Joy Jugantor | online newspaper

যেভাবে ঝিনুক চাষে মুক্তা বিক্রি করে লাভবান হওয়া যায়

প্রকাশিত: ১০:১১, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১

আপডেট: ১০:১২, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১

যেভাবে ঝিনুক চাষে মুক্তা বিক্রি করে লাভবান হওয়া যায়

ছবি : সংগৃহীত

গবেষকদের মতে, অনুকূল আবহাওয়া, দেশজুড়ে অসংখ্য পুকুর জলাশয় থাকা আর উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় মুক্তা চাষে চাষিদের মধ্যে আগ্রহ বাড়ছে। এক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে মুক্তার বাজার বড় না হওয়া। কয়েকজন চাষিরা জানিয়েছেন, ভারতীয় কিছু প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সাড়া পাচ্ছেন তারা। এ কারণে তারাও বেশ আগ্রহী হচ্ছেন।

মৎস্য গবেষণা ইন্সটিটিউটের বিজ্ঞানীরা বলছেন, বাজারে মুক্তার চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় কিছু বড় প্রতিষ্ঠান মুক্তা চাষে এগিয়ে আসছে। এতে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে সুফল পাওয়া যেতে পারে।


 
পরিচালক ও প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডঃ মোহসেনা বেগম তনু বলেন, শতাধিক কৃষককে প্রশিক্ষণ দিয়েছি আমরা। প্রযুক্তি দিয়েছি। আবার তারা অনেককে শেখাচ্ছেন। রাজধানী ঢাকার কয়েকটি নামকরা প্রতিষ্ঠান মুক্তা কেনা শুরু করেছে। আবার সুপরিচিত একটি প্রতিষ্ঠান নিজেরাই মুক্তা চাষ করতে যাচ্ছেন।

মুক্তা কী? কী কাজে লাগে এবং কোথায় পাওয়া যায়?
মুক্তা খুবই মূল্যবান রত্ন হিসেবে পরিচিত। এটি সাধারণত গহনা তৈরিতে ব্যবহার হয়। এছাড়াও কিছু রোগের চিকিৎসায় মুক্তা ব্যবহার হয় বলে জনশ্রুতি রয়েছে।

মুক্তার একমাত্র উৎস ঝিনুক। একসময় প্রাকৃতিকভাবে ঝিনুকে মুক্তা উৎপন্ন হতো আর তা আহরণ করে জেলে বা চাষিরা মুক্তা সংগ্রহ করতো। পরে মুক্তা উৎপাদন কৌশল উদ্ভাবিত হওয়ার জন্য বিশ্বজুড়ে এর উৎপাদন ব্যাপকভাবে বেড়েছে।

ডঃ মাহসেনা বেগম বলেন, বাংলাদেশেও ঝিনুক চাষ ও প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে মুক্তা উৎপাদন শুরু হয়েছে এবং এতে চাষিরা সফল হচ্ছেন। দেশের পুকুর জলাশয়ে এমনিতে মাছের সঙ্গে ঝিনুক পাওয়া যায়। তবে এখন অনেকে মাছের সঙ্গেই ঝিনুক চাষ করে সাফল্য পাচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, আমরা গবেষণায় দেখেছি বাংলাদেশে একটি ঝিনুকে ১০ থেকে ১২টি মুক্তা জন্মায়। প্রতিটি মুক্তার খুচরা মূল্য অন্তত ৫০ টাকা। প্রতি শতাংশে ৬০-১০০টি ঝিনুক চাষ সম্ভব এবং প্রতি শতাংশে ৮০টি ঝিনুকে গড়ে ১০টি করে ৮০০ মুক্তা পাওয়া গেলে বাজারমূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৪০ হাজার টাকা। আর প্রতি একরে ৪০ লাখ টাকার মুক্তা উৎপাদন সম্ভব।
চাষি ঝিনুকের মাংস মাছ ও চিংড়ির উপাদেয় খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়া ঝিনুকের খোলস থেকে চুন, বোতাম, গহনা তৈরি এবং খোলস চূর্ণ করে পশু খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায়। তবে গহনায় অনেকেই মুক্তা পছন্দ করেন।


 কীভাবে চাষ করা হয় :
দেশে এ পর্যন্ত পাঁচ ধরনের ঝিনুক পেয়েছে মুক্তা উৎপাদনকারীরা। এর মধ্যে একটি ঝিনুক থেকে সর্বোচ্চ ১২টি পর্যন্ত মুক্তা পাওয়া যেতে পারে। মুক্তার ক্ষেত্রে এর রং অনেক গুরুত্বপূর্ণ এবং এ পর্যন্ত দেশে চার রংয়ের মুক্তা পাওয়া গেছে।মুক্তাচাষি সাজ্জাদুর রহমান জানিয়েছেন, ঝিনুক সংগ্রহের পর এতে এক প্রকার বিশেষ ‘ডাইজ’ স্থাপন করতে হয় এবং নিউক্লিয়াস পদ্ধতিতে টিস্যু প্রতিস্থাপন করে ঝিনুককে ফের পানিতে ছেড়ে দেয়া হয়। টিস্যু প্রতিস্থাপনের সময় বিভিন্ন নকশা দেয়া হয়। এরপর ঝিনুক পানিতে ছাড়ার ক’মাস পর নকশার মতো মুক্তা তৈরি হয়।