Joy Jugantor | online newspaper

তুলসী পাতার যত গুণ

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১২:১২, ২৭ অক্টোবর ২০২১

তুলসী পাতার যত গুণ

ছবি: সংগৃহীত।

তুলসী পাতার উপকারিতার প্রায় সবারই জানা। তবে তুলসি পাতা কোন কোন ক্ষেত্রে উপকারী, তা অনেকেও জানা না-ও থাকতে পারে। সবুজ রঙের গুল্মজাতীয় একটি উপকারী উদ্ভিদ এটি। শুধু এর পাতা নয়, তুলসী গাছের বীজ, বাকল ও শেকড় সবকিছুই অতি প্রয়োজনীয়। ফুসফুসের দুর্বলতা, কাশি, কুষ্ঠ, শ্বাসকষ্ট, সর্দিজ্বর, চর্মরোগ, বক্ষবেদনা ও হাঁপানি, হাম, বসন্ত, কৃমি, ঘামাচি, রক্তে চিনির পরিমাণ হ্রাস, কীটের দংশন, কানব্যথা, ব্রংকাইটিস, আমাশয় ও অজীর্ণে তুলসী দিয়ে তৈরি ওষুধ বিশেষভাবে কার্যকর। বিশেষ করে কফের প্রাধান্যে যেসব রোগ সৃষ্টি হয়, সে ক্ষেত্রে তুলসী বেশ ফলদায়ক।

এছাড়া মশার কামড় থেকে বাঁচতে হলে মশারি টানানো, অ্যারোসল স্প্রে করা অথবা তীব্র ধোঁয়াযুক্ত কয়েল জ্বালানোর প্রয়োজন পড়বে না। যদি তুলসী থাকে ঘরে। জেনে নেওয়া যাক, তুলসী পাতার নানা গুণ।
 
সর্দি-কাশির যম
শিশুদের সর্দি-কাশির জন্য তুলসী পাতা মহৌষেধর মতো কাজ করলেও যেকোনো বয়সের মানুষই এ থেকে উপকার পাবেন। শিশুর সর্দি-কাশি থাকলে শিশুকে আধা চা চামচ মধু এবং তুলসী পাতার রস খাওয়ালে কাশি কিছুটা কমবে। 

ব্যাথা উপশম করে
মাথা ব্যাথা ও শরীর ব্যাথা কমাতে তুলসী খুবই উপকারী। এর বিশেষ উপাদান মাংশপেশীর খিঁচুনি রোধ করতে সহায়তা করে। 

গলা ব্যথা উপশমে
গলা ব্যথার সমস্যার মোক্ষম সমাধান তুলসি পাতা। এছাড়া শ্বাসকষ্টের সমস্যা কমাতে তুলসি পাতা বেশ উপকারী। কয়েকটি তুলসি পাতা ফুটিয়ে সেই পানি দিয়ে গার্গল করলে গলা ব্যথা দ্রুত সেরে যায়।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে তুলসি পাতা। অ্যাজমা, ফুসফুসের সমস্যা, ব্রঙ্কাইটিস ইত্যাদি মোকাবিলায় কাজ করে এই পাতা। জ্বর সারাতেও তুলসি পাতা সমান উপকারী। তুলসি পাতা ও এলাচ পানিতে ফুটিয়ে সেই পানি পান করলে খুব সহজেই বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। ক্ষতস্থানে তুলসি পাতা বেটে লাগালে তা দ্রুত শুকায়।

পোকার কামড়
তুলসী পাতা হলো প্রোফাইল্যাক্টিভ যা পোকামাকড় কামড় দিলে উপশম করতে সক্ষম। পোকার কামড়ে আক্রান্ত স্থানে তুলসী পাতার তাজা রস লাগিয়ে রাখলেকামড়ের ব্যথা ও জ্বলা থেকে কিছুটা মুক্তি পাওয়া যায়।
 
ত্বকের সমস্যা
তুলসী পাতার রস ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। তুলসী পাতা বেটে সারা মুখে লাগিয়ে রাখলে ত্বক সুন্দর ও মসৃণ হয়। এছাড়াও তিল তেলের মধ্যে তুলসী পাতা ফেলে হালকা গরম করে ত্বকে লাগালে ত্বকের যেকোনো সমস্যায় বেশ উপকার পাওয়া যায়। এছাড়া ত্বকের কোনো অংশ পুড়ে গেলে তুলসীর রস এবং নারকেলের তেল ফেটিয়ে লাগালে জ্বালা কমবে এবং সেখানে কোনো দাগ থাকবে না ৷

ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়
তুলসি পাতা ইনসুলিন উৎপাদনের কাজ করে। প্রতিদিন খাওয়ার আগে তুলসি পাতা খেলে রক্তে সুগারের মাত্রা কমে। তুলসি অ্যান্টি ডায়াবেটিক ওষুধের কাজ করে। তুলসিতে থাকা স্যাপোনিন, ত্রিতারপিনিন ও ফ্ল্যাবোনয়েড ডায়বেটিস রোধ করতে কার্যকরী।
নিয়মিত তুলসী পাতার রস সেবনে রোগ-বালাই থেকে অনেকটাই দূরে থাকা যায়। তাই সুস্থ থাকার জন্য প্রতিদিন অন্তত একটি করে তুলসী পাতা খাওয়া উচিৎ। নিয়মিত তুলসী পাতা পেতে ঘরের বারান্দায় কিংবা বাড়ির উঠোনে একটি তুলসী গাছ লাগিয়ে নিতে পারেন।