Joy Jugantor | online newspaper

কসোভোয় বিক্ষোভ অব্যাহত, আরও ন্যাটো সেনা মোতায়েন

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২১:১৪, ৩১ মে ২০২৩

কসোভোয় বিক্ষোভ অব্যাহত, আরও ন্যাটো সেনা মোতায়েন

কসোভোয় সংঘর্ষের জেরে আরও ন্যাটোর আরও ৭০০ সেনা মোতায়েন। ছবি

দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের দেশ কসোভোর বিক্ষোভ থামাতে ন্যাটো আরও ৭০০ সেনা মোতায়েন করেছে। দেশটিতে আলবেনিয়ান মেয়রদের দায়িত্ব নেওয়ার বিরুদ্ধে নিজেদের দাবিতে অনড় সার্বরা।

গত দুই দিনে প্রায় ৩০ জন ন্যাটোর সেনা আহত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (৩০ মে) কসোভোয় আরও ৭০০ সৈন্য মোতায়েন করার ঘোষণা দেওয়া হয়। নতুন সেনারা ইতোমধ্যে কসোভোয় পৌঁছে গেছেন। প্রয়োজনে যাতে আরও সেনা মোতায়েন করা যায়, তার জন্য রিজার্ভ ফোর্সকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। কসোভোয় ন্যাটোর সেনাকে সংক্ষেপে কসোভো ফোর্স বা কেফোর্স বলে চিহ্নিত করা হয়।

গত সোমবার (২৯ মে) সার্ব অধ্যুষিত কসোভোয় প্রথমে স্থানীয় পুলিশ এবং পরে কেফোর্সের সঙ্গে বিক্ষোভরত সার্বদের তীব্র সংঘর্ষ হয়। পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে এবং গ্রেনেড ছুড়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। সার্বরাও পাল্টা আক্রমণ করেছে। এর জেরে অন্তত ৩০ জন কেফোর্সের জওয়ান গুরুতর আহত হন। হাসপাতালে তাদের চিকিৎসা চলছে। এরপরেই নতুন ফোর্স মোতায়েন করার ঘোষণা দেওয়া হয়।

কসোভোর ৯০ শতাংশ অধিবাসী আলবেনিয়ান, বাকি অংশ সার্ব। যে অঞ্চলে বিক্ষোভ চলছে, তা সার্বিয়া সীমান্তের কাছে। এই অঞ্চলটি সার্ব অধ্যুষিত। ২০১৩ সাল থেকে সার্বদের দাবি, তাদের জন্য পৃথক মিউনিসিপাল সংস্থা তৈরি করে দেওয়া হোক। কিন্তু কসোভোর প্রধানমন্ত্রী কোনোভাবেই তা মেনে নিতে রাজি নন।

দেশটির প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য, ‘এ কাজ করলে কসোভো কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যাবে।’ এরই প্রতিবাদে গত এপ্রিলে ভোট বয়কট করেন সার্বরা। মাত্র সাড়ে তিন শতাংশ ভোট পড়ে ওই অঞ্চলে। আর সেই ভোটে সার্ব অঞ্চলে জয়ী হন আলবেনিয়ান মেয়ররা। গত সোমবার তারা পৌরসভায় বসতে গেলে বিক্ষোভ শুরু হয়।

প্রতিটি পৌরসভা কাঁটাতার দিয়ে ঘিরে দিয়েছে কেফোর্স। বাইরে টহল দিচ্ছে তারা। এর ঠিক বাইরে দাঁড়িয়েই বিক্ষোভ করছেন সার্বরা। মেয়রদেরও নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট এপ্রিলের নির্বাচনকে অন্যায় বলেছেন। তিনি সার্বদের দাবি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।

সোম ও মঙ্গলবারের লড়াইয়ে এ পর্যন্ত ৩০ জন কেফোর্স সদস্য এবং ৫২ জন বিক্ষোভকারী আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আগামী কয়েকদিন উত্তেজনা কমার কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা।