Joy Jugantor | online newspaper

‘ওমিক্রন’ কী সত্যিই চিন্তার কারণ?

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৫:২৫, ২৮ নভেম্বর ২০২১

‘ওমিক্রন’ কী সত্যিই চিন্তার কারণ?

প্রতীকী ছবি।

দক্ষিণ আফ্রিকায় সম্প্রতি সার্স-কোভ-২ (করোনাভাইরাস)-এর একটি ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা একে বলছেন 'ওমিক্রন'। এটি করোনার আগের প্রজাতিগুলোর চেয়ে বেশি সংক্রামক বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে গোটা বিশ্বে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। তবে এটি কী সত্যিই উদ্বেগ বা চিন্তার কারণ?

সার্স-কোভ-২ মাইক্রোবায়োলজির (অণুবিদ্যা) অন্যতম আলোচ্য বিষয়। চরিত্রের দিক দিয়ে এটি চার প্রকার-লামডা, আলফা, বিটা ও গামা।২০২০ সালের শুরুর দিকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে করোনা।ওই সময় জিনগত পরিবর্তনের (মিউটেশন) মাধ্যমে রূপে বদল আনতে শুরু করে ভাইরাসটি।

এর মধ্যে কোনোটি উদ্বেগের (ভ্যারিয়েন্ট অব কনসার্ন) হয়ে ওঠে। কোনোটি আবার 'ভ্যারিয়েন্ট অব ইন্টারেস্ট' হয়ে যায়। এর মধ্যে গোটা বিশ্বে ত্রাস সৃষ্টি করে ডেল্টা ও ডেল্টার কিছু উপপ্রজাতি। এগুলোর দাপটে দেশে দেশে বিপর্যয় দেখা দেয়। সংক্রমণ থেকে প্রাণহানি বাড়তে থাকে। তবে দ্রুত একাধিক ভ্যাকসিন আবিষ্কার হওয়ায় তা প্রতিরোধ করা যায়। অবশ্য তাতে লাগাম টানার কাজ এখনও চলছে।

এ পরিস্থিতিতে আবির্ভূত করোনার নতুন রূপ 'ওমিক্রন'। এটি চরিত্রে বাকি প্রজাতিগুলোর চেয়ে আলাদা। এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা বলছেন, মূলত স্পাইক প্রোটিনে এর পরিবর্তন ঘটেছে। জিনের প্রোটিন মধ্যস্থ অ্যামাইনো অ্যাসিডের স্থান বদল হয়েছে ৩২বার। ফিউরিন ক্লিভেজ সাইটে মিউটেশন (রূপান্তর) হয়েছে ৩বার। অর্থাৎ রূপ না বদলালেও ‘ওমিক্রনের’ চরিত্র বদলেছে বেশ।

এ নিয়েই যত বিপত্তি। সাধারণত, করোনার জেনেটিক উপাদান, স্পাইক প্রোটিনের গঠনের ওপর ভিত্তি করে ভ্যাকসিনগুলো আবিষ্কৃত হয়েছে।এছাড়া নিষ্ক্রিয় করোনাভাইরাস ব্যবহার করে কিছু হয়েছে। ফলে এ নিয়ে সীমাবদ্ধতা আছেই।

করোনা মূলত রাইবো নিউক্লিক অ্যাসিড ভাইরাস।তাই ‘ওমিক্রনকে’ বিপজ্জনক মনে হচ্ছে। এইচআইভি ভাইরাসের ক্ষেত্রেও এমনটি দেখা যায়। দক্ষিণ আফ্রিকায় ‘ওমিক্রন’ আক্রান্ত অধিকাংশ ব্যক্তিই আগে টিকা নিয়েছিলেন। তবু এ ভাইরাসে শনাক্ত হয়েছেন তারা। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কী ভ্যাকসিন নিয়েও রুখা যাবে না এ ভ্যারিয়েন্ট? পৃথিবীজুড়ে ফের সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়বে?

অধিকন্তু এখন পর্যন্ত বিজ্ঞানী ও গবেষকরা ওমিক্রন নিয়ে কোনো সঠিক পরামর্শ দিতে পারেননি। আপাত তারা এ ভাইরাসের প্রতিটি প্রোটিন ধরে গবেষণা করছেন।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি মারাত্মক সংক্রামক নাও হতে পারে। যদিও প্রাথমিকভাবে সেটাই মনে করা হচ্ছে। কিন্তু এর মারণক্ষমতা কিংবা ছড়িয়ে পড়ার হার ডেল্টা প্লাসের চেয়ে কম। তাই বিশ্ববাসীকে আতঙ্কিত হতে নিষেধ করেছেন তারা।

তবে ওমিক্রন নিয়ে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। কারণ, এ প্রজাতির ক্ষেত্রে উপসর্গ নাও দেখা দিতে পারে। তাই করোনা প্রটোকল তথা স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মেনে চলতে বলেছে তারা।