Joy Jugantor | online newspaper

আবারো হৃদয়ভাঙার গান ক্রিকেট আকাশে

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৩:৪৯, ৩০ নভেম্বর ২০২১

আবারো হৃদয়ভাঙার গান ক্রিকেট আকাশে

ছবি সংগৃহীত

পথহারা নাবিক উত্তাল সমুদ্রের মাঝপথে হারিয়ে লাইট হাউজের খোঁজে থাকেন। খুঁজে পান না বলে ফেরা হয় না বন্দরে। ঢাল তলোয়ারবিহীন যোদ্ধা যেমন যুদ্ধক্ষেত্রে অকেজো তেমনি চৌকস সেনাপতি ছাড়া যুদ্ধে জয় আনা অকল্পনীয়।

মেহেদী হাসান মিরাজের অফস্টাম্পের বাইরের বল টেনে সুইপ করে বাউন্ডারিতে পাঠালেন আজহার আলী। পাকিস্তানের জয়সূচক রানটা চলে এলো অতি সহজে। চোখে মুখে মুমিনুল হকের সে কী বিষন্নতা, একরাশ হতাশা, ভেতরে অন্তঃদহন। জার্সিতে মুখ ঢাকার চেষ্টা করলেন নাকি ঘাম মুছলেন তা বোঝা গেল না। তবে দলের টানা ব্যর্থতা যে আর ছোট কাঁধে ধরছে না তা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের দ্বিতীয় আসরের প্রথম ম্যাচ হার ৮ উইকেটে!

বাংলাদেশের অধিনায়ক মাথায় নিজে হ্যাট পরেন। আম্পায়াররা বোলারদের ক্যাপ নেন না বলে মুমিনুলের মাথায় আরো দুই-তিনেক ক্যাপ থাকে। সেই বোঝার থেকেও মুমিনুলের কাঁধে দলের ব্যর্থতার বোঝা দিনকে দিন আরো বেড়েই যাচ্ছে। চট্টগ্রামে যোগ হলো আরেকটি হৃদয়ভাঙার গল্প। অথচ এবার বাংলাদেশ লিড পেয়েছিল। লিড নিয়েও ম্যাচ হারল!

বলা হয় টেস্টের প্রথম ইনিংসই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয়। পরিসংখ্যানেও এর সত্যতা রয়েছে। প্রথম ইনিংসে ভালো করেছেন তো ম্যাচে ফল নিজেদের পক্ষে আনা সম্ভব। আর হিতে বিপরীত হলেই গণ্ডগোল। কিন্তু সাগরপারের স্টেডিয়ামে প্রথম ইনিংসে ৪৪ রানের লিড পাওয়ার পরও বাংলাদেশ বিষন্নতার ফিসফিসানিতে হারিয়ে গেল। এভাবেও কেন ম্যাচ হারছি? সেই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে চারপাশ।

২০২ রানের লক্ষ্য ছোঁয়ার কাজ চতুর্থ দিনই সেরে রেখেছিল অতিথিরা। হাতে ১০ উইকেট রেখে আজ ৯৩ রান করতে হতো পাকিস্তানের। এর আগে চারবার টেস্টে ১০ উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ। দুবার ওয়েস্ট ইন্ডিজ, একবার করে শ্রীলঙ্কা ও ভারতের বিপক্ষে। আবিদ আলী ও আব্দুল্লাহ শফিক যেভাবে রানের পসরা সাজিয়েছিলেন তাতে মনে হচ্ছিল বাংলাদেশের জন্য আরেকটি ১০ উইকেটে ম্যাচ হারের রেকর্ড যুক্ত হতে যাচ্ছে। কিন্তু দ্বিতীয় ঘণ্টায় মিরাজ ও তাইজুলের জোড়া আঘাতে ২ উইকেট হারায় পাকিস্তান।

রাউন্ড দ্য উইকেট থেকে বোলিংয়ে এসে টার্ন পাওয়ায় মিরাজের বোলিংয়ে ধার বেড়েছিল। তার বল সুইপ করতে গিয়ে এলবিডব্লিউ হন ৭৩ রান করা শফিক। জয় ততক্ষণে প্রায় হাতছোঁয়া দূরে পাকিস্তানের। আবিদের সেঞ্চুরির দিকেই নজর ছিল সবার। বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই ইনিংসে সেঞ্চুরির কীর্তি আছে সাতটি। চার ব্যাটসম্যান করেছেন এমন কিছু।

প্রথম ইনিংসে ১৩৩ রান করা আবিদের সুযোগ ছিল এলিট ক্লাবে নাম লেখানোর। কিন্তু তাইজুলের আর্ম ডেলিভারিতে তেমন কিছু হলো না। ৯১ রানে তার বল মিস করে এলবিডব্লিউ ডানহাতি ব্যাটসম্যান। জয়ের বাকি কাজ সারেন অধিনায়ক বাবর আজম (১৩*) ও আজহার আলী (২৪*)।

পাকিস্তানের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াইয়ে দ্বিতীয় জয়ের দিনে বাংলাদেশের খাতায় যুক্ত হলো পরাজয়। তাই তো আবারো দেশের ক্রিকেট আকাশে হৃদয় ভাঙার গান। জয়ের কোনো উপায় কি জানা আছে মুমিনুলদের? ম্যাচ শেষে মুমিনুলের সহজ স্বীকারক্তি, ‘কিভাবে টেস্ট জিততে হবে আমাদের তা জানতে হবে।’ হৃদয় না ভাঙলে এমন অপ্রিয় কথাটা নিশ্চয়ই বলতেন না বাংলাদেশের অধিনায়ক।