Joy Jugantor | online newspaper

‘ইতিহাস থেকে সরকার কোন শিক্ষা নেয়নি’

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩:১৬, ১২ এপ্রিল ২০২১

আপডেট: ১৩:২৫, ১২ এপ্রিল ২০২১

‘ইতিহাস থেকে সরকার কোন শিক্ষা নেয়নি’

সোমবার ছয় দফা দাবিতে সমাবেশ করে বগুড়া বাম গণতান্ত্রিক জোট।

ইতিহাস থেকে বর্তমান সরকার কোন শিক্ষা নেয়নি। এমন মন্তব্য করেছেন বাম গণতান্ত্রিক জোট বগুড়ার সমন্বয় ও সিপিবি জেলা সভাপতি জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না।  

সোমবার (১২ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে বগুড়ার সাতমাথায় এক মানববন্ধনে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে করোনা মোকাবেলায় সর্বদলীয় জাতীয় কমিটি গঠন এবং লকডাউনে শ্রমজীবী মানুষের খাবার, নগদ অর্থ সহায়তা ও চিকিৎসা নিশ্চিতসহ ৬ দফা দাবিতে এই মানববন্ধন হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জিন্নাতুল ইসলাম।

জোটের সমন্বয়ক বলেন, ইতিহাস বলে প্লেগ, ‘স্প্যানিস ফ্লুসহ সকল মহামারীতে দ্বিতীয় ঢেউয়ে আগের তুলনায় বেশি মানুষ মারা গেছেন।  কিন্তু ইতিহাস থেকে বর্তমানর সরকার কোন শিক্ষা নেয়নি। ফলে করোনা মোকাবেলায় প্রথমে বলেছিল সরকার করোনার চেয়ে বেশি শক্তিশালী এবং পরে বলা হল আমরা করোনা জয় করে ফেলেছি। ‘

‘এই দম্ভ এবং আত্মতৃপ্তির কারনেই করোনা পরিস্থিতি আজ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে, ভয়াবহ রূপ ধারন করেছে।’

জিন্নাতুল ইসলাম জানান, গত ১৩ মাসের অধিক সময় পেলেও সরকার স্বাস্থ্যখাতে যে সকল প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলার দরকার ছিল তার কোন কিছুই করেনি।  এ জন্য দায়ী সরকারের নীতি পরিকল্পন যেমন  দায়ী, তেমনি দায়ী দুর্নীতি, লুটপাটের ফলে স্বাস্থ্যখাতের বেহাল দশা। 

বাম জোটের পক্ষ থেকে গত বছর ফিল্ড হাসপাতালের কথা বলা হলেও সরকার কর্ণপাত করেনি বলে উল্লেখ করেন সমাবেশের সভাপতি। তিনি বলেন, ৩১ কোটি টাকা ব্যয়ে বসুন্ধরায় দুই হাজার বেডের আইসোলেশন সেন্টার করা হয়। মহাখালীতে ১২০০ বেডের হাসপাতাল ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। এগুলো ঢাকঢোল পিটিয়ে প্রচার করা হল।  কিন্তু কোন রোগীর চিকিৎসা ছাড়াই হাসপাতাল ২টি উধাও হয়ে গেল।  এ যেন চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য সেবা নামে এক হরিলুট কারবার। 

সমাবেশে বাসদের জেলা আহ্বায়ক অ্যাভোকেট সাইফুল ইসলাম পল্টু বলেন, করোনার নতুন ভেরিয়েন্ট আসার কথা বিসিএসআইআর জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে জানিয়েছিল। কিন্তু মুজিববর্ষ ও সুবর্ণ জয়ন্তী ঘটা করে পালন করার জন্য সরকার বিষয়টি গোপন করে। এতে করে অনেক বেশি তীব্রতা সম্পন্ন করোনা ভেরিয়েন্ট আগ্রাসী সংক্রমণ করে চলেছে। 

সাইফুল ইসলাম আরও বলেন, এখন হাসপাতালে রোগীর সংকুলান হচ্ছে না। গত বছরের মত হাসপাতাল থেকে হাসপাতাল ঘুরে রোগীরা অ্যাম্বুলেন্সেই কোন চিকিৎসা ছাড়াই মারা যাচ্ছেন।

‘অথচ গত বছরেই আমরা বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে অধিগ্রহণ করে করোনা চিকিৎসায় ব্যবহার করার জন্য বলেছিলাম। কিন্তু সরকার তা না করে তাদের মুনাফা বানিজ্য করেতে দিয়েছে।’ 

বাসদের জেলা আহ্বায়ক বলেন, এদিকে স্বাস্থ্য সেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক, নার্স, অন্যান্য কর্মীদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রীর অপর্যাপ্ততা, ঝুঁকির ভাতার বিষয়টি অনিশ্চিত থাকায় তাদের মাঝেও ভীতি কাজ করে।  ইতিমধ্যে ১৩৫ জন চিকিৎসক মৃত্যুবরণ করেছেন।  অন্যান্যরা দীর্ঘদিন ধরে সেবা দেয়ায় ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন।  এ বিষয়ে সরকারের পরিকল্পিত উদ্যোগ নেই।

অন্যান্য বক্তারা বলেন, আমাদের দাবি পুনরায় জানাতে চাই। সময় থাকতে সর্বদলীয় কমিটি করে জাতীয়ভাবে করেনা মোকাবেলায় পদকক্ষেপ গ্রহণ করুন।  মানুষ অতীত থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার কোন শিক্ষা নেয়নি। 

সমাবেশে বক্তারা বলেন, লকডাউন দিয়ে বই মেলা, অফিস আদালত খোলা রাখলে সাধারণ মানুষ তা মানবে কেন।  আর দিন এনে দিন খাওয়া মানুষদের দায়িত্ব না নিয়ে লকডাউন দিলে তা কখনই কার্যকর হবে না। 

এ জন্য ১৪ এপ্রিল থেকে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের কাছে ৬ দফা দাবি বাস্তবায়ন করা কথা জানান বাম গণতান্ত্রিক জোট। সমাবেশ শেষে এই দাবির স্মারকলিপি বগুড়া জেলা প্রশাসকের কাছে পৌঁছে দেন তারা।