Joy Jugantor | online newspaper

আফ্রিকায় নতুনভাবে করোনা শনাক্তের ৯৫ ভাগই ওমিক্রনে আক্রান্ত

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৬:০৩, ১৪ জানুয়ারি ২০২২

আফ্রিকায় নতুনভাবে করোনা শনাক্তের ৯৫ ভাগই ওমিক্রনে আক্রান্ত

সংগৃহীত ছবি

আফ্রিকায় নতুনভাবে করোনা শনাক্তদের ৯৫ ভাগই ওমিক্রনে আক্রান্ত। বৃহস্পতিবার (১৩ জানুয়ারি) বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাথে ভার্চুয়াল বৈঠকে এ তথ্য দেন আফ্রিকান স্বাস্থ্যবিদরা। এদিনই মহাদেশটিতে এক কোটি ছাড়ায় শনাক্তের সংখ্যা। তবে আফ্রিকায় টিকাদানের গতি নিয়ে উদ্বিগ্ন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটি বলেছে, এ মহাদেশের ৮৫ ভাগের বেশি মানুষ এখনও টিকা পাননি।

গেলো ছয় সপ্তাহে আফ্রিকা মহাদেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে ১২১ শতাংশ বেড়েছে শনাক্তের হার। ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট চিহ্নিত হওয়া প্রথম দেশ দক্ষিণ আফ্রিকার হাসপাতালগুলোর ৯ ভাগ আইসিইউ বেড কোভিড রোগীদের দখলে। পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও, আফ্রিকায় মহামারি নিয়ন্ত্রণের সামগ্রিক চিত্র হতাশাজনক। স্বাস্থ্যবিদরা জানিয়েছেন, টিকাদানে সারা বিশ্ব থেকে অনেক পিছিয়ে আছে মহাদেশটি।

আফ্রিকার সিডিসি পরিচালক জন কেনগাসং বলেন, এক কোটি সংক্রমণ শনাক্ত দেখলো আফ্রিকা। মোট প্রাণহানি দু’লাখ ৩৩ হাজারের বেশি। মহামারির চতুর্থ ওয়েভের মুখোমুখি এখন মহাদেশটির ৪৬ রাষ্ট্র ও অঞ্চল। এর সবগুলোতেই মিলেছে ওমিক্রন। এর মাঝে, ২৮ দেশে সংক্রমণের হার বেড়েছে ৬১ শতাংশ। বছরের প্রথম সপ্তাহে মৃত্যুহারও বেড়েছে ৮৫ ভাগের মতো।

ফুসফুস রোগ বিশেষজ্ঞ অনিতা গ্রাহাম বলেন, মহামারির ফোর্থ ওয়েভে বিপুল সংখ্যক করোনা রোগী শনাক্ত হচ্ছে। আর এদের প্রায় ৯৫ শতাংশই ওমিক্রনে আক্রান্ত। একটাই স্বস্তি যে, উচ্চ সংক্রমণের তুলনায় মৃত্যুহার কম। সেই সাথে হাসপাতালে ভর্তি বাড়লেও আইসিইউয়ের প্রয়োজন পড়ছে না। দুঃখের বিষয় হলো, আক্রান্তদের বেশিরভাগ পাননি ভ্যাকসিন।

এ পরিস্থিতিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আবারও টিকার সমবণ্টনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। সংস্থাটির দাবি, একজন ব্যক্তিও আক্রান্ত থাকলে মহামারির ঝুঁকিতে থাকবে গোটা বিশ্ব।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম বলেন, ওমিক্রন ভাইরাসকে কোনোভাবেই প্রভাব বিস্তার করতে দেয়া যাবে না। কারণ, বিশ্বের বহু মানুষ এখনও ভ্যাকসিন পাননি। আর, আফ্রিকায় ৮৫ শতাংশের বেশি অধিবাসী এখনও নিশ্চিত করতে পারেননি এক ডোজ টিকা। এই শূন্যস্থান পূরণ না করা পর্যন্ত মহামারির ইতি টানা অসম্ভব।

আফ্রিকা মহাদেশের মাত্র ১০ শতাংশ মানুষ পেয়েছেন করোনা ভ্যাকসিনের পূর্ণাঙ্গ ডোজ। এখনও তালিকার বাইরে রয়ে গেছে করোনা প্রতিরোধে সামনের সারির বহু যোদ্ধা।