Joy Jugantor | online newspaper

ডমিঙ্গোর উদাসীনতায় মুখ থুবড়ে পড়ছে বাংলার ক্রিকেট

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৫:১২, ১৪ জানুয়ারি ২০২২

ডমিঙ্গোর উদাসীনতায় মুখ থুবড়ে পড়ছে বাংলার ক্রিকেট

ডমিঙ্গোর উদাসীনতায় মুখ থুবড়ে পড়ছে বাংলার ক্রিকেট

রাসেল ডমিঙ্গোর উদাসীনতায় একের পর এক মুখ থুবড়ে পড়ছে বাংলার ক্রিকেট। সাউথ আফ্রিকান হেডমাস্টারের পরিকল্পনাহীনতা আর সঠিক সময়ে ঠিক সিদ্ধান্ত না নেয়ার ফলে টেকসই হয়নি কোনো উন্নয়ন। 

কখনো খেলোয়াড়দের নৈপুণ্য, কখনো আবার মিরপুরের উইকেটে কারিশমায় কিছু জয়ে মুখ বেঁচেছে অবশ্য। তবে সেই জয়ে কোচ ডমিঙ্গোর কেরামতি অনেকটা ঝড়ে বক মরার মতোই বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা। 

বায়ার্ন মিউনিখের পুনরুত্থানের গল্পটা সবাই কমবেশি জানেন, এটাও জানে যে সেই উত্থানের মূল কারিগর ছিলেন হান্সি ফ্লিক, যার ক্লিকেই বদলে গিয়েছিলো পুরো বায়ারিয়ানরা, দায়িত্ব নেয়ার এক বছরের মাথাতেই কীভাবে এই লোকটা দলটাকে খোলনলচে বদলে দিলো, সেটা এখনো অনেকের কাছেই বড় বিস্ময়।

তবে হান্সির কোনো জাদুর চেরাগ ছিলো না, কেবল কিছু কৌশল মেনেই অল্পতে অনেক পেয়েছিলেন হান্সি; যার প্রথম মন্ত্র ছিলো নেতিয়ে পড়া দলটার খেলোয়াড়দের মধ্যে সম্পর্ক বৃদ্ধি করা; মানে খেলোয়াড়দের মাঝে যে ব্যক্তিগত দূরত্ব আছে তা দূর করা।

এরপরের কৌশল ম্যান ম্যানেজমেন্ট, মানে সব খেলোয়াড়দের সাথে ব্যক্তিগত সম্পর্ক বাড়িয়ে তাদের শক্তি আর দুর্বলতাটুকু বুঝিয়ে দেয়া, যাতে তারা নিজেদের চিনতে পারে, আর সেই চেনা থেকেই বের করে আনতে পারে নিজের সেরাটুকু।

এরপর মাঠের প্রতিপক্ষকে চেনার কাজটাও সুন্দরভাবে করতেন হান্সি, আর তাদের শক্তি আর দুর্বলতা বুঝিয়েই সাজাতেন দল; এরপর শুরু হতো প্রশিক্ষণ; যেই প্রশিক্ষণে খেলোয়াড়দের যেমন শারীরিকভাবে ফিট রাখা হতো, তেমন মানসিকভাবেও রাখা হতো চাঙা; সবমিলিয়ে চার ফর্মুলাতেই চমক, একের পর এক শিরোপা জিতেছে বায়াবারিয়ানরা।

হান্সি দুই বছরের কম সময়ে যা পেরেছেন, তার সিঁকিভাগও পারেননি বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের কোচ রাসেল ডমিঙ্গো, তার তিন বছরে ক্রিকেটের উন্নতির চেয়ে অবনতির মানচিত্রটাই হয়ে বেশি ভারী।

আর এই অবনতির প্রধান কারণ, কোনো পরিকল্পনাই করতে পারেননি ডমিঙ্গো; উল্টো ক্রিকেটারদের মধ্যে সম্পর্ক বৃদ্ধি নয়; তার আমলেই ভাঙনটা বেড়েছে, দল থেকে সিনিয়র ক্রিকেটারদের ছেটে ফেলার মহড়া হয়েছে বারবার।

আর ম্যানম্যানেজন্টেও ডমিঙ্গো দারুণ দুর্বল, কোন ক্রিকেটারের শক্তি আর দুর্বলতার কোথায় সেটা নিজেও হয়তো ঠিকমতো জানেন না ডমিঙ্গো, ফলে খেলোয়াড়দের কাছ থেকে সেরাটা বের করে আনা তার জন্য অসম্ভবই বটে।

প্রতিপক্ষের শক্তি আর দুর্বলতার জায়গা জানার যে কৌশল সেখানেও পুরোপুরি ব্যর্থ ডমিঙ্গো, বুঝতে পারেন না উইকেটের চরিত্রও; ফলে সিমিং কন্ডিশানে তার দলে থাকে স্পিনারের আধিক্য; আর ঘূর্ণির বাঁক তিনি কাবু করতে চান গতির দৌরাত্ম্যে।

প্রশিক্ষণের সাধনাতেও ডমিঙ্গো সাধুবাদ পাবার মতো তেমন কিছুই করতে পারেননি, তার কোচিং টেকনিক নিয়েও বরাবরই আছে নানা প্রশ্ন; সবমিলিয়ে দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনাহীন ডমিঙ্গোকে আরো একযুগ সময় দিলেও যে কিছু করতে পারবেন সেকথা হলফ করে বলা যায় কী?