Joy Jugantor | online newspaper

বগুড়ায় সাংবাদিকদের সাথে বিএনপির মতবিনিয়ম

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮:১৭, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২১

আপডেট: ১৮:৫৪, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২১

বগুড়ায় সাংবাদিকদের সাথে বিএনপির মতবিনিয়ম

অনুষ্ঠানে বিএনপির নেতাকর্মীরা। রোচাস রেস্টেুরেন্টে। শনিবার দুপুরে। ছবি- জয়যুগান্তর

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে বগুড়া রাজশাহী বিভাগের আট জেলা সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করে  বিএনপির মিডিয়া কমিটি।

শনিবার দুপুরে বগুড়ার শেরপুর রোচাস রেস্টেুরেন্টে এই শতাধিক সাংবাদিকদের নিয়ে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য স্বাধীনতার সুবর্ন জয়ন্তী উদযাপন মিডিয়া কমিটির আহ্বায়ক ও সাবেক মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। 

মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, ‘বিএরপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ২৭ মার্চ স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দেন। পাকিস্তানের সশস্ত্র আক্রমণের মুখে দিশেহারা জাতির কাছে সেটাই ছিল আশার আলো। আমি নিজেই রেডিওতে তার বক্তব্য শুনে উজ্জিবিত হয়েছিলাম।’ 

তিনি আরও বলেন , ‘জিয়াউর রহমান স্বয়ং বাংকারে বসে যুদ্ধ পরিচালনা করতে গিয়ে অনেক সময় শত্রুর গোলার মুখে পড়েছিলেন। কিন্তু কখনই ভয় পাননি। পিছু হটেননি। তার নেতৃত্বেই সর্ব প্রথম সিলেট অঞ্চল হানাদার মুক্ত হয়। অথচ আজ বলার অপচেষ্টা করা হচ্ছে যে তিনি নাকি মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না।’

অনুষ্ঠানে বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধ , মুক্তিযুদ্ধে অবদানের বিষয় সবকিছুই আজ এক ব্যক্তির কৃতিত্ব বলে জাহির করতে ইতিহাসের বিকৃতি ঘটাবার অপচেষ্টা শুরু হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে জিয়া আন্তর্জার্তিক বিমান বন্দরের নাম বদলে দেওয়া হয়েছে। চেষ্টা করা হচ্ছে ইতিহাস থেকে জিয়ার নাম মুছে ফেলার এটা প্রতিরোধ করতে হবে।

হাসান মাহমুদ বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ন কমিটির উদ্যোগে দেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রতিটি পর্ব যেমন, ৫২’র রক্তদান, ৫৭তে পশ্চিম পাকিস্তানের প্রতি মাওলানা ভাষানীর আসসালামু আলাইকুম উচ্চারণ, উনসত্তরের গনঅভ্যুত্থান,৭১ এর ১মার্চ, ২মার্চ, ৩মার্চ, ৭ মার্চ ৯ মার্চ  থেকে শুরু করে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধকালের প্রতিটি ঘটনা প্রবাহের মধ্যে যার যতটুকু অবদান আছে বিএনপি সেটা তুলে ধরবে। এজন্য তিনি সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন।

স্বাধীনতার সুবর্ন জয়ন্তী উদযাপন কমিটির আয়োজনে রাজশাহী বিভাগের ৮ জেলার বিভিন্ন পত্রিকা সম্পাদক, বার্তা সম্পাদক, সিনিয়র সাংবাদিক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের নিয়ে এই মতবিনিয়ম সভার আয়োজন করা হয়। 

মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেণ বগুড়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও বগুড়া সদর আসনের সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ। কমিটির সদস্য সদস্য আতিকুর রহমান রুমনের পরিচালনায় এই মতবিনিময় সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা স্বাধীনতার সুবর্ন উদযাপন জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব আব্দুস সালাম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু , বিএনপির ফরিদপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সদস্য সচিব স্বাধীনতার সুবর্ন উদযাপন মিডিয়া  কমিটির সদস্য সচিব শামা ওবায়েদ , দৈনিক দিনকালের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও বগুড়া পৌরসভার মেয়র অ্যাডভোকেট একেএম মাহবুবুর রহমান ও বিএফইউজের মহাসচিব এম আব্দুল্লাহ ।

সভায় আব্দুস সালাম বলেন, বিএনপিই প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের দল। এই সত্য তুলে ধরা আজ জরুরি হয়ে পড়েছে। যার ঘোষণা শুনে মানুষ সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্বুদ্ধ হয়; সেই জিয়াউর রহমান বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা এটা ভুলে গেলে চলবেনা ।

বিশেষ অতিথি শওকত মাহমুদ তার বক্তব্যে বলেন , ৭১ এ জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণায় সাংবাদিকরাও প্রতিরোধে শামিল হয়। জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার শাসনামলেই সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং সাংবাদিকদের রুটি রুজির ব্যবস্থা নিশ্চিত হয়। ভবিষ্যতে দল ক্ষমতায় এলে বর্তমান সরকারের সময়ে নির্যাতিত সাংবাদিকদের মুল্যায়নে বিএনপির অঙ্গিকারাবদ্ধ হওয়ারও দাবি জানান তিনি ।

শামা ওবায়েদ তার বক্তব্যে সাংবাদিকদের সাথে দলের ঘনিষ্ট যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, মুক্তিযুদ্ধ যে কোন একক ব্যক্তি গোষ্টী বা দলের সম্পত্তি নয়, সেটা পরিষ্কার করে তুলে ধরতে হবে।  

অনুষ্ঠানে বগুড়া ৪ আসনের সাংসদ মো. মোশারফ হোসেন, বিএফইউজের মহাসচিব নুরুল আমিন রোকন, কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা শাহীন শওকত, ওবায়দুর রহমান চন্দন , বগুড়া জেলা বিএনপির সিনিয়র নেতা ফজলুল বারী বেলাল, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম, আহসানুল তৈয়ব জাকির, এমআর ইসলাম স্বাধীন, লাভলী রহমান, ছাত্রদল সভাপতি আবু হাসান ও সাধারণ সম্পাদক নুরে আলম সিদ্দিকী রিগ্যান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।