Joy Jugantor | online newspaper

সারিয়াকান্দিতে এলসিএস প্রকল্পে চরম অনিয়ম,

সুপারভাইজারের চাকরি বাঁচাতে বিএনপি নেতা মরিয়া

সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২০:০১, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

সুপারভাইজারের চাকরি বাঁচাতে বিএনপি নেতা মরিয়া

সারিয়াকান্দিতে এলসিএস প্রকল্পে চরম অনিয়ম, সুপারভাইজারের চাকরি বাঁচাতে বিএনপি নেতা মরিয়া

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতাধীন এলসিএস (লেবার কন্ট্রাক্টিং সোসাইটি) প্রকল্পের গ্রামীণ সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ কাজে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। সংবাদ প্রকাশের পরে ব্যবস্থা না নিতে উপজেলা প্রকৌশলীকে চাপ দিচ্ছেন সারিয়াকান্দি পৌর বিএনপি'র সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম হীরা।জানা যায়, সারিয়াকান্দি পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শরিফুল ইসলাম হীরা, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সাবেক এমপি সাহাদারা মান্নানের দেওয়া নিয়োগের উপজেলা মৎস্যজীবী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক পাভেল মিয়ার চাকরি বাঁচাতে তৎপর হয়ে উঠেছেন। তিনি উপজেলা প্রকৌশলীকে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করার জন্য নির্দেশ দেন। এলসিএস প্রকল্পের সুপারভাইজার হিসেবে দায়িত্বে থাকা উপজেলা মৎস্যজীবী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক পাভেল মিয়ার বিরুদ্ধে দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ রয়েছে। নামমাত্র হাজিরা দিয়ে ব্যক্তিগত কাজে চলে যান, ফলে প্রকল্পের কাজের কোনো তদারকি হয় না। কাজ না করেও মাস শেষে বেতন ঠিকই তুলে নিচ্ছেন।

 নারী শ্রমিকদের সশরীরে কাজ করার কথা থাকলেও অন্যের আইডি কার্ড ব্যবহার করে কাজ করে যাচ্ছেন। এসব দেখার দায়িত্ব সুপারভাইজারের থাকলেও অর্থনৈতিক লাভের কারণে দেখেও না দেখার ভান করে থাকতেন। স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক হওয়াই এসব বিষয়ে কারো কাছে জবাবদিহি করতে হয়নি। একই সঙ্গে কাজ করেছেন আনসার সদস্য ও সাংবাদিক হিসেবে। তাই জনমনের প্রশ্ন উঠেছে বিএনপির নেতারা হাতে থাকলেই কি একই ব্যক্তি বিভিন্ন জায়গায় কাজ না করেই চাকুরিতে বহাল থাকতে পারেন। প্রকল্পের কর্মরত দুঃস্থ নারীদের নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা হলেও চেকবই থাকে দালালদের নিয়ন্ত্রণে। মাস্টাররোলে ৩০ জনের নাম থাকলেও মাঠে কাজ করেন ১৮ থেকে ২০ জন। বাকি টাকা আত্মসাৎ করা হয়। সরকারের এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ছিল গ্রামীণ দরিদ্র ও দুঃস্থ নারীদের কর্মসংস্থান, কিন্তু সেই উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা ।

উক্ত প্রকল্পের অভিযুক্ত সুপারভাইজার ও উপজেলা মৎস্যজীবী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক পাভেল মিয়া বলেন, এ বিষয়ে আমার কোন মন্তব্য নেই।নারী শ্রমিকরা বলেন, "আমাদের সাহাদারা মান্নান এমপি কাজের সুযোগ করে দিয়েছে। আমাদের বয়স হওয়ায় আত্মীয়-স্বজনদের আইডি কার্ড দিয়ে কাজ নিয়েছি। স্যারেরাও দু'এক জনের আইডি কার্ডের ব্যবস্থা করে দিয়েছে।"এ বিষয়ে সারিয়াকান্দি উপজেলা প্রকৌশলী তুহিন সরকার বলেন, কিছু নারী শ্রমিকদের বাদ দেওয়া গেলেও সুপারভাইজার পাভেলকে বাদ দেওয়া সহজ না। পাভেলকে স্বপদে বহাল রাখতে সরিয়াকান্দি পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শরিফুল ইসলাম হীরাসহ স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সুপারিশ রয়েছে।এ ব্যাপারে সারিয়াকান্দি পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শরিফুল ইসলাম হীরার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার লোকালি নির্বাচন করতে হয় বিধায় কারো বিপক্ষে যাওয়ার সুযোগ নাই। তাই আমি উপজেলা সমন্বয় সভায় পাভেল কে স্ব পদে রাখার কথা বলেছিলাম উপজেলা প্রকৌশলী কে।