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করা হয়েছে। তবে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সামছুল আলম আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

নির্বাচন বিধি ২০১৬, ২-এর (৭) ধারা অনুযায়ী তফসীল ঘোষণার তারিখ হতে নির্বাচনের ফলাফল সরকারি গেজেটে প্রকাশের তারিখ পর‌্যন্ত সময়কাল নির্বাচন আচরণ বিধি অর্থাৎ বিধিমালা এবং ২২-এর (১) ও (২) ধারা অনুযায়ী সরকারি সুবিধাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে সংসদ সদস্যরা নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সোমবার সকাল থেকে জয়পুরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড. সামছুল আলম দুদু জেলা আ.লীগের কয়েকজন নেতাকে সঙ্গে নিয়ে সদর উপজেলার ধলাহার, চকবরকত, দোগাছি, জামালপুর ও ভাদসা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে যান। সংসদ সদস্য এসব ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নিয়ে মতবিনিময় সভা করেছেন। তিনি এসব মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এছাড়া তিনি আগামী ১৭ অক্টোবর  অনুষ্ঠিতব্যজয়পুরহাট জেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী সামছুল আলমকে বিজয়ী করতে চেয়ারম্যান ও সদস্যদের কাছে ভোট চেয়েছেন।

চকবরকত ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান বলেন, এমপি মহোদয় আজকে আমাদের ইউনিয়ন পরিষদে এসেছিলেন। তিনি আমাদের সঙ্গে মতবিনিময়সভা করেছেন। তিনি আমার ইউনিয়নে বর্তমান সরকারের কি উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড হয়েছে, তার তালিকা চেয়েছেন। তবে তিনি জেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাননি।

ভাদসা ইউপি চেয়ারম্যান সরোয়ার হোসেন স্বাধীন বলেন, আমাদের এলাকায় কি-কি উন্নয়ন হয়েছে আর কি-কি উন্নয়ন করতে হবে তা জানতে তিনি (এমপি) জেনেছেন এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। যেহেতু সামনে জেলা পরিষদ নির্বাচন। তাই দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থীকে বিজয়ী করতে বলেছেন।

সংসদ সদস্য এ্যাড. সামছুল আলম দুদুর সঙ্গে বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে গিয়েছিলেন জয়পুরহাট জেলা আ.লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাহফুজ চৌধুরী। এনিয়ে তিনি নিজের ফেসবুকে লেখা পোস্ট করেছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন “আসন্ন জয়পুরহাট জেলা পরিষদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত জননেত্রী শেখ হাসিনার চেয়ারম্যান প্রার্থী- #অধ্যক্ষ খাজা সামছুল আলম স্যারকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করার লক্ষ্যে এ্যাডঃ সামছুল আলম দুদু এমপি (জয়পুরহাট ০১)- এর উপস্থিতি ক্রমে জয়পুরহাট সদরের ০২ নং দোগাছী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, মেম্বারদের নিকট ভোট প্রার্থনায়....”।

জানতে চাইলে গোলাম মাহফুজ চৌধুরী বলেন, সংসদ সদস্য এ্যাড. সামছুল আলম দুদু সদর উপজেলার সবগুলো ইউনিয়ন পরিষদে গিয়েছেন। তিনি ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সঙ্গে স্থানীয় উন্নয়ন নিয়ে মতবিনিময় করেছেন। আমরা যারা তার সঙ্গে ছিলাম তারাই চেয়ারম্যান ও সদস্যদের কাছে জেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় সমর্থিত প্রার্থী খাজা সামছুল আলমের ভোট চেয়েছি।

সংসদ সদস্য এ্যাড. সামছুল আলম দুদু বলেন, আমার আগামী নির্বাচনের (জাতীয় সংসদ) প্রচারণার জন্য গিয়েছিলাম। আগামীকালও যাবো। আর আমার নির্বাচনী এলাকার ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে কি-কি উন্নয়ন হয়েছে আর কি-কি উন্নয়ন দরকার তা জানতে চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়সভা করেছি। আমি জেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর সাথে গেলে তা আচরণবিধি ভঙ্গ হতো। আর এখনো তো মার্কা বের হয়নি। তাই এটি আচরণবিধি ভঙ্গ হয়নি।

এ ব্যাপারে জেলা পরিষদ নির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল আজিজ মোল্লা বলেন, সংসদ সদস্য আচরণ বিধি লঙ্ঘন করে ভোটের প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন। বিষয়টি রির্টানিং কর্মকর্তাতে অবগত করা হয়েছে। আজ (২০ সেপ্টেম্বর) লিখিত অভিযোগ করা হবে।

রির্টানিং কর্মকর্তা ও জয়পুরহাটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোঃ শরীফুল ইসলাম বলেন, আমি বিষয়টি জেনেছি। এটা আচরণবিধির মধ্যে পড়েছে কিনা তা জেলা নির্বাচন অফিসারকে দেখতে বলা হয়েছে। সহকারী রির্টানিং ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ আমিনুর রহমান মিঞা বলেন, সংসদ সদস্য মহোদয় নির্বাচনের প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না। এটি সম্পূর্ণ আচরণবিধি লঙ্ঘন। বিষয়টি জানতে পেরে সংসদ সদস্যকে বলা হয়েছে।