Joy Jugantor | online newspaper

মুনিয়া মৃত্যু: বগুড়ায় বসুন্ধরা গ্রুপের এমডিকে গ্রেফতারের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬:৪৮, ২ মে ২০২১

মুনিয়া মৃত্যু: বগুড়ায় বসুন্ধরা গ্রুপের এমডিকে গ্রেফতারের দাবি

বগুড়ার সাতমাথায় সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম ও ছাত্রফ্রন্ট।

মোসারাত জাহান মুনিয়ার মৃত্যুর জন্য দায়ী বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি সায়েম সোবহান আনভীরকে গ্রেফতারের দাবিতে বগুড়ায় মানববন্ধন হয়েছে। রোববার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে শহরের সাতমাথায় এই মানববন্ধন করে জেলা সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট।

মানববন্ধনে সমাবেশের আয়োজন করে সংগঠন দুটি। এতে সভাপতিত্ব করেন সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম জেলা আহ্বায়ক দিলরুবা নূরী। সমাবেশের সভাপতি বলেন, ‘মুনিয়ার লাশ ২৬ এপ্রিল উদ্ধার হয়। ঐদিনই তার বোন মৃত্যুর জন্য দায়ি করে বসুন্ধরা গ্রুপের এমডির বিরুদ্ধে মামলা করে। অথচ আসামীকে এখন পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়নি।’

দিলরুবা নূরী আরও বলেন, ‘এটা ন্যাক্কারজনক একটি চিত্র, অপরাধী অপরাধ করে অথচ তাকে আইনের আওতায় আনা হয় না। কারন তার আধিপত্য আছে, টাকা আছে।  এমনি করে বারবারই অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। আর অপরাধ প্রবনতা আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে ।’ 

এ সময় বাসদের জেলা আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম পল্টু জানান, আনভীর একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। তিনি গ্রেফতার না হলে তদন্তে কার্যে এর প্রভাব পড়বে এবং তদন্ত সুষ্ঠু হবে না। কিন্তু আমরা আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলতে দেখলাম তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় আনভীর অপরাধী তাহলে তাকে গ্রেফতার করা হবে। অথচ ১৫৪ ধারায় সুস্পষ্টভাবে বলা আছে, আমলযোগ্য অপরাধে আসামীকে গ্রেফতারের কথা। মন্ত্রীর অপরাধীর পক্ষে এই অবস্থানই বলে দেয় তদন্ত কতখানি নিরপেক্ষ হতে পারে?

বাসদের জেলা আহ্বায়ক বলেন, ‘নারীর জীবনের নিরাপত্তা দিতে পারে না স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অথচ অপরাধীর পক্ষে আইনের বাইরে অবস্থান নেয়। তার এই পদে থাকার কোনো নৈতিক অধিকার থাকে না।’

মুনিয়ার ঘটনাতেই দেখা গেলো আমাদের মিডিয়াগুলো কতটুকু স্বাধীন বলে উল্লেখ করেন সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম জেলা সংগঠক রাধা রানী বর্মন। তার ভাষ্য, গণমাধ্যমকে সমাজের দর্পন বলে জানি অথচ আমরা দেখলাম আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে ভিকটিমের তথ্যসহ ছবি প্রকাশ করছে আর আসামীর চেহারা ব্লা করে দিচ্ছে। অন্যদিকে যে মানুষটি ইতিমধ্যে মারা গেছে তার চরিত্র নিয়ে চলছে টানাটানি। এটা নারী ধর্ষণের ঘটনা ঘটলে বারবারই করা হয়ে থাকে।

সাক্ষ্য আইন ১৮৭২ এর ১৫৫(৪) ধারাটির প্রচলনের মাধ্যমে মানুষের এমন ধারনা জন্মেছে। তারা বিচার করার ক্ষেত্রে নারী অতীত চরিত্রকে বিবেচনা করেন। নারী নির্যাতনের বিচার নিশ্চিত করতে হলে অবিলম্বে এই ধারাটি বাতিল করা প্রয়োজন বলে জানান রাধা রানী। 

সমাবেশে অন্যান্য নেতারা বলেন, অভিযুক্ত প্রভাবশালী। তাই বিচারকাজে যেন কোন প্রভাব না পড়ে, সেজন্য অভিযুক্তকে আগাম জামিন নয়। বরং দ্রুত গ্রেফতার করা জরুরী। আর এই ঘটনাটি একটি আমলযোগ্য অপরাধের ঘটনা, যার সাথে আসামীর যুক্ততা নিশ্চিতভাবে রয়েছে কাজেই এই মামলায় আসামীর আগাম জামিনের প্রশ্নই উঠতে পারে না। 

নেতৃবৃন্দ দ্রুত আসামী আনভীরকে গ্রেফতার করে মুনিয়ার মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান এবং বিচার কার্য সম্পন্ন করার দাবি জানান। তারা আরও দাবি তুলেন, অভিযুক্তকে রক্ষা করতে এটিকে যেন কোনভাবেই অন্য কোনদিকে মোড় দেওয়া না হয়।

এ সময় সমাবেশে আরও ছিলেন সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম বগুড়া জেলা সংগঠক আকলিমা বেগম, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট জেলা সভাপতি ধনঞ্জয় বর্মন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট সরকারি আজিজুল হক কলেজ শাখার সদস্য সচিব নিয়তি সরকার নিতু।