Joy Jugantor | online newspaper

আদমদীঘিতে ৩৪ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রাস্তা এখনও কাঁচা

বর্ষাকালে চরম দুর্ভোগ শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি 

প্রকাশিত: ২১:২০, ২১ এপ্রিল ২০২৬

বর্ষাকালে চরম দুর্ভোগ শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের

আদমদীঘিতে ৩৪ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রাস্তা এখনও কাঁচা বর্ষাকালে চরম দুর্ভোগ শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের

বগুড়ার আদমদীঘিতে ৩৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এখনও কাঁচা রাস্তা দিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের যাতায়াত করতে হয়। বিশেষ করে বর্ষাকালে চরম দুর্ভোগের কবলে পড়তে হয় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের। অনেক সময় দুর্ঘটনারও শিকার হতে হয় শিক্ষার্থীদের।উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলায় আটটি ইউনিয়নে মোট ১৩৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে সদর ইউনিয়নের ২৩টি বিদ্যালয়ের মধ্যে কাঁচা রাস্তা রয়েছে ৮টির। মধুপুর ইউনিয়নে ১৭টি বিদ্যালয়ের মধ্যে কাঁচা রাস্তা ৪টির। পাহাড়পুর ইউনিয়নের ১৮টি বিদ্যালয়ের মধ্যে কাঁচা রাস্তা ৬টির। কোলাতে ১৮টির মধ্যে ৬টির, বিলাসবাড়ীতে ১২টির মধ্যে ২টি, আধাইপুরে ১৮টির মধ্যে ৫টি, বালুভরা ১৩টির মধ্যে কাঁচা রয়েছে ৩টি রাস্তা। তবে মিঠাপুর ইউনিয়নে কোনো রাস্তা কাঁচা নেই। এসব কাঁচা রাস্তার দৈর্ঘ্য সর্বনিম্ন ৩০ মিটার থেকে সর্বোচ্চ ২ কিলোমিটার পর্যন্ত।আদমদীঘি সদর ইউপির ১০ নম্বর গোয়ালা মাধবপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত। তবে বিদ্যালয়ে যাতায়াতের রাস্তাটির ৪০০ মিটার আজও কাঁচা।

বর্ষাকালে এ বিদ্যালয়ে যেতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হয়। অনেক সময় দুর্ঘটনাও ঘটে।গোয়ালা গ্রামের অভিভাবক যতীশ চন্দ্র দেবনাথ জানান, বর্ষাকালে ছোট ছোট বাচ্চারা হেঁটে স্কুলে আসতে পারে না। মায়েরা কোলে করে স্কুলে দিয়ে যায়। শিক্ষকরা সাইকেল বা মোটরসাইকেল আধা কিলোমিটার দূরে রেখে হেঁটে আসেন। গ্রামবাসীরা চাঁদা তুলে ইটের খোয়া ও ভাঙা ইট দিয়ে কোনো রকমে হাঁটার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। জনপ্রতিনিধিদের বারবার বললেও তারা কোনো কর্ণপাত করেন না।গোয়ালা মাধবপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান জানায়, বর্ষাকালে স্কুলে আসার সময় পা পিছলে পড়ে তার হাত ভেঙে যায়। এছাড়াও প্রায়ই পড়ে গিয়ে বই-খাতা নষ্ট হয়ে যায়। তাই পাকা রাস্তা হলে খুব ভালো হয়।গোয়ালা মাধবপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফেরদৌসী আখতার বলেন, রাস্তার এই দুরবস্থার কারণে এখানে কোনো শিক্ষক সহজে আসতে চান না। রাস্তা নির্মাণের জন্য শিক্ষা অফিসে বারবার বলেছি।

একাধিকবার মাপ নিয়েও গেছে। কিন্তু রাস্তা হয়নি।কামারবাড়ি আদিবাসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাতায়াতের জন্য দুই গ্রাম থেকে দুটি রাস্তা রয়েছে। দুটিই কাঁচা ছিল। মাস ছয়েক আগে হাপানিয়া গ্রাম থেকে যাওয়ার রাস্তাটি ইট দিয়ে সোলিং করা হয়। কিন্তু নির্মাণের পরপরই রাস্তাটি বিনষ্ট হয়ে যায়। গ্রামবাসী জানান, ইট সোলিং রাস্তাটি বর্তমানে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। আগের মাটির রাস্তার চেয়েও এই রাস্তা বেশি খারাপ।কামারবাড়ি আদিবাসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির যমজ দুই ভাই জয় ও কুশ জানায়, বর্ষাকালে তাদের বিদ্যালয়ে আসতে খুবই অসুবিধা হয়। বই পানিতে পড়ে ভিজে নষ্ট হয়ে যায়। জামা-কাপড় নষ্ট হয়ে যায়।এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম বলেন, আদমদীঘি উপজেলায় ৩৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কানেকশন রোড কাঁচা রয়েছে। এ কারণে শিক্ষার্থীদের ও শিক্ষকদের বিদ্যালয়ে যেতে অনেক সময় অসুবিধা হয়। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে বেশি সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। আমি বিদ্যালয়গুলোর আবেদনের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে জানিয়েছি।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান ছনি এ বিষয়ে বলেন, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাঁচা রাস্তা পাকা করা হবে।