Joy Jugantor | online newspaper

নিউমুরিং টার্মিনাল ইজারা নিয়ে

ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি ঠেকানো সম্ভব না: নৌ উপদেষ্টা

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২২:০৯, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি ঠেকানো সম্ভব না: নৌ উপদেষ্টা

নিউমুরিং টার্মিনাল ইজারা নিয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি ঠেকানো সম্ভব না: নৌ উপদেষ্টা

নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ডিপি ওয়ার্ল্ডের সাথে নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারার চুক্তি ঠেকানো সম্ভব না। কিন্তু চুক্তি কোন লেভেলে হবে সেটা আমার বক্তব্য আমি দিয়ে এসেছি। আশা করি কোনো চুক্তিতে কোনো কিছু চাপিয়ে দেওয়া হবে না।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বন্দর ভবনের সামনে বিক্ষোভকারী শ্রমিকদের সাথে আলোচনা শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।শ্রমিকদের কর্মবিরতির সমালোচনা করে উপদেষ্টা বলেন, 'শ্রমিকরা যেসব দাবি জানিয়েছেন তা আমি বিবেচনা করছি। এরপরও যদি শ্রমিকরা কাল সকাল থেকে কাজে না ফেরেন এবং যারা কাজ করতে চায় তাদের বাঁধা দেন তাহলে সরকার হার্ড লাইনে যাবে।'

সামনে পবিত্র রমজান মাস উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, সামনে রমজান। বন্দরে রমজানের অনেক পণ্য আছে। এ সময় পোর্ট বন্ধ রেখে এমন কর্মসূচি কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটা মানুষকে কষ্ট দেওয়া। এটা অমানবিক। এই কষ্টের দায়ভার কে নেবে? পোর্ট বন্ধ রাখার এখতিয়ার কারো নেয়।শ্রমিকদের আন্দোলনের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, শ্রমিক নেতাদের আমি আস্বস্ত করেছি। তারা যদি আস্বস্ত না হয়, আমি বলব তাদের অন্য মতলব আছে।

এনসিটি ইজারার বিষয়টি উচ্চ আদালতে বিচারাধীন থাকা প্রসঙ্গে এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, 'আদালত এখনো সিদ্ধান্ত দেননি। আর আদালত যদি বলে এই চুক্তি করা যাবে না তাহলে আমাদের আদালতের আদেশের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই।'চুক্তি প্রক্রিয়ায় কোনো অস্বচ্ছতা বা তাড়াহুড়ো নেই দাবি করে উপদেষ্টা বলেন, 'চুক্তি নিয়ে কোনো ধরনের তাড়াহুড়ো করা হচ্ছে না।

গত ছয় মাস ধরে ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রতিনিধিরা বন্দরে আসছেন। গত তিন মাস ধরে নেগোসিয়েশন চলছে। এখানে তাড়াহুড়োর কি আছে?'দেশের স্বার্থ রক্ষার অঙ্গীকার করে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, দেশের স্বার্থ বিরোধী কোনো চুক্তি এই সরকার করবে না। অন্তত আমি যতক্ষণ আছি তা হতে দেব না।

এর আগে, এদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপদেষ্টা বন্দর ভবনে পৌঁছালে শ্রমিকদের তোপের মুখে পড়েন। উত্তেজিত শ্রমিকদের বাধার কারণে তার গাড়ি বহর প্রায় ২০ মিনিট আটকে থাকে। পরে বন্দর ভবনে ব্যবসায়ী নেতা ও বন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক শেষে শ্রমিকদের দুইজন প্রতিনিধিকে চট্টগ্রাম বোট ক্লাবে আলোচনার প্রস্তাব দেন উপদেষ্টা।

তবে শ্রমিকরা বন্দর ভবনের বাইরে আলোচনায় বসার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কোনো আলোচনা ছাড়াই শ্রমিকদের দুয়োধ্বনির মধ্যে বন্দর ভবন ত্যাগ করেন উপদেষ্টা।তবে সংকট নিরসনে দুপুর আড়াইটার দিকে পুনরায় বন্দর ভবনে ফিরে আসেন উপদেষ্টা এবং শ্রমিকদের ১৪ জনের একটি প্রতিনিধি দলের সাথে বৈঠকে বসেন। এই বৈঠকের পরই তিনি সংবাদিকদের সাথে কথা বলেন। পরে বিকেলে তিনি চট্টগ্রাম বোট ক্লাবে 'পোর্ট ইউজারস ফোরাম' এর নেতাদের সাথে আরও একটি মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।