Joy Jugantor | online newspaper

ডিজিটাল জুয়ার আসরে তরুণ-তরুণীদের ভিড়

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৮:৩১, ১১ এপ্রিল ২০২১

ডিজিটাল জুয়ার আসরে তরুণ-তরুণীদের ভিড়

চলছে জুয়া খেলা

রাতের আঁধারে তালাবদ্ধ ঘরে বড় স্কিনের ট্যাবলেট ফোনে (ট্যাব) বিশেষ ধরণের সফটওয়্যারের মাধ্যমে চলছে জুয়ার ডিল। পাশে জমা হচ্ছে টাকার স্তুপ। ট্যাবে সফটওয়্যারের ঘুরপাক থেমে গেলে শোনা যায় কারো উচ্ছাস, আবার কারো আর্তনাদ।

প্রতিরাতে ডিজিটাল জুয়ার এমন আসর বসে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে। জুয়ার পাশাপাশি চলে মাদক সেবন।

ডিজিটাল এ জুয়ায় আগ্রহী হচ্ছে উঠতি বয়সের ছেলেমেয়েরা। ফলে জুয়ার টাকা যোগাতে তারা বেছে নিচ্ছে অপরাধ জগৎ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মোহনগঞ্জ রেল স্টেশনের পূর্ব দিকে রেললাইন ঘেঁষে গড়ে ওঠা মাছ-সবজি বাজারের এলাকা ঘিরে গড়ে উঠেছে এসব ডিজিটাল জুয়ার আসর। এখানে রাত বাড়ার সাথে সাথে বয়স্কদের পাশাপাশি ভিড় বাড়তে থাকে তরুণ-তরুণীদের। এ খেলায় প্রতিদিন নিঃস্ব হয়ে বাড়ি ফেরে অসংখ্য তরুণ-তরুণী। পরে জুয়ার খরচ মেঠাতে অনেকে বেছে নেয় অপরাধের পথ।

মোহনগঞ্জের কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, পৌরসভার সামনে রেললাইন ঘেঁষে গড়ে ওঠা মাছ-সবজি মার্কেটে দিনের বেলায় বাহির থেকে ঘরের দরজা তালা মেরে ভেতরে বসে জুয়ার আসর। রাতে তো ওপেনে চলে। সাথে বর্তমানে যোগ হয়েছে আইপিএল জুয়া। ধীরে ধীরে এ জুয়া ছড়িয়ে যাচ্ছে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে।

তারা জানান, জুয়ায় কম বয়সী ছেলে-মেয়রাই বেশি। এখানে টাকা পয়সা খুইয়ে নিঃস্ব হয়ে নানা অপরাধ করে বেড়াচ্ছে অনেকেই। এখনি এসব বন্ধ না করলে বিভিন্ন ধরণের অপরাধ বেড়ে যাবে বলেও তাদের ধারণা।

স্থানীয় সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শিশু ছায়া’র কর্মী মো. রফিকুল ইসলাম জানান, শুধু রাতে নয়, দিনেও শহরের বিভিন্ন দোকানে বসে এমন জুয়ার আসর। ঘরের দরজায় বাহির থেকে তালা লাগিয়ে ভেতরে বসে জুয়া খেলে লোকজন। এমনকি চায়ের দোকানগুলোতে মোবাইল সফটওয়্যারের মাধ্যমে জুয়া খেলা হয়। পাশাপাশি আইপিএল নিয়ে তো জুয়া আছেই।

এ বিষয়টি মোহনগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ আবদুল আহাদ খান বলেন, তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

মোহনগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুজ্জামান বলেন, এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে।