একুশে পদক প্রাপ্তির খবরে দুই ফোঁটা পানি গড়িয়ে পড়লো: আইয়ুব বাচ্চুর স্ত্রী
বাংলা রকধারায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ মরণোত্তর একুশে পদক পাচ্ছেন কিংবদন্তি ব্যান্ডতারকা আইয়ুব বাচ্চু। এই অসামান্য অবদানের স্বীকৃতির খবরে গায়কের স্ত্রী ফেরদৌস আক্তার চন্দনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আবেগী বার্তা দিয়েছেন।বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ফেসবুকে ফেরদৌস আক্তার চন্দনা কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান একুশে পদকের জুড়ি বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট সকলকে। লেখেন, ‘২০২৬ সালের বাংলাদেশ। একুশে পদকে ভূষিত হলেন রক আইকন আইয়ুব বাচ্চু (মরণোত্তর)।
এটা শুধু আইয়ুব বাচ্চুর শিল্পী হিসেবে সম্মাননা নয়, এটা বাংলা ব্যান্ড সংগীতের ও সঙ্গীতের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। তাকে এই সম্মাননা প্রদানের জন্য এর সাথে জুড়ি বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি তার পরিবারের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ।’তিনি আরো বলেন, ‘খবরটা শোনার পর আমার চোখ থেকে দুই ফোঁটা পানি গড়িয়ে পড়ল। কারণ যার নেওয়ার জিনিস, সে তো আর নেই। নিজের হাতে সম্মানটা নিতে পারা একটা বিশাল ব্যাপার। দোয়া করবেন ওর জন্য—যেন ওপর থেকে দেখতে পায়।’
চন্দনার মতে, পদকটি আইয়ুব বাচ্চুর জন্য পুরোপুরি প্রাপ্য ছিল। তবে জীবদ্দশায় নিজ হাতে তা নিতে না পারার কিছুটা আক্ষেপ ছিল। তিনি বলেন, ‘শিল্পীরা নিজের হাতে স্বীকৃতি পেলে সবচেয়ে আনন্দিত হন। বাচ্চু হয়তো ভাগ্যবান ছিলেন না, তাই তা নিতে পারেননি।’চন্দনা আরও জানান, জীবদ্দশায় আইয়ুব বাচ্চুর মধ্যে কিছুটা আফসোস ছিল রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নিয়ে। তবে সে বিষয়টি নিয়ে তিনি বিস্তারিত কথা বলতে আগ্রহী নন। শুধু যোগ করেন, ‘একটি পদক একজন শিল্পীকে আরও দুই কদম এগিয়ে দেয়। ওরও আক্ষেপ ছিল, মাঝে মাঝে এসব নিয়ে বলত। কিন্তু এখন সেসব নিয়ে কথা বলতে চাই না। চলে যাওয়ার পর হলেও পেয়েছে—অনেকে তো সেটুকুও পায় না।’
প্রসঙ্গত, চলতি বছর একুশে পদকপ্রাপ্ত তালিকায় সর্বমোট ৯ জন ও একটি প্রতিষ্ঠান (ব্যান্ডদল ওয়ারফেইজ) নাম রয়েছে। দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এ বেসামরিক পদকপ্রাপ্ত গুণীজনরা হলেন আইয়ুব বাচ্চু (সংগীত), ফরিদা আক্তার ববিতা (চলচ্চিত্র), অধ্যাপক মো. আব্দুস সাত্তার (চারুকলা), মেরিনা তাবাসসুম (স্থাপত্য), অর্থি আহমেদ (নৃত্য), ইসলাম উদ্দিন পালাকার (নাট্যকলা), শফিক রেহমান (সাংবাদিকতা), অধ্যাপক ড. মাহবুবুল আলম মজুমদার (শিক্ষা) ও তেজস হালদার যস (ভাস্কর্য)।
