Joy Jugantor | online newspaper

বাংলাদেশকে বিপুল কৃষি ও জ্বালানি পণ্য আমদানির প্রস্তাব মার্কিন রাষ্ট্রদূতের

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২২:৪৩, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

আপডেট: ২২:৪৫, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশকে বিপুল কৃষি ও জ্বালানি পণ্য আমদানির প্রস্তাব মার্কিন রাষ্ট্রদূতের

বাংলাদেশকে বিপুল কৃষি ও জ্বালানি পণ্য আমদানির প্রস্তাব মার্কিন রাষ্ট্রদূতের

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন। তিনি বলেছেন, এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ শুল্ক ও অশুল্ক বাণিজ্য বাধা কমানোর উদ্যোগ নিচ্ছে, যা দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ভারসাম্য প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে।মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) আয়োজিত এক মধ্যাহ্নভোজ সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর শেরাটন হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদার’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়িত হলে শুধু বাণিজ্যই নয়, বাংলাদেশের অর্থনীতি নতুন গতি পাবে। দক্ষিণ এশিয়ায় কৌশলগত অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ একটি বড় উৎপাদনকেন্দ্রে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রাখে।

তিনি জানান, চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৩৫০ কোটি ডলারের কৃষিপণ্য-গম, সয়াবিন, তুলা ও ভুট্টা-আমদানির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এছাড়া আগামী ১৫ বছরে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের জ্বালানিপণ্য আমদানির পরিকল্পনাও রয়েছে।ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন বলেন, দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্য ভারসাম্য আনতে হলে রপ্তানির পাশাপাশি আমদানিও বাড়াতে হবে। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য আমদানির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে ২০৫০ সালের মধ্যে বিপুল বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে এবং এ খাতে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কোম্পানিগুলোর আগ্রহ রয়েছে। পাশাপাশি ডিজিটাল অর্থনীতি, প্রযুক্তি, অবকাঠামো ও শিল্প খাতেও যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে।

রাষ্ট্রদূতের ভাষ্য অনুযায়ী, এই চুক্তি কোনো সহায়তানির্ভর নয়; বরং এটি একটি বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব, যা দুই দেশেই কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ বাড়াবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে স্থিতিশীল থাকলেও রপ্তানি খাত এখনো সীমিত। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে অতিনির্ভরতা ঝুঁকি তৈরি করছে। তাই রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনার ওপর জোর দেন তিনি।তিনি আরও বলেন, জ্বালানি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল রূপান্তর ও আইসিটি খাতে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে পারে।