Joy Jugantor | online newspaper

পত্নীতলায় প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখেছেন সাবেক ইউএনও রোমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭:৩৩, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৩

পত্নীতলায় প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখেছেন সাবেক ইউএনও রোমানা

ছবি: জয়যুগান্তর

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে গত  সাত ডিসেম্বর এক প্রজ্ঞাপনে দ্বিতীয় ধাপে সারা দেশের ১১০ জন ইউএনওকে বদলী করা হয়। যেই তালিকায় রয়েছে নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রোমানা আফরোজ এর নাম। 

বগুড়া জেলার আদমদিঘী উপজেলায় ইউএনও হিসেবে বদলী করা হয়েছে তাকে। গত সোমবার (১১ ডিসেম্বর) পত্নীতলা উপজেলায় শেষ কর্মদিবস ছিল ইউএনও রোমানা আফরোজের। এ উপজেলায় ১ বছর দেড় মাস দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সর্বক্ষেত্রে স্থানীয়দের মুখে প্রশংসায় ভেসেছেন তিনি।

২০২২ সালের ২৫ আগস্ট পত্নীতলায় ইউএনও হিসেবে যোগদান করেছিলেন মোছা. রোমানা আফরোজ। তার যোগদানের আগেও উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের নতুন ভবনে সেবা গ্রহীতাদের জন্য বসার কোন জায়গা ছিল না। সেটি নজরে এলে প্রথমেই রোমানা আফরোজ সেবা গ্রহীতাদের বসার সুজস্বিত স্থান নির্মাণ করে দেন। 

ইউএনও হিসেবে এ উপজেলায় যোগদানের পর থেকেই শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারিরিক বিকাশে বহুমুখী পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছিলেন রোমানা আফরোজ। চকনিরখিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শিক্ষার্থীদের পুষ্টি চাহিদা মেটাতে নেন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। 

উপজেলা প্রশাসনের অর্থায়নে বিদ্যালয়টিতে নির্মাণ করা হয় দুধ-ডিমের ক্যান্টিন। যা বর্তমানে ওই বিদ্যালয়ের শিশু শিক্ষার্থীদের পুষ্টি চাহিদা পূরণ করছে। এতে বিদ্যালয়টিতে বেড়েছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও। এছাড়া আমবাটি বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের জন্য বিদ্যালয়টিতে ফিজিওথেরাপী মেশিন সরবরাহ করেছেন তিনি। 

১ বছর আগেও বৈজ্ঞানিক সরঞ্জামের অভাবে নজিপুর মহিলা কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক ক্লাস করা হতো না। সেই কলেজে বৈজ্ঞানিক সরঞ্জাম সরবরাহ করেছেন ইউএনও রোমানা আফরোজ। 

বছরজুড়ে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করেছেন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। মান্দাইন আবেদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করতে বিদ্যালয়টির সৌন্দর্য বর্ধন করেছেন তিনি। সেখানকার শিক্ষার্থীদের জন্য নির্মাণ করেছেন সাইকেল গ্যারেজ। ক্রীড়াঙ্গনেও ইউএনও হিসেবে রেখেছেন উল্লেখযোগ্য ভূমিকা। 

তরুণ প্রজন্মের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ এবং মাদক থেকে দূরে রাখতে উপজেলায় প্রথমবারের মতো সুলতানা কামাল ইনডোর ব্যাডমিন্টন ক্লাব, নজিপুর মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে কংক্রিটের ক্রিকেট পিচ নির্মাণ, মেডিকেল এ্যাসিস্টান্ট ট্রেনিং স্কুল (ম্যাটস)-এ ব্যাডমিন্টন গ্রাউন্ড নির্মাণ হয়েছে রোমানা আফরোজের হাত ধরেই। 

আশ্রায়ন প্রকল্পের বাসিন্দার শিশুদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশে সুন্দরপুরে প্রথম শিশু পার্ক নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। যা অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়ে দৃশ্যমান হবে। ঐতিহাসিক দিবর দিঘী কেন্দ্রিক পর্যটন বিকাশে দিবর দিঘীতে দর্শণার্থীদের জন্য বসার বেঞ্চ ও ওয়াশরুম নির্মাণ করেছেন তিনি। উপজেলা পরিষদের সামনের পতিত জমিতে মডেল সবজি বাগান নির্মাণ করেছেন তিনি। এছাড়াও উপজেলার মডেল মসজিদের সৌন্দর্যবর্ধন করেছেন রোমানা আফরোজ।

তার সৃজনশীল পরিকল্পনায় উদ্ভাবনী এসব উদ্যোগ উপজেলার সকল মহলে বেশ প্রশংসিত হয়েছে। ইউএও হিসেবে যোগদানের পর থেকে সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করায় উপজেলার সর্বস্তরের মানুষ খুব সহজেই আসতে পারতেন তার কাছে। সেবাগ্রহীতারা খুব সহজে তার কাছে আসতে পেয়ে বেশ খুশি হতেন।

পত্নীতলা উপজেলার একাধিক বাসিন্দা বলেন, অসহায় ও দুঃস্থরা কখনোই ইউএনও রোমানা আফরোজের কাছে গিয়ে খালি হাতে ফেরেনি। সকলের সাথে সবসময় হাসিমুখে কথা বলতেন তিনি। মাদকে অধ্যুষিত এই উপজেলার তরুণরা এখন খেলাধুলায় মেতেছে। প্রতিটা বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বেড়েছে।  এক বছরে পুরো উপজেলার সর্বক্ষেত্রে প্রশংসনীয় পরিবর্তন এনেছেন তিনি। এমন সৃজনশীল ইউএনওর আকস্মিক বদলীর খবরে তারা অনেকটাই উদ্বীগ্ন।

পত্নীতলার সদ্য বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রোমানা আফরোজ বলেন, পত্নীতলাকে মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে সবসময় চেষ্টা চালিয়ে গেছি। এর জন্য এক বছর দেড় মাস খুবই কম সময় ছিল। উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড করতে গিয়ে স্থানীয় জনগণের সাথে একটা গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। তাদের আন্তরিকতায় প্রতিনিয়ত মুগ্ধ হয়েছি।