জয়পুরহাটে প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী :মোবাইল বা স্ক্রিন ছেড়ে বাচ্চাদের স্বাভাবিক জীবনে নিয়ে আসতে হবে
জয়পুরহাটে জেলা পর্যায়ে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক ও বালিকা) এর শুভ উদ্বোধন করেছেন জনপ্রশাসন ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো: আব্দুল বারী। শনিবার (১৬ মে) সকাল সাড়ে ১০টায় কালেক্টরেট মাঠে এ টুর্মামেন্টের উদ্বোধন করা হয়।জেলা প্রশাসন ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে জেলা প্রশাসক আল-মামুন মিয়া সভাপতিত্ব করেন। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার শাহনাজ বেগম এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক মাসুদ রানা প্রধান।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে যার হাতের ছোঁয়া এবং ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়া-খেলাধুলাসহ সর্বক্ষেত্রে একজন ব্যক্তির নাম নিয়ে আসতে হবে, তিনি হলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। উনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলোতে গিয়েছেন এবং বাচ্চাদের আদর করতেন। একই ভাবে বেগম খালেদা জিয়া মেয়েদের লেখাপড়ায় উপবৃত্তি নিয়ে এসেছিলেন।
যাতে মেয়েরা লেখাপড়া করে সমাজে অবদান রেখে নিজেদের গড়ে তুলতে পারে।তিনি বলেন, মানুষের জীবন গড়ে তুলতে হলে শিক্ষার পাশাপাশি যে কারিকুলাম গুলো আছে, এই কারিকুলাম গুলোকে যেন গুরুত্ব দেওয়া হয়। এজন্য নতুন নতুন পদ্ধতি এবং সিস্টেম চালু করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময়ে দেশে কথা বলার অধিকার ছিলো না, মুক্ত চিন্তার অধিকার ছিলো না। সমস্ত মানুষকে একটি খাঁচায় আবদ্ধ করার প্রচেষ্টা ছিলো। আল্লাহর রহমতে আমরা সেখান থেকে মুক্ত হয়েছি। এই ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা আন্দোলন করেছে, জীবন দিয়েছে। আমি শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করি। স্বাধীনতা যুদ্ধে বীর শহীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করি এবং যে সমস্ত রাজনৈতিক কর্মী, ছাত্র-জনতা যারা দীর্ঘ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে জীবন দিয়ে তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী বলেন, সমাজে মাদকের ছোবল প্রত্যেকটা জায়গায়। প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত সচেতন ভাবে প্রতিটি বিষয় অ্যাড্রেস করছেন।
খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়ে আর্থিক সচ্ছলতা আনা সম্ভব। আজকে বাচ্চারা মোবাইল বা স্ক্রিনের মধ্যে যে আবদ্ধ হয়েছে, এটি থেকে বের করে তাদেরকে সমাজের স্বাভাবিক জীবন যাত্রায় নিয়ে আসতে হবে। তাহলে আমরা একটি সুস্থ সমাজ পাবো।তিনি আরও বলেন, আজকে মাদকের ছোবল থেকে রক্ষা করার জন্য শুধু আইন প্রয়োগ করে হবে না। এখানে সমাজকে সচেতন হতে হবে। বাচ্চারা যেনো সন্ধ্যার পরে ঘরের বাইরে না থাকে, সেই ব্যবস্থা করতে হবে এবং তাদের সাথে বাবা-মাকে বন্ধুর মত আচরণ করতে হবে।
বাচ্চারা যদি খেলাধুলো এবং মানসিক চর্চার মধ্যে থাকে তাদের পারস্পরিক যোগাযোগ ক্রিয়া বৃদ্ধি পাবে এবং দেখা যাবে ধীরে ধীরে আমরা একটা সুস্থ সমাজের দিকে যাচ্ছি।প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি বিষয়কে অ্যাড্রেস করছেন এবং সকল ক্ষেত্রে একটি সমৃদ্ধশালী জাতি হিসেবে গড়ে তোলার জন্য যে কর্মসূচিগুলো দিচ্ছেন, আমরা সকলে তা বাস্তবায়ন করবো। ইনশাআল্লাহ এই দেশ আবারো ঘুরে দাঁড়াবে- যোগ করেন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী।আয়োজকরা জানিয়েছেন, এই টুর্নামেন্টে বালক ও বালিকা দুই গ্রুপেই খেলা হচ্ছে। ১৬ মে প্রথম রাউন্ড এবং ১৭ মে সেমিফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ১৮ মে ফাইনাল খেলার মধ্য দিয়ে এই টুর্নামেন্ট শেষ হবে। উদ্বোধনী দিনে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং শিক্ষকরা উপস্থিত থেকে শিশুদের উৎসাহিত করেন।
