Joy Jugantor | online newspaper

লিফট কিনতে তুরস্কে যাচ্ছেন ৬ জন কর্মকর্তা

পাবনা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৩:৩৭, ৩১ মে ২০২৩

লিফট কিনতে তুরস্কে যাচ্ছেন ৬ জন কর্মকর্তা

লিফট কিনতে তুরস্কে যাচ্ছেন ৬ জন কর্মকর্তা

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) নবনির্মিত ভবনের লিফট কেনার জন্য উপ-উপাচার্যসহ ছয় কর্মকর্তার একটি প্রতিনিধি দল তুরস্কে যাচ্ছে। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প পরিচালকের কার্যালয় থেকে প্রকল্প পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) জিএম আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে রেজিস্ট্রার বিজন কুমার ব্রহ্মকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

ওই চিঠিতে ‘পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের বিভিন্ন স্থাপনার লিফট সংগ্রহের প্রাক জাহাজীকরণে ছয় সদস্যের একটি পরিদর্শক দলের তুরস্ক ভ্রমণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিনিধি দলের গত ৯ মে তুরস্ক সফরের কথা থাকলেও পরে সময়সূচি পিছিয়ে আগামী ৬ জুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

জানা যায়, একাডেমিক ভবন, ছাত্র-ছাত্রীদের আবাসিক হলসহ মোট পাঁচটি আধুনিক ভবনের নির্মাণকাজ চলছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। নির্মাণাধীন ভবনগুলোর জন্য কেনা হবে ২৫টি লিফট। আর সেই লিফট কেনাকাটা ও তদারকির জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি দল যাচ্ছে তুরস্ক সফরে।

এই দলের দলনেতা করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এসএম মোস্তফা কামাল খানকে। উপ-দলনেতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কেএম সালাহ উদ্দিন। এ ছাড়াও সদস্য হিসেবে আছেন– বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) ফরিদ আহমেদ, উপ-প্রকৌশলী মো. রিপন আলী, উপ-প্রকৌশলী জহির মোহা. জিয়াউল আবেদীন। সদস্য সচিব হিসেবে আছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) জিএম আজিজুর রহমান।

এদিকে, এসব তথ্য প্রকাশের পর জেলাজুড়ে শুরু হয়েছে সমালোচনার ঝড়। এই সফর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা উপেক্ষা করে করা হচ্ছে বলে দাবি সচেতন মহলের। অবিলম্বে সফর বাতিলের দাবি জানিয়েছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। তবে নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এই টিম তুরস্কে যাচ্ছে বলে দাবি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের।

এ বিষয়ে পাবনা চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক এবিএম ফজলুর রহমান বলেন, ‘বর্তমানে বহুতল ভবন নির্মাণের সংখ্যা বেড়েছে বহুগুণ। কিন্তু কোথাও শুনিনি লিফট কেনার জন্য দেশের বাইরে যেতে। রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের বিশাল বিশাল ভবনের জন্যও লিফট কিনতে বিদেশ যাওয়ার প্রয়োজন হয়নি। সে ক্ষেত্রে পাবিপ্রবির সামান্য কয়েকটি লিফট কেনার জন্য কেন অর্থ অপচয় করে বিলাসবহুল সফর করতে হবে? শিক্ষার মান নিয়ে চিন্তাভাবনা না করে এসব ব্যাপারে তাদের উৎসাহ-উদ্দীপনার কমতি দেখা যায় না।’

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) পাবনার সভাপতি আব্দুল মতিন খান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবনের লিফট কেনার জন্য শিক্ষকদের বিদেশ ভ্রমণ মোটেও যুক্তিযুক্ত নয়। এটা স্পষ্ট অপচয়। ঠিকাদারের খরচে গেলেও এটিকে অপচয় বলবো। ঠিকাদারকে তো লিফট বুঝিয়ে দিতেই হবে। তাহলে ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা করানো বাদ দিয়ে শিক্ষকদের লিফটের  কারখানা দেখতে যেতে হবে?’

তবে নিয়মের মধ্যে থেকেই এ সফরের আয়োজন করা হয়েছে বলে দাবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের। প্রকল্প পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) জিএম আজিজুর রহমান বলেন, ‘ছয় জনের যে প্রতিনিধি দল তুরস্ক সফরে যাচ্ছেন তার জন্য সরকারি কোনও অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হচ্ছে না। সফরের এই অর্থ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বহন করবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হাফিজা খাতুন বলেন, ‘সফরের বিষয়টি অনেক আগে থেকেই অনুমোদন করা আছে। এ সফরে আরও আগে হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাকে সম্মান করেই এত বিলম্ব করেছি।’