মিনিয়াপোলিসে বিক্ষোভ দমনে ১৫০০ সেনাকে প্রস্তুত রেখেছে ট্রাম্প প্রশাসন
যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিসে চলমান অভিবাসনবিরোধী (আইসিই) বিক্ষোভ দমনে প্রায় দেড় হাজার সেনাকে মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আলাস্কায় অবস্থানরত ফোর্ট ওয়েনরাইটের ১১তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের এই সেনাদের সতর্কাবস্থায় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তাদের মোতায়েনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে রয়েছে। সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির একজন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গত ৭ জানুয়ারি আইসিই এজেন্টের গুলিতে মার্কিন নাগরিক রেনি গুড নিহত হওয়ার পর থেকে শহরটিতে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে, যা নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্প প্রশাসন সামরিক শক্তি ব্যবহারের কথা ভাবছে।
নিহত রেনি গুড পেশায় একজন আইনি পর্যবেক্ষক ছিলেন এবং ঘটনার সময় তিনি আইসিই-এর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছিলেন। তবে ট্রাম্প প্রশাসন তাকে ‘দেশীয় সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যায়িত করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে শহরজুড়ে ‘রেনি গুডের বিচার চাই’ স্লোগানে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। গত সপ্তাহে ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘ইনসারেকশন অ্যাক্ট’ বা বিদ্রোহ আইন জারির হুমকি দিয়েছেন, যা কার্যকর হলে মার্কিন ভূখণ্ডে সরাসরি সক্রিয় সেনাসদস্যদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে ব্যবহার করা সম্ভব হবে। ইতিমধ্যে মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালজ ন্যাশনাল গার্ড বাহিনীকে তলব করেছেন এবং স্থানীয় পুলিশকে সতর্ক অবস্থানে রেখেছেন।
বিক্ষোভের মুখে ফেডারেল বিচারক ক্যাথরিন মেনেন্দেজ শুক্রবার একটি গুরুত্বপূর্ণ রুল জারি করেছেন। আদালতের নির্দেশে বলা হয়েছে যে, ফেডারেল এজেন্টরা কোনো শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করতে পারবে না এবং তাদের ওপর গোলমরিচের গুঁড়ো বা পেপার স্প্রে ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। বিশেষ করে যারা আইসিই এজেন্টদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছেন, তাদের কাজে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ না করার জন্য আদালত কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। বিচারকের এই আদেশ ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের পথে একটি আইনি বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মিনিয়াপোলিসের স্থানীয় নেতারা এবং মানবাধিকার কর্মীরা রেনি গুডকে সন্ত্রাসী আখ্যা দেওয়ার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। একজন মার্কিন নাগরিকের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং এরপর প্রশাসনের আক্রমণাত্মক মন্তব্য জনরোষকে আরও উসকে দিয়েছে। বর্তমানে মিনেসোটা কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভকারীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানালেও শহরের প্রধান এলাকাগুলোতে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সেনাসদস্যদের এই সম্ভাব্য মোতায়েন মিনিয়াপোলিসের নাগরিক অধিকার ও সামরিক হস্তক্ষেপের প্রশ্নে একটি নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।
