হারিয়ে যেতে বসেছে লাল রঙের বার্তা বাহক রাণীনগরে দোকান ঘরে চলছে আবাদপুকুর পোস্ট অফিস
এক সময় গ্রামীন জনপদের প্রধান বার্তাবাহক ছিলো পোস্ট অফিস| সময়ের বিবর্তনে এর কার্যক্রম এখন প্রায় তলানীতে| তারপরও চলছে এর কার্যক্রম এমন এক পোস্ট অফিস চলছে দোকান ঘরে| বলছিলাম নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার কালিগ্রাম ইউনিয়নের আবাদপুকুর পোস্ট অফিসের কথা উপজেলার সবচেয়ে বড় বাজার আবাদপুকুর| প্রতিদিন এখান থেকে প্রায় সারা দেশে ধান-চালের বড় চাহিদা এই বাজার থেকেই সরবরাহ করা হয়| বাণিজ্যিক গুরুত্বের বিবেচনায় এখানে ব্যাংক, বীমা, এনজিও সহ প্রায় অর্ধ শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে| এখানে ব্রিটিশ সরকারের আমলে নির্মাণ করা হয় একটি সাব পোস্ট অফিস| উপজেলার পূর্ব এলাকার গ্রামীন জনপদের প্রধান পত্র বাহক ছিলো এই পোস্ট অফিস| সময়ের ব্যবধানে এর ঘরটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সরকারি নজরদারির অভাবে এলাকাবাসির চাহিদা মেটাতে একটি দোকান ঘরে প্রায় ৮ বছর ধরে আবাদপুকুর পোস্ট অফিসের কার্যক্রম চলছে ।
সরকার আসে সরকার যায় নানা উন্নয়নমুলক কাজ চললেও এখানে একটি ভবন নির্মাণে কারো যেন মাথা ব্যথা নেই| এই সুযোগে পোস্ট অফিসের জায়গা কাঠেরগুলসহ বিভিন্ন ধরণের জিনিসপত্র রেখে দখলের পায়তারা করছে এক শ্রেণীর প্রভাবশালী| এ যেন অভিভাবকহীন একটি সম্পদ| ‘আবাদপুকুর পোস্ট অফিস’ (কোড নং ৫৮৯০)| আবাদপুকুর পোস্ট মাস্টার মোঃ এমদাদুল আলম জানান, আমি ১৯৯৮ সালে এই পোস্ট অফিসের মাষ্টার হিসেবে যোগদান করি| তখন ছিলো একটি মাত্র মাটির দেওয়ালের ঘর| কাজ কাম শেষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিরাপত্তার সাথে বিভিন্ন জায়গায় গোপনে রাখতে হতো| এই ঘরটি ২০১৬ সালে আকর্ষিক ঘূর্ণীঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হলে একটি বাক্র আর ব্যাগ নিয়ে বাজারের বিভিন্ন দোকানের কোনায় কোনায় বসে সরকারি কাজকাম করতাম| এমনকি একটি ফলের দোকানে বসে প্রায় ১বছর অফিসিয়াল কাজ করেছি| বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর পর বগুড়া জেলা ডেপুটি পোস্ট মাস্টার জেনারেল এসে বর্তমানে ‘এস টু কম্পিউটার’ নামক দোকানে বসে সাময়িক ভাবে কাজ চালানোর নির্দেশ দেন| সেই থেকে প্রায় ৮বছর নিজ¯^ ভবন ছাড়াই চলছে আবাদপুকুর পোস্ট অফিসের সরকারি সেবা|
পোস্ট অফিসের রানার দুলাল হোসেন বলেন, পুরনো ঘরটি ভেঙে যাওয়ার পর বারবার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো প্রতিকার মেলেনি| এমনকি পোস্ট মাস্টার ও আমি মিলে নিজ¯^ অর্থায়নে পোস্ট অফিসের জায়গায় দুটি ইটের ঘর নির্মাণ করতে চাইলেও কর্তৃপক্ষ অনুমতি দেয়নি| কর্তৃপক্ষের সাফ নির্দেশ-ব্যক্তিগত টাকায় সরকারি জায়গায় কোনো স্থাপনা করা যাবে না|দোকান মালিক হারুনুর রশিদ বলেন, আমার দোকানের একটি অংশ নিয়ে প্রায় ৮ বছর ধরে পোস্ট অফিসের কার্যক্রম চলছে| দোকানের মাসিক ভাড়া ৪হাজার ৪০০ টাকা শর্ত ছিল ভাড়ার অর্ধেক ২ হাজার ২০০ টাকা পোস্ট অফিস কর্তৃপক্ষ পরিশোধ করবে।
কিন্তু দীর্ঘদিন পার হলেও সেই ভাড়ার টাকাও পাওয়া যাচ্ছে না এমনকি বিদ্যুৎ বিলও দোকান মালিককেই পরিশোধ করতে হয়| বাণিজ্যিক এলাকায় পোস্ট অফিসের এমন জরাজীর্ণ দশা মেনে নিতে পারছেন না স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ| এলাকাবাসী দ্রুত এর স্থায়ী সমাধান চায়| বগুড়ার ডেপুটি পোস্ট মাষ্টার জেনারেল আনোয়ার হোসেন জানান, আবাদপুকুর পোস্ট অফিসটি দীর্ঘ ৮ বছর ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে| আমরা ইতিমধ্যে সেখানে নতুন ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি| একটি নতুন ভবন নির্মানের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বরাবরে প্রেরণ করেছি| বরাদ্দ প্রাপ্তি সাপেক্ষে এর নির্মাণ কাজ শুরু হবে|
