Joy Jugantor | online newspaper

বগুড়ায় ছোট্ট এক চা স্টলে মাসে দুই লাখ টাকার কেনাবেচা

মাসুম হোসেন 

প্রকাশিত: ০৩:৪৪, ১২ ডিসেম্বর ২০২২

আপডেট: ০৩:৪৭, ১২ ডিসেম্বর ২০২২

বগুড়ায় ছোট্ট এক চা স্টলে মাসে দুই লাখ টাকার কেনাবেচা

চা দোকানি লিটন প্রামাণিক।

সবারই লক্ষ্য থাকে ভালো বেতনের চাকরির। পড়াশোনা শেষে চাকরির পিছু ছুটতে হয়। এমন পরিস্থিতিতে চা বিক্রেতাকে ‘নিম্ন আয়ের’ মানুষ ভেবে অনেকেই ‘তুচ্ছ তাচ্ছিল্য’ করেন। কিন্তু প্রতিষ্ঠিত একজন চা বিক্রেতার আয় অবাক হওয়া মত! স্থান ভেদে লাখ লাখ টাকার বেচাকেনা হয় এক চা স্টলে। 

একজন চা দোকানির নাম লিটন। দেড় যুগ আগেই বাড়ি-গাড়ি কিছুই ছিল না তার। অনাহারে-অর্ধাহারে ভাড়া বাড়িতে কেটেছে তার দিন। সাহায্যের জন্য অন্যর কাছে হাত বাড়িয়েও ফিরতে হয়েছে তাকে খালি হাতে। সেই লিটন এখন থাকছেন নিজ বাড়িতে, ঘুরছেন বাইকে।  ছোট্ট এক চা স্টলই পাল্টে দিয়েছে তার জীবন। সে স্টলে প্রতিমাসে দুই লাখ টাকার বেচাকেনা করেন তিনি।

লিটন প্রামাণিকের চা স্টল বগুড়া পৌরসভার ১৩ নং নম্বর ওয়ার্ডের ফুলতলা এলাকায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের ধারে। তিনি সপরিবারে বসবাস করেন একই ওয়ার্ডের কৈগাড়ি উত্তরপাড়াতে। চা দোকানের আয় দিয়ে আট বছর আগে সেখানে কেনেন দুই শতক জমি। এর আগে, কৈগাড়ি উত্তরপাড়াতেই থাকতেন ভাড়া বাড়িতে। জমি কেনার পর শুরু করেন বাড়ি নির্মাণ কাজ। নিজের করা সেই ছাদ ঢালাই বাড়িই এখন তার স্থায়ী ঠিকানা। বাড়িটি নির্মাণ করতে  খরচ হয় তার দশ লাখ টাকা।

লিটনের দোকানে অধিকাংশ গ্রাহকই ট্রাকের চালক-সহযোগীরা। মালবাহী ট্রাকের চালকরা যাত্রাপথে তার দোকানে এসে  বিরতি দেন। সেখানে চা, সিগারেট ও বিস্কিট খেয়ে আবারো ছুটে চলে গন্তব্যে। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে তার বেচাকেনা। রাতেই তার দোকানে বিক্রি বেশি হয়।

জানতে চাইলে লিটন বলেন, ‘জীবনে অনেক কষ্ট করেছি। পৈত্রিক সূত্রে কোনো জমি পাইনি। এক সময় এমনও দিন কেটেছে যে ঘরে খাবার ছিল না। পরে অনেক কষ্টে কিছু টাকা সংগ্রহ করে চায়ের দোকান দেই। প্রথমদিকে বেশি আয় হয়নি। ধীরে ধীরে আয় বাড়তে থাকে। এখন দিনে প্রায় সাত হাজার টাকার চা, সিগারেট ও বিস্কিট বিক্রি করি। আমার বড় ছেলে সিজান প্রামাণিকও দোকানে সময় দেয়। বাবা-ছেলে একসাথে দোকান করছি। এখন আমাদের দিন ভালো কাটছে। সংসারে আর্থিক সচ্ছলতা এসেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা গরীব মানুষ, আমাদের কাছে কোনো কাজই ছোট নয়। জীবিকার তাগিদে যেকোনো কাজই করতে পারবো। চা স্টল দেওয়ার আগে গ্রিল মিস্ত্রি হিসেবেও কাজ করেছি। তবে ওই সময় মাঝে মাঝে কাজ থাকতো না। সেসময়ে ঘরে বসে থাকতে হতো। চা স্টল দেওয়ার পর জমি কিনে বাড়ি নির্মাণ করেছি। পাশাপাশি সখ থেকে একটি মোটরসাইকেলও কিনেছি।’

ফুলতলা এলাকার বাসিন্দা মানিক প্রামাণিক বলেন, ‘লিটন অনেক সংগ্রাম করে আজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। চা স্টলেই তার জীবনের চিত্র পাল্টে গেছে। সে এখন স্বাবলম্বী।’

তিনি আরও বলেন, ‘কোনো কাজই ছোট নয়। যেকোনো চাকরির মূল লক্ষ্য সৎ পথে অর্থ উপার্জন করা। পড়াশোনা করে চাকরি পেছনে না ছুটে তরুণদের উদ্যোক্তা হতে হবে। অর্থ উপাজর্নের জন্য যেকোনো কাজ করার জন্য তাদের (তরুণদের) প্রস্তুত থাকতে হবে। তাহলেই দেশে বেকারত্ব কমবে। একই সঙ্গে সৃষ্টি হবে নতুন নতুন আত্মকর্মসংস্থানের।’