Joy Jugantor | online newspaper

ম্যারাডোনাকে ঘৃণা করা যায়, অস্বীকার করা যায়না

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৬:৩৬, ২৫ নভেম্বর ২০২১

ম্যারাডোনাকে ঘৃণা করা যায়, অস্বীকার করা যায়না

সংগৃহীত ছবি

জীবনের মঞ্চ ছেড়ে, মৃত্যু নামক অমোঘ সত্যের কাছে হার মেনে, পরপারে পাড়ি জমিয়েছিলেন ফুটবল ঈশ্বর দিয়াগো ম্যারাডোনা। তার হঠাৎ এমন চলে যাওয়ায় এক পৃথিবী শূন্যতা ভর করেছে বিশ্ব ফুটবলে। তবে নক্ষত্রেরতো মৃত্যু নেই, হারায় না মহারথী মহাকালের ঠুনকো ধুলোয়। 

ম্যারাডোনা আছেন, থাকবেন অবিনশ্বর হয়ে। লাপাজ থেকে বুয়েনস আয়ার্স, বার্সেলোনা থেকে নেপলস-সবখানেই মশাল জ্বলছে বরপুত্রের নামে। মাঠের বিদ্রোহী, জীবনের বিপ্লবী ম্যারাডোনার প্রথম প্রয়াণ দিবসে অতল শ্রদ্ধা।

পলকের অলকানন্দা পেছনে ফেলে মহাকাল, জলের গহন সীমাপ্রাচীর ঠেলে জলেই ডোবে জল, এখানে মানুষ রোজই, রোজই চলে যায়, কালে নিত্য খেলায় কেবল পায়ের ছাপ রেখে যায়। 

ফুটবলে ঘর বাঁধা দিয়াগো ম্যারাডোনাও জীবন মরণের সীমানা ছাড়া উঠে গেছেন কোনো এক ঊর্ধ্বপানে দূর গগনে, যে নক্ষত্র ধরা যায় না, ছোঁয়া যায়; কেবল তার দ্যূতি মেখে গায়, বহুকাল বহুবর্ষ বিগুগ্ধ চোখে জীবন চেখে দেখা যায়।

ফুটবলে ঝড়ে গতি আসা ম্যারাডোনা ভূমিকম্পের মতো কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন সব, বদলে দিয়েছিলেন খেলাটার মানে, মানুষ পেয়েছিল এক নতুন অনুভব। ফকল্যান্ড যুদ্ধের প্রতিশোধে ইংলিশদের বিপক্ষের সেই ঐতিহাসিক ম্যাচে দারুণ এক কাজ করে বসলেন ম্যারাডোনা, ফুটবল পেলো নতুন এক টার্ম হ্যান্ড অব গড।

হাত দিয়ে গোল দেয়া বৈধ নয়, ম্যারাডোনা সে কথা জানতেন; তবুও এ নিয়ে তার কোনো অনুশোচনা ছিলো না, উল্টো বলেছেন, সাম্রাজ্যের বাদের প্রতিবাদে যে হাত দেয় চপেটাঘাত, তাকেই হ্যান্ড অব গড বলে উল্টো গর্ব করাই যায়।

ফুটবল মাঠ কিংবা যাপিত জীবন শৃঙ্খলা শব্দটা কোনোদিনও মানেনি ফুটবল ঈশ্বর, চলেছেন নিজের তানে, একের পর এক বিতর্ক, নিষিদ্ধ জগত, কখনো যৌন কেলেঙ্কারি, কখনো মাদক। চৌদ্দ শিকেট খপ্পর, হঠাৎ ক্যারিয়ারের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেয়া। কী দেখেনি ওই বেহিসাবি জীবন।

ম্যারাডোনাকে ঘৃণা করা যায়, অস্বীকার করা যায়না

এইসব আলাপে খুব সহজেই ম্যারাডোনা খলনায়ক বনে যান, আবার কোনো এক ক্লাইমেক্সে এসে দিব্যি নায়ক বনে যান, আপনি মানবে কাকে আর ফেলবেন কোন ম্যারাডোনাকে দিব্যি ধাঁধায় পড়ে যাবেন।

মাঠের বিদ্রোহী ম্যারাডোনা আজীবন ছিলেন স্বৈরাচারের বিপক্ষে, ফিদেল কাস্ত্রো ছিলেন তার বড় বন্ধু, দুর্দিনে বুক উঁচু করে গলা চড়িয়ে দাঁড়িয়েছেন ফিলিস্তিনিদের পক্ষে।

ব্যক্তি ম্যারাডোনা কলঙ্ক কতোটা, কতোটা বেঢক তিনি কাজে, সেসবের ঊর্ধ্বে যে আলাপ, সেই ফুটবলে এখনো তারই রণডঙ্কা বাজে। দূর গগনে আজও ঐ শোনা যায়, চলে যাওয়া মানেই প্রস্থান নয়। আবার রবীর বাণীর সঞ্চয়নে কেউ বলে যায়, আছে দুঃখ আছে মৃত্যু, বিরহ দহনও লাগে, তবু শান্তি, তবুও আনন্দ তবু অন্তত জাগে। আর জেগে থাকা সেই অনন্তলোকে ভালো থাক ফুটবলের ম্যারাডোনা, প্রতিবাদ প্রতিরোধ আর বিপ্লবের ম্যারাডোনা।