Joy Jugantor | online newspaper

সপ্তমবারের মতো উগান্ডার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন ইয়োওয়েরি মুসেভ

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২১:৩৮, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬

সপ্তমবারের মতো উগান্ডার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন ইয়োওয়েরি মুসেভ

সপ্তমবারের মতো উগান্ডার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন ইয়োওয়েরি মুসেভ

আফ্রিকার দেশ উগান্ডার দীর্ঘকালীন নেতা ইয়োওয়েরি মুসেভেনি সপ্তমবারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দেশটির নির্বাচন কমিশন তাকে ভূমিধস জয়ের অধিকারী হিসেবে ঘোষণা করে। ৮১ বছর বয়সী এই প্রবীণ রাজনীতিক মোট ভোটের প্রায় ৭২ শতাংশ পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন, যার ফলে তার শাসনকাল এখন পঞ্চম দশকে পদার্পণ করল। তবে এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক সহিংসতা, জালিয়াতির অভিযোগ এবং ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখার মতো ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদন থেকে উগান্ডার এই নির্বাচনী ফলাফল ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিস্তারিত তথ্য জানা গেছে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মুসেভেনির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী এবং জনপ্রিয় পপসংগীতশিল্পী থেকে রাজনীতিক বনে যাওয়া ববি ওয়াইন পেয়েছেন ২৪ শতাংশ ভোট। তবে ববি ওয়াইন এই ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন এবং তার সমর্থকদের রাজপথে নামার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, সেনাবাহিনী তার বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে এবং গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি বর্তমানে আত্মগোপনে আছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ওয়াইন জানান, তার বাড়ির বিদ্যুৎ ও সিসিটিভি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে এবং তার পরিবারকে গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে। যদিও রয়টার্স স্বতন্ত্রভাবে তার এই দাবির সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।

ভোটগ্রহণ পরবর্তী সময়ে উগান্ডার বিভিন্ন স্থানে বড় ধরনের সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে। দেশটির মধ্যাঞ্চলে পুলিশের গুলিতে অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। পুলিশ এটিকে ‘দুষ্কৃতকারীদের’ বিরুদ্ধে আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে দাবি করলেও বিরোধীদলীয় নেতারা একে নিরাপত্তা বাহিনীর পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে অভিহিত করেছেন।১৯৮৬ সালে এক বিদ্রোহের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার পর মুসেভেনি সংবিধান পরিবর্তন করে নিজের পদের মেয়াদ ও বয়সসীমা তুলে দিয়েছেন, যা তার দীর্ঘ শাসনামলকে আরও পোক্ত করেছে। ২০২১ সালের নির্বাচনেও তিনি ববি ওয়াইনকে পরাজিত করেছিলেন, যদিও সেই নির্বাচনকে যুক্তরাষ্ট্র ‘অবাধ ও সুষ্ঠু নয়’ বলে মন্তব্য করেছিল।

মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে বিতর্ক থাকলেও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং সোমালিয়ার মতো সংঘাতপূর্ণ এলাকায় সেনা পাঠানোর কারণে মুসেভেনি পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে বেশ প্রশংসিত। এছাড়া উগান্ডায় বিপুল সংখ্যক শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টিও আন্তর্জাতিকভাবে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হয়। বর্তমানে মুসেভেনির উত্তরসূরি কে হবেন, তা নিয়ে দেশটিতে ব্যাপক জল্পনা চলছে। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি তার ছেলে এবং বর্তমান সেনাপ্রধান মুওজি কাইনেরুগাবাকে পরবর্তী দায়িত্বের জন্য প্রস্তুত করছেন। তবে স্কাই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মুসেভেনি এখনই ক্ষমতা ছাড়ার বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছেন এবং তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে দেশের কাজে লাগানোর প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন।