Joy Jugantor | online newspaper

বগুড়ায় প্রণোদনার বীজে গজায়নি চারা, কৃষকদের সর্বনাশ

ইমরান হোসেন রুবেল

প্রকাশিত: ১৮:১২, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১

আপডেট: ২২:২৩, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১

বগুড়ায় প্রণোদনার বীজে গজায়নি চারা, কৃষকদের সর্বনাশ

প্রণোদনার বীজে গজায়নি চারা, পতিত হয়ে আছে ফসলি জমি। ছবি- জয়যুগান্তর

বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দেওয়া সরকারি প্রণোদনা পেঁয়াজের বীজে গজায়নি চারা। চাষীদের অভিযোগ, তাদেরকে নিম্নমানের বীজ দেয়া হয়। এ বীজ বপণ করে ক্ষতি পুষিয়ে উঠার বদলে উল্টো ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন তারা।

বিষয়টি স্বীকারও করেছেন  উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, ‘পেঁয়াজের বীজের মান ভালো ছিল। অতিরিক্ত শীতে পর্যাপ্ত তাপমাত্রা না পাওয়ায় এই সঙ্কট  হয়তো দেখা দিয়েছে ।‘

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পেঁয়াজ চাষে উদ্বুদ্ধ করতে দুই দফায় প্রণোদনা হিসেবে পেঁয়াজ বীজ দেয়া হয়। গত ২০ ডিসেম্বর আবার পেঁয়াজ বীজ বিতরণ করে কৃষি বিভাগ। এতে উপজেলার ১২ ইউনিয়ন ও একটি  পৌরসভার ১৫০ জন কৃষকের প্রত্যেককে ৭৫০ গ্রাম করে বীজ দেয়া হয়।  এর সাথে আরও দেওয়া হয় ২০ কেজি ড্যাপ ও ১০ কেজি এমওপি সার। সংকট ছিল এই বীজে।

তবে প্রনোদনার  প্রথম দফায় গত বছরের ৩০ নভেম্বর ২৫০ গ্রাম করে ৩০০ জন কৃষককে দেওয়া হয়। ওই বীজগুলোর মান খুবই ভালো থাকায় জমিতে বোপনের পর চারা গজিয়ে যায়।  

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দ্বিতীয় দফায় দেয়া প্রণোদনার বীজ  উপেজলার ১৫০ বিঘা জমিতে বপণ করা হয়।  এ বীজ জমিতে ঠিকঠাক মতো বপণ করা হলেও কোনো কৃষকের জমিতে চারা গজায়নি। 

ভুক্তভোগী চাষীদের অভিযোগ, প্রথম দফায় পেঁয়াজ বীজের মান ভালো থাকলেও দ্বিতীয় দফার বীজ নিম্নমানের ছিল। 

পেঁয়াজ চাষীরা বলছেন, তারা কাজলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাশেদ সরকারের মাধ্যমে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে প্রত্যেকে ৭৫০ গ্রাম করে বীজ পান। এগুলো তারা চরের জমিতে বপণ করেছিলেন।

কাজলা ইউনিয়নের কটাপুর  গ্রামের চাষী মতিন খাঁ বলেন, ‘আমাদের পাশের জমিতে চাষীরা বাজার থেকে বীজ কিনে বপন করছে। সেই বীজগুলো জমিতে গজিয়ে তরতর করে পেঁয়াজের গাছ বেড়ে উঠছে। আমরা ভেবেছিলাম সরকারি বীজে ভালো ফলন পাব, কিন্তু ফলন তো দূরের কথা কোন বীজই গজায়নি।’ 

কৃষক ইব্রাহিম শেখ বলেন, ‘এখন আমাদের জমিগুলো পতিত হয়ে পড়ে আছে। অন্য কোনো ফসল করার সময় এখন আর নেই। আমরা গরিব কৃষক বর্গা জমি নিয়ে পেঁয়াজের আবাদ করেছিলাম। এখন এঅবস্থায় আমরা কি করব, ভেবে কোনো কুলকিনারা পাচ্ছি না। এটাই ছিলো আমাদের কপালে।’ 

কাজলা ইউপি চেয়ারম্যান রাশেদ সরকার বলেন, ‘ওরা চরের গরীব অসহায় চাষী আমার নিজের ১০ বিঘা জমি বর্গা নিয়ে পেঁয়াজের আবাদ করেছিল। কিন্তু বীজের মান ভালো না থাকায় তা গজায়নি। এখন তারা হা-হুতাস করছেন।’ 

সারিয়াকান্দি উপজেলায় কর্মরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা কুদরুত-ই-খুদা বলেন, আমরা গাজীপুর কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের কৃষি বিজ্ঞানীদের সাথে কথা বলেছি। তারা বলেছেন পেঁয়াজের বীজ বপনের পর জমিতে ১৫ থেকে ২০ ডিগ্রী তাপমাত্রা থাকার দরকার ছিল। এ মৌসুমে সেখানে  ৬ থেকে ১০ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রা ওঠা নামা করায় পেঁয়াজের বীজ ভাল গজায়নি। এছাড়াও বীজে পরাগায়নের সময় ঠিক মতো পরাগায়ন না ঘটার কারণে বীজে সমস্যা হতে পারে।’

জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল হালিম বলেন, ‘পেঁয়াজের বীজের মান ভাল ছিল। তাছাড়াও  এই সমস্যা তো কেবল আমাদের এখানে না। খোঁজ খবর নিয়ে আমরা জানতে পেরেছি চলতি মৌসুমে দেশের বিভিন্ন স্থানে এ সমস্যা হয়েছে। এ এলাকার কৃষকরা দেরিতে পেঁয়াজ বীজ বপন করার কারণে ঠিক মতো গজায়নি।’

তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের পরবর্তীতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রণোদনা দেয়া হবে।