গাইবান্ধা-৩:বাইসাইকেলে প্রচারণা স্বতন্ত্র প্রার্থী আজিজার রহমানের
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ী) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আজিজার রহমানের প্রচারণার ধারা ভিন্নধর্মী। তিনি বাইসাইকেলে নিজের প্রতীক ‘ঢেঁকি’ ও হ্যান্ডমাইক বেঁধে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গ্রাম-গঞ্জ, হাট-বাজার ঘুরে ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনা করছেন।আজিজার রহমান ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান এবং সংসদ সদস্য পদে নির্বাচনে চারবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে যান। ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে ঢেঁকি প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়েছিলেন।
এবারও জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী তিনি।গ্রাম থেকে গ্রামে ছুটে বেড়াতে গিয়ে আজিজার রহমান এক হাতে বাইসাইকেলের হ্যান্ডেল ধরে অন্য হাতে হ্যান্ডমাইকে ভোটারদের উদ্দেশে বলছেন, ‘ও চাচি, ও চাচা, ও খালা, ও আপা, ও দাদি, ও দাদা, ও কৃষক ভাই, আমার ঢেঁকি মার্কায় ভোট দিন। নির্বাচিত হলে বেকার সমস্যার সমাধান করব এবং সংসদে আপনারা মুখ্য সমস্যাগুলো তুলে ধরব।’নির্বাচন এলাকায় স্থানীয়রা তার প্রচারণা দেখে আনন্দিত। নারী ও বৃদ্ধ ভোটাররা তার হাতে হাত বুলিয়ে দোয়া করছেন। আজিজার রহমান জানান, ‘তার কোনো কর্মী বাহিনী নেই; নিজেই বাইসাইকেলে ভোটারদের কাছে পৌঁছাচ্ছেন।তিনি বলেন, বাইসাইকেলে পেট্রোল লাগে না, তাই আমার নির্বাচনী খরচ নেই। যারা টাকা দিয়ে ভোট কিনছেন, নির্বাচিত হলে নিজের টাকা তুলবেন।
আমার ক্ষেত্রে এমন হবে না। বিদেশেও যাব না, আমি এখানেই থাকব। পরিবার থেকে মাত্র ১০ হাজার টাকা নিয়ে এ প্রচারণা চালাচ্ছি, বর্তমানে খরচ হয়েছে ৬-৭ হাজার টাকা।আজিজার রহমানের লক্ষ্য নির্বাচিত হয়ে সাদুল্লাপুর ও পলাশবাড়ী উপজেলার পিছিয়ে থাকা এলাকার উন্নয়নের ব্যবস্থা করা। তিনি সাদুল্লাপুরের ভাতগ্রাম ইউনিয়নের খোদাবকস গ্রামের বাসিন্দা, ৫৭ বছর বয়সী, বিএসসি পাস, পেশা শিক্ষক। স্ত্রী সালমা বেগম, তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।প্রসঙ্গত, গাইবান্ধা-৩ আসনে মোট প্রার্থী ১০ জন। ভোট কেন্দ্র ১৪৫টি। মোট ভোটার ৫ লাখ ৬ হাজার ১৮৫, যার মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৪৮ হাজার ৯০২, নারী ২ লাখ ৫৭ হাজার ২৭৪ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৯ জন।
