অশ্রুসিক্ত বিদায়, স্মৃতিতে থাকবেন শাজাহানপুরের এসিল্যান্ড উর্মি
পদোন্নতিজনিত বদলিতে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জান্নাতুল ফেরদৌস উর্মিকে বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে শাজাহানপুর অফিসার্স ক্লাব ও সন্ধ্যায় উপজেলা ভূমি অফিসের আয়োজনে পৃথক বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়।এ সময় অশ্রুসিক্ত ও আবেগঘন পরিবেশে সহকর্মীরা তাঁকে বিদায় জানান। স্মৃতিস্বরূপ তাঁর হাতে ফুল, ক্রেস্ট ও উপহার তুলে দেন সহকর্মীরা।অফিসার্স ক্লাবে আয়োজিত সংবর্ধনায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ তাইফুর রহমান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহানাজ পারভীন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আমিনা খাতুন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহবুবুল হোসেনসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।৩৮তম বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস উর্মি ২০২৫ সালের ২৯ জুলাই শাজাহানপুর উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে যোগদান করেন। সম্প্রতি তিনি সিনিয়র সহকারী কমিশনার পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। পদোন্নতির পর তাঁকে ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী পদায়নের জন্য তাঁকে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।
শাজাহানপুরে দায়িত্ব পালনকালে ভূমিসেবা সহজীকরণ, সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি কমানো এবং ভূমি অফিসে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেন তিনি। তাঁর সময়ে প্রায় ১৮ হাজার নামজারি আবেদন নিষ্পত্তি, বিভিন্ন আইনে পরিচালিত অভিযানে মোট ১৬ লাখ ৩ হাজার ৭৩০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।ভূমি অফিসে দালালমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখা, ডিজিটাল ভূমিসেবার তথ্য দৃশ্যমান করা এবং নারী সেবাগ্রহীতাদের জন্য পৃথক ব্যবস্থা গ্রহণসহ বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেন তিনি। পাশাপাশি অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন, ভেজাল খাদ্য ও মাদকবিরোধী অভিযানসহ বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন।বিদায় সংবর্ধনায় উপজেলা ভূমি অফিসের নাজির আহসান নূর হাবীব আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন,স্যারের মতো সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতা আমাদের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে। আমরা তাঁকে খুব মিস করব।নতুন কর্মস্থলে শুভকামনা জানিয়ে গণমাধ্যমকর্মী আবুল কালাম আজাদ বলেন,জান্নাতুল ফেরদৌস উর্মির দায়িত্ববোধ ও জনসেবার প্রতি আন্তরিকতা শাজাহানপুরবাসীর মনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর কর্মদক্ষতা, মানবিক আচরণ ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড তাঁকে মানুষের কাছে স্মরণীয় করে রাখবে।
