Joy Jugantor | online newspaper

আকবরিয়ার ফেয়ারশপের যাএা শুরু, কেনাকাটায় স্বস্তিতে কর্মচারীরা

নিজস্ব প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৯:৫৫, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

আপডেট: ২০:০১, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

আকবরিয়ার ফেয়ারশপের যাএা শুরু, কেনাকাটায় স্বস্তিতে কর্মচারীরা

আকবরিয়ার ফেয়ারশপের যাএা শুরু,কেনাকাটায় সুবিধায় স্বস্তিতে কর্মচারীরা

বগুড়ায় আকবরিয়া পরিবারের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কল্যাণে চালু হয়েছে একটি ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ—‘ফেয়ার শপ’। বুধবার শহরের কাজী নজরুল ইসলাম সড়ক সংলগ্ন আকবরিয়া হোটেল প্রাঙ্গণে এ সুপার শপের উদ্বোধন করা হয়।আকবরিয়ার চেয়ারম্যান হাসান আলী আলাল  ফিতা কেটে এই ফেয়ার শপের আনুষ্ঠানিক যাএা শুরু করে। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আকবরিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক হোসেন আলী দুলাল, ডিএমডি আরমান খোসাইন, পরিচালক শাহীনুর ইসলাম, আদনানুল ইসলাম, সিইও ইব্রাহীম মাসুম, সিএফও হারুন উর রশিদ, ডিজিএম আমিনুর ইসলাম আখি, পার্চেস কো--অর্ডিনেটর হারুন উর রশিদ, পার্চেস ম্যানেজার মহিনুর ইসলাম, এজিএম বিশাল চাকীসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ। উদ্বোধনী আয়োজনে এক আন্তরিক ও উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়, যেখানে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ছিল আনন্দ ও উচ্ছ্বাস।

এই ‘ফেয়ার শপ’-এর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো—কর্মচারীরা এখানে বাকিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারবেন। মাস শেষে তাদের বেতন থেকে সেই টাকা সমন্বয় করা হবে। ফলে হঠাৎ আর্থিক সংকটেও তাদের দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে আর কোনো দুশ্চিন্তা থাকবে না।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আকবরিয়ার চেয়ারম্যান হাসান আলী আলাল বলেন,“আমাদের প্রতিষ্ঠানের প্রাণ হচ্ছে আমাদের কর্মচারীরা। তাদের স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। এই ফেয়ার শপের মাধ্যমে আমরা এমন একটি ব্যবস্থা চালু করেছি, যেখানে তারা সম্মানের সঙ্গে প্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহ করতে পারবে,তাৎক্ষণিক অর্থ পরিশোধ ছাড়াই ।”তিনি আরও বলেন, “বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠেছে। আমরা চাই আমাদের কর্মচারীরা যেন এই চাপ থেকে কিছুটা হলেও মুক্তি পায়।”

 আকবরিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক হোসেন আলী দুলাল তার বক্তব্যে ফেয়ার শপের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন,“এই উদ্যোগ শুধুমাত্র একটি দোকান চালু করা নয়—এটি আমাদের কর্মচারীদের প্রতি দায়িত্ববোধের একটি বাস্তব উদাহরণ। আমরা চাই, আমাদের প্রতিটি কর্মচারী যেন সম্মানজনকভাবে জীবনযাপন করতে পারে। তাই তাদের প্রয়োজনীয় পণ্য সহজলভ্য করা, সাশ্রয়ী করা এবং প্রয়োজনে বাকিতে দেওয়ার এই ব্যবস্থা চালু করেছি।”তিনি আরও বলেন, “ফেয়ার শপের মাধ্যমে আমরা একটি টেকসই কল্যাণমূলক কাঠামো গড়ে তুলতে চাই। এখানে মানসম্মত পণ্য নিশ্চিত করা হচ্ছে, বাজারের তুলনায় কম দামে পন্য দেয়া হচ্ছে এবং স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে আমরা এই সুবিধা আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও করছি, যাতে কর্মচারীরা আরও বেশি উপকৃত হতে পারে।”

ফেয়ার শপ সম্পর্কে নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে এক কর্মচারী  বলেন,“এই ফেয়ার শপ আমাদের জন্য সত্যিই অনেক বড় একটি সহায়তা। অনেক সময় মাসের মাঝামাঝি এসে টাকার টান পড়ে যায়, তখন প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে কষ্ট হয়। এখন আমরা এখান থেকে বাকিতে জিনিস নিতে পারব, পরে বেতন থেকে কেটে নেওয়া হবে—এটা আমাদের জন্য অনেক স্বস্তির। এতে আমাদের পরিবারের চাহিদা মেটানো সহজ হবে।”তিনি আরও বলেন, “সবচেয়ে ভালো লাগার বিষয় হলো, এখানে বাজারের চেয়েও কম দামে ভালো মানের পণ্য পাওয়া যাচ্ছে। এতে আমাদের সাশ্রয়ও হচ্ছে, আবার মান নিয়েও চিন্তা করতে হচ্ছে না।”অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্যান্য কর্মচারীরাও একই ধরনের অনুভূতি ব্যক্ত করেন। তারা বলেন, এই উদ্যোগ কর্মচারীদের প্রতি প্রতিষ্ঠানের আন্তরিকতা ও দায়িত্ববোধেরই প্রতিফলন।ফেয়ার শপের মাধ্যমে আকবরিয়া কর্তৃপক্ষ শুধু একটি দোকানই চালু করেনি, বরং কর্মচারীদের জন্য একটি সহায়ক ও মানবিক ব্যবস্থার সূচনা করেছে। এতে কর্মচারীদের জীবনযাত্রা সহজ হবে, মানসিক চাপ কমবে এবং কর্মক্ষেত্রে তাদের মনোযোগ ও উৎপাদনশীলতা বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।উদ্বোধন শেষে দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।